টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে ৩টি মরদেহ: উদ্ধারে যৌথ বাহিনী

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের এক দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পের পূর্ব দিকের গভীর পাহাড়ে লাশগুলোর সন্ধান পায় পুলিশ।

জানা যায়, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে পাহাড়ি এলাকায় অপরাধী চক্রের হামলায় এক সেনাসদস্য নিহতের ঘটনার পর থেকেই ওই অঞ্চলে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর বিশেষ চিরুনি অভিযান চলছে। এই অভিযানের মধ্যেই গভীর পাহাড়ে লাশ পড়ে থাকার এই তথ্য সামনে এলো।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ. এন. এম সাজেদুর রহমান বলেন, দুর্গম পাহাড়ে ৩ জনের মরদেহ পড়ে আছে বলে শুনেছি। তবে এখনো মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।  তিনি আরো বলেন, মরদেহগুলো যে স্থানে পড়ে রযেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি সেটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। যেখানে পৌছাতে ২ ঘন্টার বেশি হাটতে হয়। তাই সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় মরদেহ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে শনিবার দিনের বেলায় সেই দুর্গম পাহাড়ে যাবে যৌথ বাহিনী। এর পর বলা যাবে সেখানে মরদেহ আছে কিনা।

অভিযানের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের সক্রিয় সন্ত্রাসী ও অপহরণকারী দলগুলো বর্তমানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাড়া খেয়ে পালানোর সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার কিংবা কোনো সংঘর্ষের জেরে এই নিহতের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্প সংলগ্ন পূর্ব দিকের পাহাড়গুলো অত্যন্ত দুর্গম ও ঘন জঙ্গলবেষ্টিত। দীর্ঘদিন ধরে এসব পাহাড়কে কেন্দ্র করে কিছু অপরাধী চক্র অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিল। তবে যৌথ বাহিনীর বর্তমান শক্ত অবস্থানের কারণে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরছে।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকাটি কর্ডন (ঘেরাও) করে রেখেছে এবং নিহতের পরিচয় শনাক্তসহ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পাহাড়ে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত