কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গিখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানা নির্মূলে দ্বিতীয় দিনের মতো সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্যের একটি দল এই অভিযানে অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিম্মিদশা থেকে ৬ জন রোহিঙ্গাসহ ৫৬ জনকে উদ্ধার এবং মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের শুক্রবার রাতে টেকনাফ মডেল থানা থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান চলাকালে পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর তুমুল গোলাগুলি হয়। এতে মানবপাচারকারীদের গুলিতে তিতাস শেখ (২৭) নামে এক সেনা সদস্য নিহত হন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিজ গ্রামে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
এদিকে, গোলাগুলির ঘটনার পর পাহাড়ের বন্দিশালার কাছে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী আবদুল কাদের জানান, দুই পক্ষের গোলাগুলিতে একাধিক ব্যক্তি মারা যান। তবে মৃত ব্যক্তিরা ডাকাত দলের সদস্য নাকি অপহৃত ভুক্তভোগী, তা তিনি নিশ্চিত নন।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে এবং লাশগুলো উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। তিনি আরও জানান, টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের শিকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
টেকনাফে মানবপাচারবিরোধী অভিযানে গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্যের মৃত্যু
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি