দুমকিতে অবরুদ্ধ সাংবাদিক পরিবার, যা জানা গেল

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় হালট দখল করে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার সিকদার এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয় এক সাংবাদিকের পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

উপজেলার ২ নম্বর লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারগাছিয়া গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার দুমকি উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. কামাল সিকদারের অভিযোগ, তাদের বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ করে সরকারি রেকর্ডে হালট হিসেবে চিহ্নিত জমিতে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের সরকারি হালটের জমি কবরস্থানের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। একই এলাকায় সরকারি বরাদ্দে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের আশঙ্কা, এভাবে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।

সাংবাদিক কামাল সিকদার ও তার পরিবারের অভিযোগ, আবদুল জব্বার সিকদার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা হওয়ায় তার প্রভাবের কারণে তারা প্রতিকার চাইতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। সরকারি রেকর্ডে জমিটি হালট হিসেবে চিহ্নিত থাকলে তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে জমির সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং তাদের চলাচলের পথ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আবদুল জব্বার সিকদার জমিটির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন। তার দাবি, জায়গাটি সরকারি হালট হলেও তা তাদের বাপ-দাদার আমলের পারিবারিক কবরস্থান। কবরস্থানের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, জায়গাটি সরকারি হালট কিংবা খাসজমি হয়ে থাকলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এখানে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের বাধা দেওয়ার অধিকার নাই।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জমিটির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের মাধ্যমে আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের সরকারি রেকর্ড, নকশা ও সরেজমিন সীমানা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে দুমকির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু মূছা বলেন, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও লেবুখালী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি পরিদর্শককে (তহসিলদার) সরেজমিন পরিদর্শন করে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাস বা হালটের জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে  বলে জানান তিনি।

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত