ভারতের ঝাড়খণ্ডের এক কংগ্রেস মন্ত্রীর 'বিতর্কিত মন্তব্য' ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট টেনে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টির হুমকির অভিযোগ তুলেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। খবর এনডিটিভি।
ঝাড়খণ্ডের কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী ইরফান আনসারী সম্প্রতি এক জনসভায় মন্তব্য করেন, 'রাহুল গান্ধীকে ঘিরে ৪০ লাখ তরুণ প্রস্তুত রয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রশাসন যদি সচেতন না হয়, তবে ভারতের অবস্থাও বাংলাদেশ ও নেপালের চেয়েও খারাপ হবে এবং সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের সেনাবাহিনীও ব্যর্থ হবে।' তার এই মন্তব্যের পরই ভারতের জাতীয় রাজনীতি ও মূলধারার গণমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিজেপির পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি কংগ্রেসের দীর্ঘমেয়াদী নৈরাজ্যবাদী রাজনীতি ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছে।
শাসকদলের নেতারা বলছেন, বিরোধী দলগুলো ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সাংবিধানিক কাঠামো এবং বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার হীন চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, তাদের দল পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হয়নি, বরং তারা হেরেছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং বিচার বিভাগকে নিয়ে এমন মন্তব্য ভারতের রাজনৈতিক মহলে নজিরবিহীন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিজেপির মতে, বিরোধী দলগুলোর এসব বক্তব্য দেশের বিচার ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কংগ্রেস ও বিরোধীরা তরুণ সমাজকে সংগঠিত করে বর্তমান সরকারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করেছে, অন্যদিকে শাসকদল বিজেপি একে জাতীয় নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে ভারতের রাজনীতিতে যে কথার লড়াই শুরু হয়েছে, তা দেশটির আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংঘাতপূর্ণ ও উত্তপ্ত করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।