২০১৬ সালের শুরুর দিকে হঠাৎ করে আলোচনায় আসেন পরীমনি। সে সময় ফাঁস হয়ে যায় তার বিয়ের খবর। ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সকালে অনিক আব্রাহাম নামে একটি ফেইসবুক আইডি থেকে ‘পরীমনি’র কিছু ছবি শেয়ার করা হয়। সেখানে অনিক দাবি করেছিলেন, পরীমনি তার বন্ধু ইসমাইলের স্ত্রী। তারা ২০০৯ সালে বিয়ে করেন। তার কিছুদিন পরই ফেইসবুকে পাওয়া যায় পরীমনির কথিত বিয়ের কাবিননামা এবং নতুন কথিত বরের সঙ্গে কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি। কিন্তু খুব বেশি একটা সময় যেতে না যেতেই ফেইসবুকে পাওয়া যায় পরীর আরও এক বিয়ের খবর। শাকিল রিয়াজ নামে একটি ফেইসবুক আইডি থেকে প্রকাশ করা হয়, পরীর নতুন বরের ছবি ও কাবিননামা। জানা গিয়েছিল, পরীমনির কথিত দ্বিতীয় স্বামীর নাম সৌরভ কবীর।
তবে পরী অস্বীকার করে বলেন, কারও সঙ্গে ছবি থাকলেই সেটা বিয়ে নয়। কাবিননামাটিও ভুয়া বলে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেন তিনি।
এদিকে সেসব গুঞ্জনের রেশ যখন মিলিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই খবর আসে বাগদান করেছেন পরীমনি। বর সাংবাদিক ও আরজে তামিম। এবার অবশ্য পরীমনি অস্বীকার করেননি। স্বীকার করে নেন বাগদানের পুরো ঘটনাটি। ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমার শ্যুটিং করার সময় তারা দুজন বাগদান করেন বলে জানা গিয়েছিল। ২০১৮ সালে পরীমনি ঘোষণা দেন পরের ভালোবাসা দিবসেই তামিমকে বিয়ে করবেন পরীমনি। ভক্তরা প্রহর গুনতে থাকেন তার বিয়ের জন্য। কিন্তু সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আর আসেনি। শেষে শোনা যায়, বাগদান ভেঙে গেছে পরীমনি ও তামিমের। গণমাধ্যমে বাগদান ভেঙে যাওয়া নিয়ে বক্তব্যও দিয়েছিলেন নায়িকা।
এরপর আবারও হঠাৎ করেই বিয়ে করে ফেলেন পরীমনি। পাত্র সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান রনি। ১০ মার্চ রাতে রাজধানী রাজারবাগ এলাকায় দুজনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অভিনেত্রী ও নির্মাতা হৃদি হকের ‘১৯৭১ : সেই সব দিন’ সিনেমার সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন রনি। ওই মুভিতে অভিনয় করছেন পরীমনি। সেখানে কাজ করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হয় তাদের। একপর্যায়ে রনিই বিয়ের প্রস্তাব দেন। মনে মনে রনির প্রতি দুর্বল পরীমনি সেই প্রস্তাব এড়াতে পারেননি।
এদিকে সেই বিয়ের পর কয়েকদিন রনি ও পরীমনিকে একসঙ্গে দেখা গেলেও বেশ কিছুদিন ধরেই তাদের আর একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ঈদ বা বিশেষ দিনগুলোতেও পরী মনির পাশে নেই স্বামী রনি। তবে কি তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে গেল?
পরী মনির ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, তারা আর একসঙ্গে থাকছেন না। আইনিভাবে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।
এদিকে বিয়ে বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে পরীমনি মুখ না খুললেও একটি গণমাধ্যমে কামরুজ্জামান রনি বলেছেন, বিয়ে বা বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি কোনো কথা বলতে চান না। তাদের এই নিরবতার কারণে বিচ্ছেদের গুঞ্জন চাউর হয়ে উঠেছে শোবিজ অঙ্গনে।