শতবর্ষ আগের ঢাকার স্কুল-কলেজ

আপডেট : ২২ মে ২০২২, ১০:৪৪ পিএম

আসলে ১১০ বছর। ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার আগে নেটিভ শাসনের যুগে ঢাকা জেলার জনশিক্ষার বিষয়টির প্রতি মনোযোগ দেওয়া হয়নি। এটা এখন মনে হলেও (প্রতিবেদনটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত) তা পুরোপুরি উপেক্ষিত ছিল না। মোগল সরকার ঢাকায় একজন অধ্যাপককে মাসে ৬০ টাকা বেতন দিত, তিনি আরবি ভাষা, যুক্তিবিদ্যা, অধিবিদ্যা এবং আইন পড়াতেন। কিন্তু ১৭৫১ সালে তার মৃত্যু হলে এই শূন্যপদে আর কাউকে নিয়োগ করা হয়নি।  হিন্দুদের জন্য বহুসংখ্যক সংস্কৃত স্কুল ছিল। ১৮৩৮ সালে এ ধরনের স্কুলের সংখ্যা ১২৫টির কম ছিল না। অবশ্য যা পড়ানো হতো তার সঙ্গে ব্যবহারিক জীবনের মোটেও মিল ছিল না। সংস্কৃত ব্যাকরণ পড়ানো হতো দশ বছর। বেদ আট বছর এবং যুক্তিবিদ্যা বারো বছর। কাজেই অবাক হওয়ার কারণ নেই যে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রতি মাত্র ৮২৪ জন শিক্ষার্থী আকৃষ্ট হয়েছিল। বিক্রমপুরের স্কুলে জ্যোতির্বিদ্যা ও চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়ানো হতো। চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিশেষ পক্ষপাত ছিল, এমনকি এখনো এই জেলায় চিকিৎসা বিজ্ঞান চর্চাকারীর সংখ্যা অন্য জেলার তুলনায় অনেক বেশি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ‘প্রাচীন পৈতৃক সম্পর্ক’ বিরাজ করত। ছাত্রদের কেবল পড়ানোই হতো না, তাদের আহার দেওয়া হতো, পোশাক দেওয়া হতো এবং আবাসনের ব্যবস্থাও করা হতো। শিক্ষক তার ছাত্রের ভরণ-পোষণের জন্য দাতব্য সহায়তা গ্রহণ করতেন।

১৮৩৮ সালে ঢাকার ১১টি হিন্দু স্কুলে ৩০২ জন শিক্ষার্থী ছিল; সে সময় ঢাকার ৯টি মুসলিম স্কুলে পড়াশোনা করত ১১৫ জন। হিন্দু স্কুলে ছাত্র বেতন ছিল মাসে দুই আনা; কিন্তু মুসলিম স্কুল ছিল ফ্রি, ছাত্রদের পয়সাকড়ি লাগত না। পড়াশোনার বিষয় সাধারণ হলেও তা ছিল ব্যবহারিক এতে থাকত পড়তে পারা, লিখতে পারা, গুপ্তলিখন শিক্ষা (সাইফারিং) এবং বাণিজ্যিক ও কৃষি হিসাবনিকাশ। মুসলমানরা ব্যাকরণ, সাহিত্য এবং ধর্ম বিষয়ে পাঠ গ্রহণ করত।

ইউরোপিয়ানদের ১৮১৭ সালে প্রথম একটি ব্যাপটিস্ট মিশনারি স্কুল খোলেন বেভারেন্ড ও লেনার্ড। এ ধরনের সাতটি স্কুল ছিল, পাঁচটিতে পাঠের ভাষা ছিল বাংলা, একটিতে পার্শি এবং একটিতে ইংরেজি। পাঁচ বছর পর স্কুলের সংখ্যা বেড়ে ২৩-এ দাঁড়ায় এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩০০-তে পৌঁছে; ১৮২৫ সালে নারী ও বালিকাদের জন্য একাধিক স্কুল খোলা হয়। পর্যাপ্ত তহবিলের সরবরাহ না থাকায় স্কুল পরিচালনা দুরূহ হয়ে ওঠে এবং ১৮৩৭ সালে এ সংখ্যা ১১টিতে ঠেকে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যায়, তখন ছাত্রের সংখ্যা ৫২৯ এবং ছাত্রী ৯৯। সরকার ১৮৩৫ সালে একটি ইংরেজি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এবং তা সবার উষ্ণ সমর্থন লাভ করে। টপোগ্রাফি অব ঢাকা গ্রন্থে জেমস টেইলর উল্লেখ করেন, ইংরেজি ভাষার জ্ঞান অর্জনের জন্য দেশের এই অংশের (ঢাকা) নেটিভদের প্রবল আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। শেষ পর্যন্ত সরকার যে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছে তাতে সন্তোষজনক সংখ্যক শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছে এবং প্রতিশ্রুতিশীল এই স্কুলটি বেশ ভালোভাবে বিকশিত হচ্ছে। বর্তমানে যেসব যোগ্য শিক্ষক পাঠদান করছেন তাদের শিক্ষার্থীরা কেবল পড়তে পারা, লিখতে পারা ও গণিতের সমাধান করতে পারাই শিখছে, কেবল তা-ই নয়, তারা শিক্ষার উচ্চতর বিষয় ভূগোল, ইতিহাস ও জ্যামিতিও রপ্ত করতে পারছে। শিক্ষার অব্যাহত অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। ১৮৬৭ সালে ঢাকা জেলায় ১৬৯টি ছেলেদের স্কুলে ৮২১৩ জন ছাত্র এবং মেয়েদের ২৬টি স্কুলে ৪৫২ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছিল। শিক্ষা সহায়তা অনুদান নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ১৪৭টি ছেলেদের স্কুলকে এর আওতায় আনা হয়েছে। ১৮৪১ সালে স্থাপিত ঢাকা কলেজও রয়েছে, এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে কলেজিয়েট স্কুল। দুটি ‘নরমাল স্কুল’ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সনাতন শিক্ষা পদ্ধতিতে যে মাদ্রাসা ও টোল রয়েছে এগুলো তার অতিরিক্ত। এ প্রসঙ্গে ১৮৬৭ সালে ঢাকা জেলার কালেক্টর মিস্টার ক্লে এখানকার জনগণের মনোভাব নিয়ে বলেছেন : নেটিভদের মধ্যে বিশেষ করে হিন্দুরা স্কুল ও কলেজের ফি দেওয়ার জন্য দরকার হলে অনাহারে থেকেও পয়সা জমিয়ে থাকে। আর এটা তারা নিজেদের স্বার্থে প্রণোদিত হয়েই করছে। কারণ তারা অনুধাবন করতে পেরেছে সরকারের অধীন নেটিভদের জন্য যেসব চাকরি রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভালোগুলো পেতে হলে ইংরেজি জ্ঞান অপরিহার্য। স্থানীয় ভাষায় শিক্ষার প্রতিও যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গেছে। নারী শিক্ষা বিস্তারের প্রশ্নে এখনো শক্তিশালী বিরোধিতা রয়েছে।

গত পঞ্চাশ বছরে ইংরেজি শিক্ষায় বিশেষ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দেরিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া স্কুলগুলোতে উৎসাহব্যঞ্জক হাজিরা লক্ষ করা যাচ্ছে। উইলিয়াম হান্টার দেখিয়েছেন সরকারি সাহায্যপুষ্ট স্কুলে গ্রামীণ প-িত থাকা না থাকার মধ্যে কোনো তফাত নেই। স্যার জর্জ ক্যাম্পবেল যে শিক্ষা সংস্কারের সূচনা করেছেন তাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ১৮৫৬-৫৭ সালে স্বীকৃত স্কুলশিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৪৪৯; ১৮৬০-৬১-তে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০০৩; ১৮৭০-৭১ সালে ৭১৫৫; সংস্কারের পর ১৮৭২-৭৩ সালে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৮০৮৬; ১৮৯২-৯৩ সালে ৭৮৮৩৪ এবং ১৯০৯-১০ সালে ৮৬,৫৮৬। হিন্দুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি। ১৯০১ সালে যেখানে বাংলার সাক্ষরতার হার ১০.৪, ঢাকার হার ১২.১; লিখতে-পড়তে পারা হিন্দু পুরুষ ২৪.২৩ ভাগ, সেখানে মুসলমান মাত্র ৪.৯। নারী শিক্ষার অবস্থা শোচনীয়। জেলাগুলোতে হাজারে ৯৯০ জনই অশিক্ষিত, ঢাকায় এই হার ৮.২ শতাংশ।

ঢাকা জেলায় দুটো কলেজ, দুটোই শহরে। ১৮৩৫ সালে একটি ইংরেজি স্কুল স্থাপন করা হয়েছিল, একে ১৮৪১ সালে এসে কলেজে উন্নীত করা হলো (ঢাকা কলেজ), এখানে বিএ পর্যন্ত পড়া যায়। ১৯০৮ সালে কলেজটি রমনায় স্থানান্তরিত করা হয়, ১৪ লাখ টাকা ব্যয় করে ২০০ ছাত্রের হোস্টেল এবং ৪ জন স্টাফের জন্য বাড়ি নির্মাণ করা হয়। কলেজ লাইব্রেরিতে ৮০০০ বই আছে; বইয়ের জন্য বার্ষিক বরাদ্দ ১০০০ টাকা। কলেজের স্টাফদের মধ্যে রয়েছেন একজন প্রিন্সিপাল এবং লেকচারার মিলিয়ে ষোলোজন তাদের কারও বেতনই ১০০ টাকার কম নয়। কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত, প্রেসিডেন্সি কলেজের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম কলেজ। জগন্নাথ কলেজ ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত, ১৯০৮ থেকে বোর্ড অব ট্রাস্টি কর্তৃক পরিচালিত। লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা মাত্র ৮০০; সরকার সম্প্রতি ৯০০০০ টাকার মূলধন অনুদান এবং ১৫০০০ টাকার আবর্তন ব্যয় মঞ্জুর করেছে। ঢাকা সদর মহকুমায় হাইস্কুল ১৩টি। এর মধ্যে ৬টি ঢাকা শহরে : ঢাকা কলেজিয়েট, ইডেন ফিমেল, আরমানিটোলা, কে এল জুবিলি, পগোজ, ইম্পেরিয়াল সেমিনারি। কেরানীগঞ্জে দুটি তেঘরিয়া এবং উকিল ইনস্টিটিউশন; জয়দেবপুর, কালীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, গোবিন্দপুর এবং রোয়াইলে একটি করে হাইস্কুল রয়েছে। হাইস্কুলগুলোকে এনট্রান্স স্কুলও বলা হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এনট্রান্স পরীক্ষায় বসার জন্য এসব স্কুল নিবন্ধনকৃত পরীক্ষার্থী পাঠাতে পারে। মিডল ইংলিশ এবং মিডল ভার্নকুলার শিক্ষার জন্য মিডল স্কুল। ১৯০৮-০৯ সালে মিডল ইংলিশ শিক্ষার্থী ৪৮৮২ এবং মিডল ভার্নকুলার ৪২১৯।

প্রাইমারি স্কুলের দুটি ভাগ : আপার ও লোয়ার। ১৯০৮-০৯ সালে আপার প্রাইমারিতে নিবন্ধিত ১২৭৮২ জন এবং লোয়ার প্রাইমারিতে ৩৮৩৩২ জন।

লোয়ার প্রাইমারিতে পাঠ্য : বিজ্ঞান প্রাইমার (প্রথম ও দ্বিতীয় স্ট্যান্ডার্ড, লেখা ও পড়া), পাটিগণিত ও মানসাংক, ড্রয়িং, ব্যবহারিক বিষয় ও ড্রিল। আপার প্রাইমারিতে এর সঙ্গে যোগ হয় ইতিহাস, সাহিত্য, ভূগোল, প্রাথমিক জ্যামিতি ও ক্ষেত্রফল নির্ণয়। অধিকাংশ প্রাইমারি স্কুল ভবন অত্যন্ত জরাজীর্ণ দশায় পড়ে আছে। অনেকগুলোর কোনো ভবনও নেই। গ্রামের অপেক্ষাকৃত ধনী লোকের বাড়ির বারান্দায় অথবা বহিঃবাটির কোনো বাড়তি ঘরে স্কুল বসে। মাটির মেঝে, বাঁশের বেড়া আর ছনের ছাউনির চেয়ে বেশি কিছু আছে এমন দাবি করার মতো স্কুল নেই। শিক্ষার্থীদের সম্পদ কয়েকটি বই, শ্লেট কিংবা তালের পাতা। ১৯০৬ সালে সরকার প্রাইমারি স্কুলের জন্য ২৭৬০০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শর্ত হচ্ছে স্থানীয়ভাবে স্কুল নির্মাণের ২৫ শতাংশ ব্যয় নির্বাহ করতে পারলেই সরকার ৭৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে। যদিও এ পর্যন্ত ৫০টি স্কুলঘর করা হয়েছে, এতে স্থানীয় উদ্যোগ বলতে গেলে খুবই কম। বন্যাকবলিত অংশে কলাগাছের ভেলাই অবলম্বন। ঢাকায় একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ স্কুল আছে। এখানে শিক্ষক, মিডল স্কুলের হেড পন্ডিত এবং হাইস্কুলের লোয়ার পন্ডিতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই স্কুলে ছয়জন শিক্ষকের তিনজনই এমএ ডিগ্রিধারী। ঢাকা জেলায় লোয়ার প্রাইমারির শিক্ষক প্রশিক্ষণ স্কুলের সংখ্যা চারটি মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রায়পুরা এবং আগলা। রিপোর্ট অব দ্য প্রোগ্রেস অব এডুকেশন ইন ইস্টান বেঙ্গল অ্যান্ড আসাম’-এ বলা হয়েছে, গুরু ট্রেনিং স্কুলের কোনো আকর্ষণ নেই, শিক্ষাও নিম্নমানের। প্রশিক্ষকরাও মোটামুটি অশিক্ষিত। ঢাকা কলেজের সঙ্গে সংযুক্ত আহসান উল্লাহ স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং ১৮৭৬ সালে সার্ভে স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০২ সালে ঢাকার নবাবের ১ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং সরকারের ৬০০০ টাকার অনুদান নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে রূপান্তরিত করা হয়। সুন্দর ভবন তৈরি করা হয় এবং ঢাকা কলেজের সন্নিকটে ১০০ ছাত্রের আবাসন নির্মাণ করা হয়। ওভারসিয়ার সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য তাদের শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পরীক্ষা দিতে হতো। পাশাপাশি সার্ভে স্কুলও অব্যাহত আছে, একজন ইউরোপিয়ান শিক্ষক এর প্রধান। ১৯০১-০২ সালে শিক্ষার্থী ছিল ১৪০ জন, ১৯০৮-০৯ সালে ৩৭৩ জন। মিটফোর্ড হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত মেডিকেল স্কুল ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। উত্তোলিত ৬৪ হাজার টাকায় বর্তমান ভবনটি নির্মিত। দুটি লেকচার রুম, দুটি অ্যানাটমি রুম (মৃত স্ত্রী ও পুরুষের পৃথক ডিসেক্টিং রুম), একটি লাইব্রেরি, একটি ল্যাবরেটরি এবং একটি জাদুঘর এই ভবনের অন্তর্ভুক্ত। একটি পরীক্ষার হল, একটি গবেষণাগার, একটি জিমনেশিয়াম ও একটি হোস্টেল নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। ১৯০৮-০৯ সালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০৫। কোর্সটি চার বছরের। ২৪টি বৃত্তি ও কিছুসংখ্যক ফ্রি স্টুকেটশিপ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা ও মক্তবের শিক্ষাও অব্যাহত আছে। কেবলই মেয়েদের জন্য চালু হয়েছে ইডেন ফিমেল স্কুল। রোমান ক্যাথলিক মিশন ১৮৮৯ থেকে ঢাকায় সেইন্ট গ্রেগরিজ স্কুল চালিয়ে আসছে। টাইপ রাইটিং ও শর্টহ্যান্ড শিক্ষার চারটি টেকনিক্যাল স্কুল রয়েছে। সামগ্রিক তত্ত্বাবধানের জন্য একজন ইন্সপেক্টরের অধীনে ৫ জন ডেপুটি ইন্সপেক্টর, ১১ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ২ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর এবং ১৫ জন পরিদর্শক পন্ডিত রয়েছেন। স্কুল-কলেজের এই বিবরণটি আইসিএস অফিসার বিসি অ্যালেন রচিত ‘ইস্টার্ন বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার্স : ঢাকা’ থেকে তুলে আনা হয়েছে। এই গ্রন্থের লেখক জেটি র‌্যাঙ্কিন আর একজন আইসিএস।

ভিসিদের কর্মকান্ডের যে ন্যক্কারজনক বিবরণী হামেশাই একালের খবরের কাগজে ছাপা হয়, অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়, ছাত্র নেতৃত্বের বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও সহিংসতার ভিডিও প্রদর্শিত হয়, এই ভেবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে হয়, ভাগ্যিস সেকালে পূর্ববাংলায় বিশ^বিদ্যালয়ই ছিল না; ছিল না এমন দানবীয় নেতৃত্ব। প্রায় অর্ধশত বছর আগে আমিও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলাম!

লেখক কলামনিস্ট ও সাবেক আমলা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত