স্বনিগড়ে ফিল্ড মার্শাল জেনারেল কোকেনস্কি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১১:৩৫ পিএম

‘দ্য ডিক্টেটর’ নামের চলচ্চিত্রটি তৈরি হয়েছিল ২০১২ সালে। হলিউডি ফিল্ম। হাস্যরসাত্মক ছবি। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ছবি বিষয়ক সারাংশে একথা বলাও হয়েছে। ছবির শুরুর দিকে উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত নেতা কিম জং-ইলের ছবি সাদরে-অনাদরে প্রক্ষিপ্ত হয়েছে। যদিও ছবিটি উত্তর কোরিয়া বা কিম জং-ইল সংক্রান্ত নয়। ছবিতে যাকে হাস্যরসের উপলক্ষ করা হয়েছে তার নাম অনুচ্চারিত, তবে বোধগম্য। গাদ্দাফি!

ছবিটিতে উত্তর আফ্রিকার দেশ ‘রিপাবলিক অব ওয়াদিয়া’র কিচ্ছা ফাঁদা হয়েছে। তার শাসক একনায়ক অ্যাডমিরাল জেনারেল আলাদীন। দেশটির মানচিত্র ইরিত্রিয়ার মানচিত্রের অনুরূপ। আরও অনেক অনুষঙ্গিক বিষয়ে গাদ্দাফির বিষয়গুলোই কায়দা করে দেখানো হয়েছে। যেমন অ্যাডমিরাল জেনারেলের আলাদিনের পোশাক বাহ্যত গাদ্দাফিরই পোশাক। হাফাজ আলাদিনেরও গাদ্দাফির মতোই ফিমেল বডিগার্ড আছে। তবে তিনি গাদ্দাফি নন। তিনি হাফাজ আলাদিন। তিনি অ্যাডমিরাল জেনারেল।

গাদ্দাফিবিষয়ক কল্পকথার মতোই হাফাজ আলাদিনকে (প্রকারান্তরে মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে) রমণীগার্ডদের সঙ্গে লীলামগ্ন মদনরূপে দেখানো হয়েছে। অ্যাডমিরাল জেনারেল হাফাজ আলাদিনের চেহারা, হয়তো তা কাকতালীয়, কর্নেল গাদ্দাফির অনুরূপ (বাস্তবে গাদ্দাফিকে পশ্চিমারা যেভাবে প্রেস্টিটিউটের মাধ্যমে চিত্রিত করেছে এবং করতে চেয়েছে সে-রকম দেখানোর চেষ্টাই করা হয়েছে; প্রেস্টিটিউট = প্রেস + প্রস্টিটিউট; বাংলায় বিশদে বলে গণমাধ্যমকে আর প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না)। প্যারামাউন্ট পিকচার্স করপোরেশনের এই ছবির প্রোটাগনিস্ট সাকা ব্যারন কোহেন (আলাদিন) ও আন্না ফারিস (জোয়ি)।

প্রযোজক জেফ শ্যাফার ও ডেভিড মানডেলের বয়ানে : হাফাজ আলাদিনের চরিত্র রিয়েল-লাইফ ডিক্টেটর যেমন কিম জং-ইল, ইদি আমিন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি, মবুতু সেসে সেকো এবং সাপুরমুরাত নিয়াজভের চরিত্রপ্রণোদিত। যাই হোক, গাদ্দাফির কথা কোনো এক জায়গায় স্বীকার করা হয়েছে। এ-কথাও বলা হয়েছে, ‘দ্য ফিল্ম’স ওপেনিং ক্রেডিটস ডেডিকেট ইট টু কিম জং-ইল।’

অ্যাডমিরাল জেনারেল হাফাজ আলাদিনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে : সে চাইল্ডিশ, সেক্সিস্ট, অ্যান্টি-ওয়েস্টার্ন এবং অ্যান্টি-সেমিটিক ডিক্টেটর ‘হু সারাউন্ডস হিমসেল্ফ উইথ ফিমেল বডিগার্ডস’; সে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক (বিশেষ করে আলকায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের আশ্রয়দাতা)। সে আলাদিন নামের দ্যোতনা করে এমন অনেক শব্দ ওয়াদীয় অভিধানে সংযুক্ত করেছে। বছরখানেক আগে তার শত্রুপক্ষ (বিশেষ করে তার চাচা তামির (বেন কিংসেø) তার ডাবলকে (সাকা ব্যারন কোহেন, আলাদিনের সমরূপী চরিত্র) হত্যা করে। আলাদিন পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্য ইসরায়েলকে ধ্বংস করা। সে আবার ওয়াদিয়ার তেল-সম্পদ বিদেশিদের কাছে বিক্রি করতে নারাজ। এ বিষয়ে সে প্রতিজ্ঞা করেছিল তার বাবার কাছে, তার মৃত্যুর আগে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ওয়াদিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিলে আলাদিন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যায় বক্তৃতা করার জন্য। নিউ ইয়র্ক সিটিতে পৌঁছার পর তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারী বাহ্যত নিরাপত্তা-ইনচার্জ কার্যত তার চাচা তামিরের ভাড়া করা হিটম্যান। তামির আলাদিনের একজন লুকএলাইক জোগাড় করে, তার ফিকশনাল নাম এফাওয়াদ (সাকা ব্যারন কোহেন); তাকে একটা দলিলে সই করতে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল। সেই দলিলে ওয়াদিয়ার গণতন্ত্রায়নের নামকাওয়াস্তে ঘোষণা থাকবে। ফ্যান্টাসিই বটে!

যাক, এই লেখার বিষয় আলাদিন নয়, বরং তার সামরিক পদবি অ্যাডমিরাল জেনারেল। টাইটেলটা বেশ ফানি। ফানি সিনেমার ফানি মিলিটারি টাইটেল। কার্যত এটা কোনো হাস্যকর পদবি নয়। এক সময় এই ধরনের পদবি ব্যবহার করত প্রাশিয়ান এম্পায়ার তথা জার্মান এম্পায়ারের সামরিক বাহিনী। তারা ফিল্ড মার্শাল জেনারেল পদবিও ব্যবহার করত। সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক পদাবলিও অনুরূপ, কেবল অ্যাডমিরাল জেনারেল এবং ফিল্ড মার্শাল জেনারেল ব্যবহার করা হয় না। এক সময় ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। তাদের সামরিক পদাবলিও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো প্রাশিয়ান ধাঁচের।

ডিক্টেটর ছবিটি হিউমারাস হলেও কোনো কোনো দেশের বা কোনো কোনো নেতার বিষয়ে তা ঠেসমূলক। বিদ্রƒপাত্মক। চরিত্রটিকে হিটলারতুল্য ভাবা হয়েছে। বিদ্রƒপাত্মক হলেও এটি চার্লি চ্যাপলিনের ‘ডিক্টেটর’-এর মতো নয়। বরং এটি জলো সিনেমা; কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর রগড় প্রয়াস। সিনেমায়, গল্পে, উপন্যাসে রাজনীতি থাকতেই পারে, তাতে কোনো সমস্যা নেই; তবে উচ্চকিত না হওয়াই ভালো।

আসলে বলতে চাচ্ছি ইউক্রেনের কমেডিয়ান তথা ভাঁড় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কথা। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইওশিরো মোরি বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউক্রেনিদের ভোগান্তির কারণ। ইউক্রেন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা একচোখা। তাতে জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা’র অবস্থানও প্রভাবিত হয়েছে। ‘দ্য নিক্কেই’ সংবাদপত্রের ওয়েবসাইটে এ খবর প্রচারিত হয়েছে। ইউক্রেনিদের ভোগান্তির কারণ হওয়ায় মোরি জেলেনস্কির ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছেন। টোকিওতে ১৮ নভেম্বর জাপানি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য মুনিও সুজুকি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোরি বলেন, ‘জাপানের মিডিয়া একপেশে খবর পরিবেশনের নীতি অবলম্বন করেছে। তারা খবরের পশ্চিমাসূত্রই শুধু ব্যবহার করে। তাতে জাপানের দৃষ্টিভঙ্গিও আচ্ছন্ন হয়েছে। ফুমিও কিশিদার কথা তাদের কথার অনুরণন মাত্র।’

প্রসঙ্গত, ইওশিরো মোরির বয়স এখন ৮৫ বছর। এপ্রিল ২০০০ থেকে এপ্রিল ২০০১ পর্যন্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। জেলেনস্কির কীর্তির কোনো শেষ নেই। অশেষ তার রঙ্গ। জেলেনস্কি নিজের অজান্তেই কোকেনস্কি হয়ে আছেন। কোকেনের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক আছে। সে কথায় পরে আসা যাবে। সপ্তাহখানেক আগে ইউক্রেন প্রতিবেশী পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলিয়েছিল বুঝে অথবা না বুঝে; সম্ভবত বুঝেই ন্যাটোকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর উদ্দেশ্যে। ন্যাটো অবশ্য রাশিয়ার সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ (প্রক্সি ওয়ার) চালাচ্ছে। জেলেনস্কির তথা ইউক্রেনের তাতে পোষাচ্ছে না। তারা চায় রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর সরাসরি যুদ্ধ বাধুক। ঘটনাক্রমে ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি শস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনায় আঘাত হানে। তাতে দুজন খামারি মারা যান। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনার দায় চাপান রাশিয়ার ওপরে। যদিও তিনি জানেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউক্রেন থেকে দাগা হয়েছে, রাশিয়া বা রাশিয়ার কোনো মিসাইল সেন্টার থেকে দাগা হয়নি। এটা ‘ফলস্ ফ্ল্যাগ’, উদ্দেশ্য, যা ঘটেছে তার ফলস্ ন্যারেটিভ তৈরি করা। চতুর প্রতিপক্ষ যুদ্ধে এ কাজটি করে থাকে অন্যপক্ষের ওপর দোষ চাপানোর জন্য।

তাৎক্ষণিকভাবে জেলেনস্কি ন্যাটোকে কার্যত যুদ্ধে প্রলুব্ধ করলেন। ন্যাটো চুক্তির আর্টিকেল ৫-এর কথাও উল্লেখ করলেন। কারণ পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য। আর্টিকেল ৫-এ বলা হয়েছে : কোনো সদস্য যদি আক্রান্ত হয় তাহলে সব সদস্য মানে ন্যাটো জোট তার সহায়তায় এগিয়ে আসবে। একজনের ওপর হামলা মানে সব সদস্যের ওপর হামলা। পোল্যান্ডে স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও আছে। ইউএস মেইনস্ট্রিম মিডিয়া বিশেষ করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং এনবিসি নিউজ জেলেনস্কির গল্পেরই পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। কিন্তু এর মধ্যেই ‘ব্লেম দ্য রাশানস ন্যারেটিভ’-এর গোমর ফাঁস হতে শুরু করে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ প্রমাণ করে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউক্রেনের আর্সেনাল (অস্ত্রভা-ার) থেকে আসা এবং এটা ব্যবহার করেছে ইউক্রেনি এয়ার ডিফেন্স (আকাশ প্রতিরক্ষা) ইউনিট। এ ক্ষেপণাস্ত্র এখন আর রাশিয়া ব্যবহার করে না। এটা এস-৩০০। মস্কো ও ওয়াশিংটন দুজনেরই স্যাটেলাইট ইমাজেরিতে অ্যাকসেস (প্রবেশগম্যতা) রয়েছে। পোল্যান্ডে কোন পথে উড়ে গিয়ে এটি আঘাত হেনেছে তা তারা নিশ্চিতভাবেই জানতে সক্ষম।

জেলেনস্কির সরকারের লোকজন এবং ইউক্রেনি মিডিয়াও জানে, কোনো ম্যালফাংশনের তথা ত্রুটির কারণে অথবা পরিচালনায় দক্ষতার অভাবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রটি পোল্যান্ডে গিয়ে পড়েছে। এটা আসলে ক্ষেপণাস্ত্র চালনায় অদক্ষতাজনিত দুর্ঘটনা অথবা ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা, মানে ফলস্ ফ্ল্যাগ। গল্পটা পশ্চিমা মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার (প্রেস্টিটিউট) চোখ এড়িয়ে গেছে বা তারা এতে ইচ্ছা করে নজর দেয়নি; কারণ তা তাদের মনোরোচক গল্পের ফ্রেমে পড়ে না। এটা যে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নয় সেটাই তারা মনে করতে চায় না। জেলেনস্কি সে কথাই ইনিয়ে-বিনিয়ে বলছেন বা বলতে চাইছেন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যাকে ট্রল করে বলা হয় প্রেসিডেন্ট ব্র্যান্ডন (এ মশকারাতে চ-বর্গীয় বিষয়াদি আছে) এ ঘটনার সময় ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ সম্মেলনে ছিলেন। তিনি মন্তব্য করলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি যে রাশিয়া থেকে এসেছে তার পক্ষে কোনো ইন্টেলিজেন্স ভাষ্য নেই এবং এর কক্ষপথ রাশিয়া থেকে এসেছে বলে ইঙ্গিত দেয় না। প্রেসিডেন্ট ব্র্যান্ডন রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র এসেছে সে কথা আমলে নিলেন না বটে, তবে তিনি এই ঘটনার আগের দিন ইউক্রেনের জন্য বাড়তি ৩৭ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা অনুমোদন করেছেন।

যাই হোক, ওই দিনের পুরোটা সময়ই বাইডেনের কথার পুনরাবৃত্তি করেছে পেন্টাগন ও মার্কিন ইন্টেলিজেন্স। যদিও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন একটা মজার কথা বললেন ক্ষেপণাস্ত্রটি যদিও ইউক্রেনের, ঘটনার জন্য দোষ কিন্তু রাশিয়ার। কী কারণে রাশিয়া দোষী তার ব্যাখ্যা অবশ্য তিনি দেননি। ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল হেনস স্টলটেনবার্গও বলেছেন, দোষটা রাশিয়ারই। কারণ ইউক্রেন নিজেকে রক্ষা করতেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। ভুলক্রমে সেটা পড়েছে পোল্যান্ডে। পোল্যান্ডে যা ঘটেছে তার দায় রাশিয়াকেই বহন করতে হবে। কারণ এটা চলমান যুদ্ধেরই ফল। একে কী বলা যায়?  ‘কালা কয় কালারে তুই কেরে কালা : দ্য পট কলিং দ্য কেটল ব্ল্যাক।’ কার্যত ইউএসএ কিংবা ন্যাটোর তরী ডুবছে।

জেলেনস্কি চান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো ইউক্রেনের পক্ষ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করুক। পোল্যান্ডে মিসাইল ছুড়ে মারা একটা ডেলিবারেট ফলস্ ফ্ল্যাগ অপারেশন। উদ্দেশ্য আরও বড় পরিসরে যুদ্ধ বাধানো। এমন যুদ্ধ বাধলে সেটা পারমাণবিকও হতে পারে। জেলেনস্কির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাকে অসার কাঁঠাল, গাছপাঁঠা, কোকহেড বা গা-ু বা কোকেনঞ্চি (যেমন হিরোইঞ্চি), বুদ্ধু, বেল্লিক, ভাঁড় প্রভৃতি অভিধায় অভিহিত করা হচ্ছে। শুধু বিবিসি-সিএনএনের ভাষ্যে তিনি হিরো। কলামিস্টরা তাকে কোকেনস্কি নামও দিয়েছে। অতএব তাকে ফিল্ড মার্শাল জেনারেল কোকেনস্কি অভিহিত করা যেতেই পারে।

ইউক্রেনের যুদ্ধটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভজনক বিষয় বটে। নানা দিক থেকে। মার্কিন সাময়িকী পলিটিকোতে বলা হয়েছে ‘ইইউ বিলিভস্ ইউএস ইজ প্রফিটিং ফ্রম ইউক্রাইন কনফ্লিক্ট। অ্যামেরিকা ইজ ক্যাশিং ইন অন দ্য কনফ্লিক্ট হোয়াইল দ্য ব্লক হইজ লেফ্ট আউট ইন দ্য কোল্ড।’ এটা ঊর্ধ্বতন ইইউ কর্মকর্তাদের বয়ান। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, ওয়াশিংটন ইউক্রেন যুদ্ধপরিস্থিতি থেকে ফায়দা লুটছে, ইইউয়ের অর্থনৈতিক সমস্যাকে পুঁজি করছে।  একজন ইইউ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘উই আর রিয়েলি অ্যাট আ হিস্টোরিক জাংচার।’

সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল ডগলাস ম্যাকগ্রেগর মনে করেন,স্বনির্মিত নিগড়ে আটকা পড়েছেন জেলেনস্কি। যেন সারভান্তেসের নাইট দন কিহোৎ। তাকে প্রাশিয়ান অ্যাডমিরাল জেনারেলের মতো ফিল্ড মার্শাল জেনারেল র‌্যাংক দেওয়া যেতে পরে। স্বনিগড়ে বন্দি ফিল্ড মার্শাল জেনারেল ভলোদিমির কোকেনস্কি।

লেখক: সাংবাদিক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত