জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেতনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বাহিনীর সদর দপ্তরসহ সারা দেশে সব ইউনিটে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপিত হয়। সদর দপ্তরে আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ, বিশেষ দরবার এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দরবার অনুষ্ঠানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে বক্তব্য দেন এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন, সদস্যকল্যাণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
মহাপরিচালক বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে সূচিত গণতান্ত্রিক উত্তরণ আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রায় সার্বক্ষণিক পথপ্রদর্শক। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান মানুষের ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারের আকাঙ্ক্ষাকে নবজীবন দিয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’ বা গণপ্রতিরক্ষা দর্শনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) আজ দেশের প্রায় ৬০ লাখ সদস্য নিয়ে বিস্তৃত। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নগরজীবন পর্যন্ত বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবিক সহায়তায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন।
সদস্যকল্যাণ ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে মহাপরিচালক জানান, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে বাহিনী পেশাগতভাবে ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। সদস্যদের উদ্যোক্তা তৈরি ও আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাকালীন বিকাশ ও অগ্রযাত্রায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী তত্ত্বাবধানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রত্যয়কে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধারণ করে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব সদস্যকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তিনি আনসার-ভিডিপি সদস্যদের জীবন ও কর্মপরিকল্পনাকে ‘কমপ্লিট প্যাকেজ অব লাইফ’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদসহ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্য-সদস্যা উপস্থিত ছিলেন। পরে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ এবং বাহিনীর অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।