প্রস্তাবিত বাজেটের স্বরূপ ও বাস্তবতা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ১০:২৪ পিএম

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও উন্নয়নভাবনা বা দর্শন  মোটা দাগে ৬টি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন বলে মনে হয়। যেমন: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা; গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের মূল্যবৃদ্ধিজনিত বর্ধিত ভর্তুকির জন্য অর্থের সংস্থান; বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ব্যবহার এবং মন্ত্রণালয়ের উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা; শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন; অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন কর সংগ্রহের পরিমাণ এবং ব্যক্তি আয়করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখা। এখন বাজেট প্রণয়ন, প্রস্তাব, পাস এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে পর্যালোচনা, মিডিয়ার সৌজন্যে ক্রমবর্ধমান আমজনতার সচেতনতার বিষয়ে পরিণত হতে দেখা যাচ্ছে। এটি একটি  ইতিবাচক দিক। এটাও অনস্বীকার্য যে উপরোক্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে যথেষ্ট ও যথাসাধ্য পথ পন্থা পদ্ধতি পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। যদিও বাজেট প্রাক্কলন এবং বাস্তবায়ন সিদ্ধান্ত প্রদানের নির্দেশনা অতিমাত্রায় বৃত্তাবদ্ধ ধ্যান-ধারণার মধ্যে আটকে যাচ্ছে, স্ববিরোধিতা বিদ্যমান, নীতি-নৈতিকতা স্বার্থস্বন্ধ্য হয়ে উঠছে তবুও তুলনামূলকভাবে ২০২২-২৩-এর বাজেটটিকে সরলীকরণ করে, ‘একটি ভালো বাজেট’ বলা যায়। এখন এই বাজেট   বাস্তবায়নে অদক্ষতা, একদেশদর্শিতা ও দুর্নীতির জটাজালের খোলস থেকে ‘ভালোভাবে’ বেরিয়ে আসুক এ প্রত্যাশা সবার। প্রস্তাব পেশের পাঁচ দিনের মাথায় ‘সম্পূরক বাজেট’টির কণ্ঠভোটে (প্রয়োজন ছিল না, কেননা ট্রেজারি বেঞ্চ অতিমাত্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, অতি লঘিষ্ঠ বিরোধী পক্ষের ছাঁটাই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জন্য যথেষ্ট) পাস হওয়ায় ভালো বাজেটের সফল বাস্তবায়নের প্রত্যাশা যাতে মাঠে মারা না যায় তা দেখাটাই একটি চ্যালেঞ্জ। এই ছয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জটিলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিবেশকে অধিকতর অর্থবহকরণে আন্তরিক প্রয়াস এবং নির্বাচনের আগের বছরের রাজনৈতিক অর্থনীতির এই বাজেটটিতে রাজনীতির উপাদান অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রতীয়মান হচ্ছে। জাতীয় বাজেটের (যা মূলত ব্যয়ের) আকার প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় ততটা বেশি না হলেও রাজস্ব আয় প্রাক্কলন ওরফে লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধিও যে প্রস্তাব করা হয়েছে তার বাস্তবায়ন পরিস্থিতি যদি আমলে না নেওয়া হয় তাহলে এই বাজেট দিয়ে কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জন আশঙ্কার মধ্যে থাকবে।  যদি এই সব প্রাক্কলন বাস্তবায়নযোগ্যতার নিরিখে নিরূপণ করা না হয়, চাহিদা বা কঠিন বাস্তবতাকে সঠিকভাবে ঠাহর না করা হয়, সঠিক অনুমানের ভিত্তিতে রাজস্ব আদায় এবং সেই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা না ধরা হয় তাহলে বাজেটের বড় ধরনের কাট বা পুনর্বিবেচনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

অনেক অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের বাজেট ক্রমবর্ধমানভাবে প্রস্তুত করা হয়, বলা হয় এ যাবৎকালের সেরা বা বড় বাজেট। বাজেটের নমিনাল আকার প্রতি বছর অবাধ বৃদ্ধি করা হয়। ক্রমবর্ধমান বাজেট বৃদ্ধির গতি জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং সিপিআই সংকলনের ওপর ভিত্তি করে অনুমিত হয়। যদি তা না হয়, বাজেটে প্রকৃত অর্থে কোনো বৃদ্ধি প্রতিফলিত হবে না, এটা মনে হতে পারে আমরা যেখানে ছিলাম এখনো সেখানে আছি। তাছাড়া, বাজেটের আকার যদি বাড়ে ভোক্তা সন্তুষ্টি এবং বিকাশের স্তর বোঝানোর জন্য, যদি ভোটারদের আশ^স্ত করার জন্য, তাহলে তো এটি একটি উদ্যমী প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। উন্নয়নকামী অর্থনীতিতে এটি প্রয়োজনও বটে। যদিও প্রকৃত অর্থে বৃদ্ধি তেমন না হলেও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি সাধারণ উদ্বেগ থাকবে, যদিও সেখানে পরিস্থিতিগত এবং পদ্ধতিগত উন্নতি বা সংস্কার অনেক প্রয়োজন হবে। আরেকটি ফ্যাক্টরের বিবেচনা সেখানে থাকা উচিত, যেমন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদায় পৌঁছানোর পথে থাকার উচ্চাকাক্সক্ষায় থাকতে হলে বঙ্গীয় বাজেটের আকার বৃদ্ধি আবশ্যক হবে। সবাই যেমন দেখছে অর্থনীতি প্রসারিত হয়েছে এবং বলা হচ্ছে, যুক্তি দেখানো হচ্ছে, এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় দিক থেকে আরও বিনিয়োাগ প্রয়োজন হবে, নীতি-নৈতিকতার মাথা খেয়ে হলেও, শাস্ত্রসূত্র অবজ্ঞা করেও আরও ডলারের সংস্থান ভাব-ভাবনায় আনা হচ্ছে, অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য, যদি তা না হয়, পছন্দসই ৭-৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন, এবং মূল্যস্ফীতিকে ৫-৬ শতাংশের মধ্যে বশে আনার লক্ষ্য অর্জিত হবে না।

দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে ধরা হয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে। এরাই পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে নানাভাবে ভূমিকা রাখছেন। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে রয়েছেন চাকরিজীবী, কৃষক, ছোট ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী। নানা কারণে এরা চাপের মুখে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, শিক্ষা-চিকিৎসাসহ নানা খরচের চাপে ত্রাহি অবস্থা। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ২০ মাসে চাকরি হারিয়েছেন হাজারো মধ্যবিত্ত। এ শ্রেণির অনেকের আয় কমেছে, কিন্তু চিকিৎসাসহ জীবনধারণের প্রয়োজনীয় ব্যয় বেড়েছে। অনেকেই চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ঋণে জর্জরিত। অথচ নির্দিষ্ট আয়ের বাইরে আর কোনো বিকল্প আয়ের উৎস তাদের নেই। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নিয়ে হতাশাজনিত অনাগ্রহ কাটেনি বরং বাড়ছে। সঞ্চয়পত্র নিরাপদ বিনিয়োগ বিবেচিত হলেও নতুন বাজেট প্রস্তাবে ঋণে ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্রের নজর দেওয়ায় মধ্যবিত্তের পকেট কাটা পড়বে। বাজেটে জীবন-জীবিকার সুরক্ষার কথা বলা হলেও অনেক কিছুই স্পষ্ট করা হয়নি। এই শ্রেণির মানুষের প্রত্যাশা ছিল ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেটে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য কোনো ‘অবলম্বন’ রাখা হয়নি। ট্রেজারি থেকে এ বাজেটকে সময়োপযোগী দাবি করে বলা হয়েছে, এ বাজেট ব্যবসাবান্ধব। কাদের ব্যবসা? সেখানে উৎপাদক, ক্রেতা ও বিক্রেতা কে?

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ রয়েছে। দরিদ্র ও অতিদরিদ্রের জন্য সামাজিক সুরক্ষা খাতের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠী মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিপন্ন মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় উপলক্ষ নির্মাণের স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।

বিভিন্ন খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেসব খাতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, তার বেশিরভাগ সুবিধা পাবে সংগঠিত ও বৃহৎ শিল্প। কিন্তু মাঝারি বা ছোট শিল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট খুব বেশি সুবিধা নেই। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জন্য তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। সরকারি ব্যয় বাড়লে নিম্নশ্রেণি উপকৃত হয়। মধ্যবিত্তের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ কোথায়? করোনা-পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে সমন্বিত কোনো পরিকল্পনাও নেই। টিকা সংক্রান্ত ব্যয় এবং বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার পুনরুল্লেখ মেলে না। করোনায় দারিদ্র্য বেড়েছে। কর্মসংস্থান এবং মানুষের আয় কমেছে। বেড়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্য। বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন নেই, নিরসনের চেষ্টা তো দূরে থাক। জনগণের সেবা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্বেগ না বক্তব্যে না বরাদ্দে প্রকাশ পেয়েছে। বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব আছে। কিন্তু ব্যাংক কমিশন গঠনের কথা বেমালুম ভুলে যাওয়া হয়েছে। বাজেটে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নতুন করে দরিদ্র হওয়া এবং শহুরে দরিদ্র জনগণের ওপর যথাযথ মনোযোগ না দিয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাজেটে করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন কোনো দিকনির্দেশনা নেই। বাজেটে দাবি করা হয়েছে ব্যবসা ও শিল্পের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোয় কর্মসংস্থান বাড়বে। এই সুবিধা সবাই পাবে। কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্রেণি কী কী খাতে সুবিধা পাবে তা পরিষ্কার নয়। বাজেট বক্তৃতায় জীবন-জীবিকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি করা হলেও বাজেট পর্যালোচনা করে এর বাস্তবতার প্রতিফলন দেখতে পাননি অর্থনীতিবিদরা। ১৫ মাস ধরে চলা শিক্ষার অচলাবস্থা থেকে বের হয়ে কীভাবে শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও কাজের উপযুক্ত করে তোলা হবে সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ নেই। অর্থনীতির এই ক্রান্তিকালে কর ছাড় ও করপোরেট করের শর্তযুক্ত হ্রাসের ঘোষণা দিয়ে ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে আরও নতুন সুবিধাভোগী যুক্ত হওয়ার কথা বাজেট প্রস্তাবে করা হয়েছে। বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য কোনো আশার খবর নেই। অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বলছেন নতুন বাজেট প্রস্তাবে দারিদ্র্যহারসহ অনেক তথ্য-উপাত্তের মধ্যেই সামঞ্জস্য নেই। অনেক উপাত্তের হালনাগাদ পরিসংখ্যান নেই, কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণাও নেই। একথা ঠিক সব বাজেটে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির ফারাক আছে, থাকে। কৃষি ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি দেওয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা ইতিবাচক হলেও নিম্নআয়ের মানুষ কবে তার কতটা সুবিধা পাবে, সেটা পরিষ্কার নয়। ব্যবসাবান্ধব বাজেটের কথা বলা হলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সুবিধা পাবে, তা স্পষ্ট নয়। কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি রোডম্যাপ থাকা উচিত। একদিকে দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্সের দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদিকে হ্রাসকৃত কর প্রদান করে, বিনা প্রশ্নে অবাধে বিদেশে পাচারকৃত ‘কালোটাকা’ সাদা করার সুযোগ দেওয়াটা সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যারা নিত্য নিয়মিত করদাতা ও ব্যবসায়ী তাদের জন্য এটা মেনে নেওয়া দুরূহই শুধু হবে না, এতে দেশে কর সংস্কৃতি বিকাশও বাধাগ্রস্ত হবে। কালোটাকা দুভাবে হয়ে থাকে। কর না দেওয়ায় বৈধ আয় অনেক সময় অবৈধ হয়ে যায়। সেটা বৈধ করা স্বাভাবিক কর দিয়েই হওয়া বাঞ্ছনীয়  এত ছাড়ে নয়। কারণ এতে যারা উচ্চহারে নিয়মিত কর দেন, তারা নিরাশ হবেন। আর যারা দুর্নীতি করে কালো টাকার পাহাড় গড়েন, তিন তিনটি (দুর্নীতি, কর ফাঁকি এবং বিদেশে পাচার) অন্যায় করেন তাদের বিনা প্রশ্নে (বিচার বা শাস্তির আওতায় না আনতে) শুধু ৭/১০/১৫ শতাংশ কর দিয়েই টাকা বৈধ করার সুযোগ (অ্যামনেস্টি?)  দেওয়াটা হবে ভালো করদাতাদের জন্য এক ধরনের শাস্তি এবং কালোটাকাওয়ালাদের ‘অবৈধ’ অর্জনকে প্রশ্রয় ও প্রযত্ন প্রদান। দুর্নীতি প্রতিরোধে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নৈতিক শক্তির প্রচন্ড আত্মসমর্পণ।

নতুন বাজেটে রাজস্ব আদায়ে ধারাবাহিকভাবে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। করোনা-উত্তর এই পরিস্থিতিতে এত বড় লক্ষ্য নির্ধারণের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হওয়া দরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি কর, করপোরেট কর কমানোর ভালো উদ্যোগ আছে। এতে মানুষের হাতে টাকা থাকবে, তারা খরচ করতে পারবে। করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো হয়েছে। তবে যারা কর্মী ছাঁটাই করবে না, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করবে না, বরং কর্মসৃজনমূলক নতুন বিনিয়োগ দিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগের বন্ধ্যত্ব ঘোচাবেন তাদের এ সুযোগ দেওয়া যুক্তিসংগত হতে পারে। আমাদের দেশে কর ফাঁকির অভিঘাতটা যারা কর দেন তাদের ওপর গিয়ে পড়ে। করপোরেট কর হার কমানোর প্রশ্নটির সঙ্গে যারা করের বাইরে কিংবা কর ফাঁকি দিয়ে থাকেন তাদের শামিল করার প্রয়োজনীয়তা পারস্পরিকভাবে প্রযোজ্য। কর হার কমলে করদাতার সংখ্যা বাড়ে স্বতঃসিদ্ধ এই ধারণার বাস্তবায়ন কৌশল পর্যবেক্ষণের বিষয়টি এখানে অনিবার্য। ভ্যাটের জরিমানা কমানো হয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে কর অবকাশ সুবিধাও রয়েছে। পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক থাকত, এসব ছাড় দেওয়ার যৌক্তিকতা থাকত। এর ইতিবাচক প্রভাবও দেখা যেত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি ব্যবসাই না করা যায়, তাহলে কর তো কমে যাবে। অনেক ক্ষেত্রে করের যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সুফল বয়ে আনবে না। কারণ অর্থনীতি সে অবস্থায় নেই। অর্থনীতি যদি গতিশীল না হয়, কর বাড়বে কীভাবে সেটা প্রস্তাবিত বাজেটে বিবেচনায় নেওয়া দরকার ছিল।

লেখক উন্নয়ন অর্থনীতির বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত