পুঁজিবাদের চরম কালে পরম অত্যাচার

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ১০:১৬ পিএম

বিশ্বব্যাপী এই যে ধ্বংসলীলা চলছে এ নিশ্চয়ই থামবে, কিন্তু কোথায় গিয়ে থামবে, এবং কী ভাবে, সে প্রশ্ন এখন সর্বত্র। স্বভাবতই। এরই মধ্যে খেলাও চলছে নানা রকমের। যেমন, নির্বাচনের খেলা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনকে একটা খেলা বলেছিলেন, অনুসারীরা তার সে-কথার প্রতিধ্বনি তুলেছেন, গানও বেঁধেছেন; কিন্তু ওই যে নিয়ম আছে কারও জন্য যা খেলা অনেকের জন্য তা মরণ, সেটা যাবে কোথায়? সেটা ঠিকই ঘটেছে। করোনাকালে, পাঁচ পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন দিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে, তার জন্য কমিশনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা যায় বলে রায় দিয়েছে চেন্নাইয়ের হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন বটে, কিন্তু তার চেয়েও স্বাধীন হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দুর্ধর্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদের নেতৃত্বে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, তবে বিদেশি কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে নয়, নিজের দেশের মানুষদের বিরুদ্ধেই, ঠিক যেভাবে দেশের সামরিক বাহিনী যুদ্ধ ঘোষণা করে থাকে, যখন তারা সামরিক শাসন জারি করে। সামরিক বাহিনীর ওই যুদ্ধ কখনো কখনো তাও রক্তপাতহীন হয়; বিজেপি’র যুদ্ধ কিন্তু তেমন নয়, এই যুদ্ধ মানুষের মাথা খায়বাইরের এবং ভেতরের; এদের অনুসারীরা মানুষ হত্যা করে, এবং মানুষের মস্তিষ্ক দখল করে সেখানে স্থায়ী বিকার ঘটায়। মোদির লক্ষ্য ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র বানাবেন, তবে হিন্দুত্বের আধ্যাত্মিক স্বার্থে নয়, নিজেদের বস্তুগত স্বার্থেই। সে জন্যই তাদের যুদ্ধতৎপরতা। এর ফলে করোনার প্রকোপ বাড়বে কী কমবে সে নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

মোদিদের বিশেষ লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ। ওই রাজ্যে এ যাবৎকাল সাম্প্রদায়িকতা তেমন একটা পাত্তা পায়নি। পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা আছে। বামপন্থিরা সেখানে একটানা চৌত্রিশ বছর রাজত্ব করেছে। এবং সে সময়ে আর যাই ঘটুক হিন্দু জাতীয়তাবাদ তৎপর হতে পারেনি। ব্যতিক্রমী ওই রাজ্যটা তাই জয় করা চাই; জয় করতে পারলে হিন্দু জাতীয়তাবাদের রথের পক্ষে সর্বত্রগামী হওয়ার পথটা আরও পরিষ্কার হবে। হাসি-হাসিমুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে খেলা বলেছিলেন সেটা তার জন্য আসলে একটা যুদ্ধই ছিল। তাই বলে তিনি যে হিন্দু জাতীয়তাবাদের শত্রুপক্ষ এমন কিন্তু নয়। আমরা কী করে ভুলি যে তার হাত ধরেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের প্রবেশের সুড়ঙ্গ খুঁড়তে পেরেছিল। দুশমন বামদের হটাবার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র সঙ্গে যে নির্বাচনী আঁতাত গড়েছিল তাতে বাম জোট তখনকার মতো হার মানেনি সত্য, কিন্তু মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ওই প্রথম প্রবেশ করার সুযোগ পেয়ে যায়। তারপর বহুবিধ প্রলোভন দেখিয়ে এবং হিন্দুত্ববাদের মাহাত্ম্য অনবরত প্রচার করে বিজেপি অগ্রসর হতে থাকে। শুরু করে রাজ্য বিধানসভায় মাত্র একটি আসন জিতে; পরের বার পেয়েছে তিনটি, এবার পেল গুণে গুণে সাতাত্তরটি। এই বিজয় অভিযানে গেরুয়াধারীদের পোশাকে মানুষের রক্তের বিস্তর ছাপ পড়েছে; আশা করেছিল দু’শ আসন পাবে, সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য এমন কোনো কাজ নেই যা তারা বাকি রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তার দপ্তরের কাজের এবং করোনাভাইরাসের মহাপ্রলয় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ভুলে পশ্চিমবঙ্গে কমপক্ষে ১৬ বার সফর করেছেন, তার অতিদুর্ধর্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হানা দিয়েছেন ৬২ বার, অন্য মন্ত্রী ও নেতারাও কিছু কম করেননি। আর যেটা অভিনব ঘটনা, কখনো ঘটেনি, সেটা হলো ভোট ধরবার মানসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিন্ন রাষ্ট্র বাংলাদেশে পর্যন্ত হানা দিয়েছেন, বাংলাদেশের মতুয়া সম্প্রদায়ের মন্দিরে গিয়ে হাজির হয়েছেন।

টাকা ঢালা হয়েছে অঢেল। নগদ প্রাপ্তির লোভ দেখিয়ে তৃণমূলের কর্মীদের তো বটেই, ওই দলের বড় বড় চাঁইদেরও পক্ষপুটে টেনে নিয়েছে বিজেপি, অন্য রাজ্য থেকে লোক এনেছে, পরামর্শক এনেছে ভাড়া করে। গণমাধ্যম তো অনেক ভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে, এবং অধিকাংশই পুঁজিওয়ালাদের মালিকানাধীন, যারা স্বভাবগত কারণেই বিজেপি সরকারের অনুগত। গণমাধ্যমে বিজেপি’র পক্ষে এবং তৃণমূলের বিপক্ষে তুমুল প্রচারণা চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দিক থেকে সমুদয় কলকব্জা যন্ত্রপাতি ব্যবহারে কোনো প্রকার গাফিলতি ছিল না। তবে এত করেও শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি, দু’শ দূরের কথা একশ আসনও পায়নি। সেটা একটা আপাত-স্বস্তির ব্যাপার বটে। তবে যা পেয়েছে তা তো সামান্য নয়। বলতে গেলে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও নাটকীয়ই বটে। আনন্দবাজার পত্রিকা খবর দিচ্ছে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাপ্ত ২ কোটি ৮৭ লাখ ভোটের বিপরীতে বিজেপি পেয়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ ভোট। অনেকটা আমেরিকার নির্বাচনে জো বাইডেনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভোটের ফারাকের মতো। আরও যা শঙ্কাপ্রদ তা হলো ৯২টি কেন্দ্রে বিজেপি হেরেছে গড়ে মাত্র এক হাজার ভোটে।

আর অত্যাশ্চর্য ঘটনা হলো পশ্চিমবঙ্গে অতদিন ধরে যারা শাসন করল, সেই বামফ্রন্ট এবারের নির্বাচনে একটি আসনও পায়নি। কংগ্রেসের সঙ্গে তারা জোট বেঁধেছিল, তবুও সুবিধা হয়নি। এর প্রধান কারণ তাদের জনবিচ্ছিন্নতা। তারা শাসন করেছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলতে সমর্থ হয়নি। নিজেদের প্রতিষ্ঠা দেখে ভেবেছে যে ভোটের মধ্য দিয়েই সমাজতন্ত্র কায়েম করে ফেলবে; বিশ্বে কোথাও যা ঘটেনি তারই দৃষ্টান্ত তারা পশ্চিমবঙ্গে স্থাপন করবে। বাংলা আজ যা ভাবে, ভারতবর্ষ তা ভাবে পরের দিন; এ কথা তো চালু আছেই! বামফ্রন্টে সিপিএম-ই ছিল প্রধান, স্বঘোষিত রূপেই তারা কমিউনিস্ট, কিন্তু কমিউনিস্টদের যেটা প্রধান গুণ সমাজ বিপ্লবে বিশ্বাসসেটাকে বিকশিত না করে নিজেদের তারা সংসদীয় দল হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। বিপ্লবের স্বপ্নের পরিবর্তে সুযোগসুবিধা বিতরণ করে তারা মহোৎসাহে ক্যাডার ও মস্তান তৈরি করতে থাকলেন। মস্তানদের দৌরাত্ম্য যত বাড়ল, পার্টি ততই জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকল। এক সময়ে যখন তারা টের পেলেন যে পায়ের তলায় মাটি নেই, জনগণ বিপক্ষে চলে গেছে, এবং তৃণমূলের মমতাদিদির বাম হটাও আওয়াজে তারা সাড়া দিচ্ছে, সিপিএম তখন তৃণমূলকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করাটাই নির্বাচনে জেতার প্রধান উপায় ঠাওরালো। কিন্তু সুবিধা করতে পারল না। গড়িয়ে পড়ে গেল।

মমতাদিদি অবশ্য পশ্চিমবঙ্গ দখলের ব্যাপারে বিজেপি’কে প্রথম চোটে তেমন একটা সুবিধা করে দিতে পারেননি, তবু হাত ধরে যে রাজ্যে নিয়ে এসেছিলেন তার প্রসাদ হিসেবে কেন্দ্রীয় মোদি সরকারের অধীনে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। মন্ত্রী হয়ে তিনি কোনো ত্রুটি করেননি। দলের কর্মীদের মধ্যে চাকরি, ঠিকাদারি, দান-খয়রাত ইত্যাদি যত রকমের সুবিধা সম্ভব উদার হস্তে বিতরণ করেছেন। তাতে তার জনপ্রিয়তা বাড়ল, সিপিএমের ক্যাডাররা পর্যন্ত ভবিষ্যৎ রয়েছে তৃণমূলেই, এটা টের পেয়ে সেদিকেই রওনা দিল। সুবিধাপ্রাপ্তির আশাতে শিল্পী-সাহিত্যিকদের অনেককেই দেখা গেল ‘খাঁটি বাঙালি মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ঝুঁকেছেন। বামফ্রন্টের শাসনের অবসান ঘটল, এবং মমতা মুখ্যমন্ত্রী হলেন। বামরা মাঠে নেই, এই অবস্থায় বিজেপি সুবিধা পেয়ে গেল। তারা সবেগে এগুতে থাকল। ধর্মের ডাকে সাড়াও পাওয়া গেল।

মমতা এবার জিতেছেন। এমন জয় বামফ্রন্টও কখনো পায়নি। কিন্তু এর কারণ কি তার জনপ্রিয়তা? মোটেই নয়। তার ও তার দলের মস্তানদের পক্ষে জনপ্রিয় হওয়ার কোনো কারণই নেই। দুর্নীতি, অত্যাচার, দুঃশাসন, সবদিক দিয়েই তৃণমূল সরকার আগের সরকারগুলোকে হারিয়ে দিয়েছে। জিতেছেন তিনি স্রেফ বিজেপি’র কারণে। যে বিজেপি’কে তিনি ডেকে এনেছিলেন, যারা তাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করেছিল, তারাই এবার তাকে অভূতপূর্ব এই বিজয়টি এনে দিল। বিজেপি’র হিন্দু জাতীয়তাবাদের আওয়াজে পশ্চিমবঙ্গের মুলসমানরা রীতিমতো ভড়কে গেছে; রাক্ষসকে ঠেকাবার জন্য তারা মমতাকে জয়ী করবে বলে ঠিক করেছে। রাক্ষসের ভয়ে দৈত্যের শরণাপন্ন হওয়া। রাক্ষস তো একদম গিলে খাবে, দৈত্য অত দূর যাবে না। ওই একই শঙ্কায় বামপন্থিদের ভোটও গিয়ে পড়েছে তাদের জাতশত্রু তৃণমূলের বাক্সে। বাম’রা কোনো আসন তো পায়ইনি, তাদের অধিকাংশ প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে গেছে; কিন্তু এটা তো সত্য যে তারা সমর্থন না দিলে মমতার এই অপ্রত্যাশিত বিজয় ঘটত না। অপ্রত্যাশিত বৈকি, তৃণমূল নিজেও এতটা আশা করেনি।

বিজেপি হারল, কিন্তু কতটা? হারটা আসন-প্রাপ্তির দিক থেকে যত বড় ভোটপ্রাপ্তির দিক থেকে ততটা নয়। তাছাড়া এই পরাজয়ে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের আসন কি নড়বড়ে হলো? না মোটেই নয়। বরং দেখা যাচ্ছে যে নির্বাচনের ফলে কেন্দ্রীয় আইনসভার উচ্চকক্ষে তাদের শক্তি বৃদ্ধিই পেয়েছে। বিশ্লেষকরা দেখাচ্ছেন যে, বিজেপি’র সদস্য সংখ্যা আগে ছিল ১১৮, বিল পাস করাতে সমর্থন দরকার হতো ১২৩ জনের। নতুন নির্বাচনে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও পন্ডিচেরীতে বিজেপি’র আসন বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রীয়সভায় তাদের মনোনীত সদস্য সংখ্যা এখন দাঁড়াবে ১২৫। ফলে ইচ্ছামতো যে কোনো বিলকে আইনে পরিণত করার ব্যাপারে বিজেপি’র জন্য আর কোনো বাধা রইল না। সন্দেহ নেই যে বিজেপি আরও এগুবে। বিজেপি-সমর্থক দু’জন আইনজীবী ইতিমধ্যেই সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দ দু’টিকে মুছে ফেলার আবদার জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল রুজু করেছেন; কে জানে, রায় হয়তো তাদের পক্ষেই যাবে, যেমন গেছে রামমন্দির নিয়ে মামলার ক্ষেত্রে। ওদিকে চীনের সঙ্গে সীমান্তে ভারতের যে সংঘর্ষের আশঙ্কা তাতে মোদি সরকারের কোনো বিপদ নেই, বরং সুবিধাই হওয়ার কথা। সংঘর্ষ যদি যুদ্ধের রূপ নেয় তাহলে মারা পড়বে যারা তারা বড় সেনা-অফিসার নয়, তারা সাধারণ সৈনিক। রাজনীতিকদের গায়েও চীনাদের নিক্ষিপ্ত বোমা এসে যে আঘাত করবে এমন শঙ্কা নেই, ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ। কিন্তু যুদ্ধে সবসময়েই যাদের সুবিধা হয় সেই ব্যবসায়ী ও কালোবাজারিদের কপাল খুলবে, এবং তারা বিজেপি সরকারের প্রতি আরও অধিক পরিমাণে আকৃষ্ট হবে। সেই ফাঁকে ‘দেশ বিপন্ন’, এই আওয়াজ তুলে নিজেদের কর্তৃত্ববাদী শাসনকে আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া, বিরোধীদের বিশেষ করে কমিউনিস্টদের গলা চেপে ধরা, সর্বোপরি হিন্দু জাতীয়তাবাদকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার কাজে সহায়তা পেয়ে যাবে। তা সীমান্তে যুদ্ধ লাগুক বা নাই লাগুক, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভাতে বিজেপি তো হবে একমাত্র বিরোধী দল। তারা তৃণমূলের সমালোচনা করে, তৃণমূলের অনিবার্য দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বর্ধিষ্ণু জনবিক্ষোভের মুখপাত্র হয়ে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সুযোগ পাবে। আরও জোরে আওয়াজ দেবে ‘জয় শ্রীরাম ভরসা’র।

আগামীতে এ ধরনের অনেক কিছুই ঘটতে পারে; কিন্তু স্বৈরাচার যতই এগুতে থাকবে ততই আশা করা যাবে যে তার পতন ঘনিয়ে আসছে। হিটলারের বেলাতে যেমনটা ঘটেছিল। তার মানে অবশ্য এটা নয় যে পুঁজিবাদের নানান কিসিমের ফ্যাসিবাদী তৎপরতা দুনিয়া থেকে অচিরেই বিদায় নেবে। না, নেবে না। তাকে বিদায় করার জন্য দরকার হবে সামাজিক বিপ্লবের। কোনো এক দেশে নয়, অধিকাংশ দেশে, এবং শেষ পর্যন্ত সব দেশেই। হায়, গণতন্ত্র তো দেখছি বিদায় নিচ্ছে বলে যে আর্তধ্বনি শোনা যাচ্ছে, তার অন্তর্নিহিত মর্মবাণীটি হচ্ছে এই যে, শুধু গণতন্ত্র নয়, মানুষের অস্তিত্বই আজ হুমকির মুখে, এবং তার জন্য অন্য কেউ দায়ী নয়, দায়ী হচ্ছে পুঁজিবাদের চরম কালে পরম অত্যাচার।

লেখক ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত