পঞ্চাশ বছর আগের এক এপ্রিলে

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ১০:১৫ পিএম

আসলে পাকিস্তানের কলকাতা ডেপুটি হাইকমিশন বেদখল হয়ে গেছে ১৮ এপ্রিল। ঠিক আগের দিন মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে। শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ষাট শতাংশই বাঙালি। অনস্বীকার্য, যদি ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার দখলকারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল না হতো, তা হলে এই দখল অব্যাহত রাখা সম্ভব হতো না। বাঙালি ডেপুটি হাইকমিশনার হোসেন আলীর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার কারণে পাকিস্তানের দিল্লি দূতাবাস থেকে কূটনীতিবিদ মেহেদি মাসুদকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। বাস্তবতা হচ্ছে তখন তার কোনো অফিস নেই, হোটেলে একটি প্রতিকূল অবস্থায় তাকে অবস্থান করতে হচ্ছে। পাকিস্তান সরকার ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় অস্থায়ী হাইকমিশনারের কাছে এবং নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানি হাইকমিশনার পররাষ্ট্র দপ্তরে নোট হস্তান্তর করে ২৪ এপ্রিল জানিয়ে দিয়েছে, সোমবার ২৬ এপ্রিল থেকে কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশন বন্ধ হয়ে যাবে। ভারতকেও একইদিন একইভাবে তাদের ঢাকার ডেপুটি হাইকমিশন অফিস বন্ধ করে দিতে হবে। উভয় অফিসের কর্মকর্তারা ও তাদের পরিবার নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন।

ভারত জানায়, তারা ডেপুটি হাইকমিশনার মেহেদি মাসুদকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করেছেন এবং নতুন একটি অফিস খুঁজে দেওয়ার ব্যাপারেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাজ করছে। এ অবস্থায় ডেপুটি হাইকমিশন বন্ধ করে দেওয়া অনাকাক্সিক্ষত এবং দুঃখজনক। বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অত্যাচারের কারণে বাঙালিদের নবনিযুক্ত ডেপুটি হাইকমিশনারের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়ারই কথা। অন্যদিকে, কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশন অফিসের দখল বাংলাদেশিরা নিয়ে নিয়েছে এবং এটাকেই তাদের দূতাবাস ঘোষণা করেছে।

পাকিস্তানের প্রস্তাব অনুযায়ী ভারত সম্মতি দিয়েছে যে, (১) পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস করাচিতে কর্মরত ভারতীয় কর্মী ও তাদের পরিবার ঢাকা এনে দেবে। (২) কলকাতায় কর্মরত পাকিস্তানি কর্মী ও তাদের পরিবার আন্তর্জাতিক কোনো বিমান পরিবহনে করাচি পৌঁছার ব্যবস্থা ভারত করে দেবে। (৩) ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় কূটনীতিক ও তাদের পরিবার করাচি থেকে দিল্লি যাবে। পাকিস্তানের ভাষায় যেহেতু পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা স্বাভাবিক, সেহেতু ঢাকায় কর্মরত ভারতীয় কর্মী ও তাদের পরিবার নিজ ব্যবস্থাপনায় চলে যেতে পারবে। পাকিস্তান তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সব সম্পত্তি ফেরত চেয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে এগুলোর হস্তান্তর ও বিনিময় হবে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন ২৫ এপ্রিল আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু ঘটনা আরও অনেকদূর গড়ায়।

২৮ এপ্রিল ১৯৭১ ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘স্টেটসম্যান’ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে তা অনূদিত হলো :

ঢাকায় ভারতীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আটকে দিয়েছে

নয়াদিল্লি, ২৭ এপ্রিল পাকিস্তানের সর্বশেষ উদ্যোগ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটিয়েছে। ইসলামাবাদের সামরিক জান্তা ঢাকায় ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশন বন্ধ করে দেওয়ার পর হেড অব মিশন কে সি সেনগুপ্তসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কার্যত অবরোধ করে রেখেছেন। এই সংবাদ দিয়েছে ইউনাইটেড নিউজ ইন্ডিয়া এবং প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং পাকিস্তান ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ কে রায় এ বিষয়ে একটি শক্ত প্রতিবাদী নোট ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের হাই কমিশনার সাজ্জাদ হায়দারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

আজ রাতের বৈঠকে এ কে রায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দ্রুত তুলে আনার জন্য সহজে বাস্তবায়নযোগ্য কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি হায়দারকে বলেছেন যত দ্রুত সম্ভব এ ব্যাপারে পাকিস্তান সরকারের সাড়া ভারত জানতে যাচ্ছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের কাছ থেকে জবাব পাওয়া যাবে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন ভারতীয় দূতাবাস কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর আরোপিত অবরুদ্ধ দশা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে কলকাতায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। নয়াদিল্লি ভারতে কর্মরত পাকিস্তানি কূটনীতিবিদদের অনুমতি ছাড়া ভারত ত্যাগ না করার যে নির্দেশনা দিয়েছে সম্ভবত তারই প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান তাদের অবরোধ করেছে। ভারতীয় দূতাবাসের মিসেস সেনগুপ্ত এবং একজন কূটনৈতিক বার্তাবাহককে করাচি থেকে নয়াদিল্লি যেতে না দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় একটি পদক্ষেপ ভারতকে নিতে হয়েছিল। ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে বলেছেন, ঢাকা দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার পর নির্ধারিত সময় না পেরোতেই এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা দুঃখজনক। ইসলামাবাদে পাকিস্তানি পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানান মিসেস সেনগুপ্তের সঙ্গে অসদাচরণের বিষয়টি ডাহা মিথ্যে। রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে ২১ এপ্রিল ভুলভাবে নিজেকে পরিচিত করানোর কারণে ২১ এপ্রিল তিনি করাচি থেকে নয়াদিল্লি যেতে পারেননি। মুখপাত্র বলেন, আধঘণ্টার মধ্যেই ভ্রান্তিসমূহ সংশোধন করা হয়।

কলকাতায় পাকিস্তানি ডেপুটি হাইকমিশন বাংলাদেশের কূটনীতিবিদদের দখলে চলে যাওয়া পাকিস্তানের জন্য একটি অবিশ্বাস্য পরাজয়। পাকিস্তান দিল্লিতে নিযুক্ত তাদের হাইকমিশনারের বরাত দিয়ে জানায় : কলকাতার ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জনাব মেহেদি মাসুদকে কলকাতার পাকিস্তানি ডেপুটি হাইকমিশনের ভবন, সম্পত্তি ও দলিলপত্রের দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনার মি. আচার্য ও নয়াদিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের জয়েন্ট সেক্রেটারি মি. রায় আমাদের আশ^াস দিয়েছিলেন যে, ভারত সরকার তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং জনাব মেহেদি মাসুদকে সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে। পাকিস্তান সরকার দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, ঐ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। পক্ষান্তরে জনাব মাসুদকে কলকাতায় হয়রানি করা হয়েছে এবং দৈহিক মারপিটের হুমকি দেওয়া হয়েছে। কলকাতায় তাকে বাসস্থানও দেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় কলকাতায় পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারের পক্ষে তার কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। উপরোক্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষে ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল দুপুর ১২টা থেকে কলকাতার পাকিস্তানি মিশন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারতকে না জানানো ছাড়া গত্যন্তর নেই।

কলকাতা থেকে রয়টার্স পরিবেশিত পূর্ববর্তী খবরে বলা হয়, কলকাতায় নিযুক্ত নয়া পাকিস্তানি ডেপুটি হাইকমিশনার যে হোটেলে অবস্থান করছেন, পশ্চিম বাংলার জনতা সেই হোটেলটিতে হামলা চালায়। নয়া ডেপুটি হাইকমিশনার তার দায়িত্বভার গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের কর্মী ও ছাত্রদের কলকাতার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হিন্দুস্তান ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের লবি তছনছ ও হোটেল রক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর নয়া ডেপুটি হাইকমিশনার জনাব মেহেদি মাসুদকে হোটেল থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। (দৈনিক পাকিস্তান)

দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদন ২৮ এপ্রিল ১৯৭১

যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালি কূটনীতিক বদল

জাতিসংঘ সদর দপ্তর, ২৭ এপ্রিল : পাকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে থাকা বাঙালি কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিচ্ছে। পিটিআই রিপোর্ট।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্কে পাকিস্তানের কনসাল জেনারেল এম এন আই চৌধুরী, ওয়াশিংটনে রাজনীতিবিষয়ক মিনিস্টার এনায়েত করিম এবং তার সহকারীকে হয় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথবা তাদের দায়িত্বে অন্য কোনো পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে বসানো হয়েছে। বাঙালি ভাইস কনসাল এ এইচ মাহমুদ আলী ইসলামাবাদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছেন। তিনি নিজের ও স্ত্রীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। ওয়াশিংটনে পাকিস্তানি দূতাবাস দাবি করছে, মাহমুদ আলীকে ঘানায় বদলি করা হয়েছে এবং সে উদ্দেশে তিনি আগাম ভ্রমণভাতাও তুলেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এর অর্থ তাকে বিপদাপন্ন করা হবে না। তবে মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, তাকে প্রথমে আক্রায় যোগদান করার আদেশ দেওয়া হলেও ২১ এপ্রিল সে আদেশ বাতিল করে অবিলম্বে ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলী সাংবাদিকদের সে আদেশ দেখিয়েছেনও। নেতৃস্থানীয় বাঙালি কূটনীতিবিদদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি পাকিস্তান দূতাবাস নিশ্চিত না করলেও জানা গেছে, নিউ ইয়র্কে কনসাল জেনারেলের দায়িত্ব হায়াত মেহেদি নামের একজন পশ্চিম পাকিস্তানি কূটনীতিককে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনে রাজনীতিবিষয়ক মিনিস্টার এনায়েত করিমের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে অটোয়ায় পাকিস্তান দূতাবাসের কাউন্সিলর জাকিকে। মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, মাহমুদ আলীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হোক বা না হোক, তাকে সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে দেওয়া হবে।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি ঘটছে প্রতি ঘণ্টায়

দ্য লিবিয়ান টাইমস, প্রতিবেদন ৪ মে ১৯৭১

মস্কো (এপি-ইউপিআই) : পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের বিশেষ দূত এম আরশাদ হুসেইন গতকাল সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি কোসিগিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, মস্কোতে কর্মরত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পাঁচ দিন আগে আরশাদ হুসেইন মস্কোতে পৌঁছেছেন। পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যা এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতি নিয়ে সোভিয়েত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইয়াহিয়া খানের দূত হিসেবে তার এ সফর। তাসখন্দ আলোচনায় (১৯৬৫) মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কোসিগিন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সর্বশেষ প্রধান দ্বন্দ্বের অবসান ঘটান। শুক্রবার রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পূর্ব পাকিস্তানের গণযুদ্ধ সম্পর্কে সোভিয়েত নেতার দ্বিতীয় চিঠিটি ইয়াহিয়া খানের হাতে পৌঁছেছে।

উপমহাদেশের প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ঘণ্টায় ঘণ্টায় সম্পর্কের অবনতি ঘটছে এবং দুই সরকার একের পর এক প্রতিবাদলিপি পাঠিয়ে চলেছে। পাকিস্তানের অনুরোধে একটি দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দুটি কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার কলকাতায় স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করতে পারছিলেন না বলে ভারতকে জানানো হয়। কার্যত কলকাতায় পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ১৮ এপ্রিল থেকেই বন্ধ। তখন পূর্ব পাকিস্তানি বিদ্রোহী কূটনীতিবিদরা কলকাতা অফিসকে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম বৈদেশিক মিশন হিসেবে ঘোষণা দেন।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে পাকিস্তান সরকার কলকাতায় সে দেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানায়। প্রকৃতপক্ষে সেখানে কর্মরত ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জনই পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্রোহী কূটনীতিক। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, কলকাতায় পাকিস্তানি মিশনে কর্মরত সবাইকে ফেরত পাঠানোর যুক্তি ভারত অবশ্যই মেনে নেবে না। তিনি বলেন, যারা যেতে চায় যাবে, কিন্তু ভারত ছাড়ার জন্য অন্যদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হবে না।

মুখপাত্র বলেন, একইভাবে ভারত সরকারও ঢাকা থেকে ভারতীয় কূটনীতিক ও তাদের কর্মচারীদের মধ্যে যারা ভারতে আসতে চান, কেবল তাদের ফেরত পাঠানোর ওপরই জোর দিচ্ছে। এ মিশনের দলিল-দস্তাবেজ কেমন করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে, তা-ও দুই দেশকেই ঠিক করতে হবে। পাকিস্তান জোর দিয়ে বলেছে, পারস্পরিকতার নীতি (প্রিন্সিপাল অব রেসিপ্রসিটি) কঠোরভাবে মানতে হবে। কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের সর্বশেষ খবর হচ্ছে, পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় ভারতীয় মিশনের এবং কলকাতায় পাকিস্তানি মিশনের পদগুলোর আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তির ঘোষিত চূড়ান্ত সময় পার হয়ে গেছে।

স্মর্তব্য, বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই দিল্লিতে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত দুজন বাঙালি কূটনীতিবিদ শেহাবউদ্দিন আহমেদ ও আমজাদুল হক পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন।

লেখক কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত