তৃতীয় টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরি হৃদয়ের, তবুও ধুঁকছে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই বছরে তিনেক আগে অভিষেক হলেও টেস্টে তাওহীদ হৃদয়ের অভিষেকটা হয়েছিল এ বছরই, জিম্বাবুয়ে সফরে। একমাত্র টেস্টের সেই সিরিজের দুই ইনিংস মিলিয়ে কেবল ১২ রান করেছিলেন তিনি। এতে অনেকেই ধারণা করেছিল লাল বলের ফরম্যাট হয়তো খুব একটা সুবিধে করতে পারবেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এতেই অস্ট্রেলিয়া সফরে জায়গা মিলেছিল না দলে। 

তবে মাস দুয়েক আগেই দক্ষিণ আফ্রিকায় এ দলের হয়ে ফাস্ট ক্লাস ক্রিকেটে অপরাজিত ৩৫০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন হৃদয়। সেই সুবাদেই জায়গা মিলল চলমান উইন্ডিজ সিরিজেই। সেখানে মিরপুর টেস্টে নিজেকে সেভাবে প্রমাণ করতে পারেননি এই ডানহাতি। উল্টো বাজে শটে আউট হয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সেই সব কিছুকে পেছনে ফেলে সিলেটে দলের বড় বিপর্যয়ে হাল ধরে সিলেটে আজ টেস্টের তৃতীয় দিনে নিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার। 

১৭১ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কার মারে সেঞ্চুরি তোলেন হৃদয়। এতে উইকেটের এক প্রান্ত তিনি আগলে রাখলে অন্য প্রান্তে দিনের সকাল থেকে ছিল উইকেটের মিছিল। স্বাগতিকদের ধুঁকতে থাকা তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬৯ ওভারে ৭ উইকেটে ২০৫ রান। এখনো ১৫১ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। 

হৃদয়কে সঙ্গ দিয়ে ২২ গজে এই মুহূর্তে টিকে আছেন তাইজুল ইসলাম। এদিকে গতকাল সাদমান চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর খবর আসে এই ইনিংসে ব্যাট করতে পারবেন না তিনি, এতে এরপর হাতে উইকেট আছে কেবল একটিই। 

এদিকে দিনের শুরুটা বেশ দেখেশুনে এগোলেও ইনিংসের ৪৮তম ওভারে এসে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে শর্ট কভারে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রানে ফেরেন মুশফিক, এতে ভাঙে ৭৩ রানের কার্যকরী জুটি এবং দীর্ঘায়িত হয় তাঁর ৭ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষা; ঠিক তার কিছুক্ষণ পরই ওয়ারিক্যানের ফুল লেংথ ডেলিভারিতে প্রায় একইভাবে কাভারে কিংয়ের তালুবন্দি হয়ে মাত্র ৮ রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাসও।

পরবর্তীতে মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন হৃদয়। তবে ৩০ বলে ১৬ রান করে রস্টন চেজের বলে স্লিপে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিরাজ। এরপর হাসান মাহমুদও ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। একে একে সতীর্থরা আসা-যাওয়ার মিছিলে থাকলেও অন্যপ্রান্তে নিজের দায়িত্ব অসাধারণভাবে পালন করে যান হৃদয়। ১০৯ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটি পূর্ণ করার পর তিনি এটিকে রূপ দেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে।

পরে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দলের স্কোর দুইশ পার করেন হৃদয়। সেশন শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ১৭১ বলে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। হৃদয়ের সেঞ্চুরির পরই তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের খেলা শেষ হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত