বিএনপির শনিবারের মহাসমাবেশ সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই ঢাকার রাজপথে কর্মসূচি পালন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মিছিল-সমাবেশ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া ঢাকা জেলার পাঁচ উপজেলার ইউনিয়ন এবং তিনটি পৌরসভার ওয়ার্ডেও মিছিল-সমাবেশে করা হয়। আজ শুক্রবারও একই কর্মসূচি পালন করে রাজপথে থাকবে আওয়ামী লীগ। এদিকে গতকাল রাজধানীর বনানী সেতু ভবনে কর্ণফুলী টানেলের উদ্বোধন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি হামলা করলে পাল্টা হামলার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন,‘২৮ অক্টোবর আমরা শান্তি সমাবেশ করব। তবে আন্দোলন সামনে রেখে বিএনপি আক্রমণ করতে এলে চুপচাপ বসে থাকব না। আমাদের কর্মীরাও পাল্টা হামলা করবে। তবে আগ বাড়িয়ে কোনো উসকানি দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর আওয়ামী লীগ সরকার।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ৭১- এর চেতনা ধারণ করে না। তারা ১৯৪৭ সালের দ্বি-জাতিতত্ত্বের ধারণা ধারণ করে। তারা কর্মসূচির নামে সহিংসতা করতে চায়। বিএনপি যদি গায়ে পড়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করতে আসে, তখন তো আমরা চুপচাপ বসে থাকব না। আমাদের কর্মীরা কি তখন শান্ত থাকবে? শান্তির সমাবেশে যদি হামলা হয়, তাহলে আমাদের কর্মীরা বসে থাকবে না। পাল্টা হামলা অবশ্যই হবে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে বিদেশি কোনো চাপ সরকারের ওপর নেই। নির্বাচন নিয়ে চাপ কেন থাকবে? কোনো চাপের বিষয়ে আমি অবহিত নই। বিদেশি চাপ কেন থাকবে? আমাদের ইলেকশন আমরা করছি। তা ছাড়া নির্বাচনটা শান্তিপূর্ণ, অবাধ, নিরপেক্ষ হচ্ছে কি না তা বিদেশিরা পর্যবেক্ষক হিসেবে দেখতে পারেন। তাই বলে চাপ থাকবে কেন? আমরা শান্তিপূর্ণ ইলেকশন করব, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন করব। যেখানে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে, সেখানে চাপের কিছু নেই।’
এদিকে আগামীকাল শনিবারের সমাবেশ বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটেই করতে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন মিয়া বরাবর এক চিঠিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ এ কথা জানান।
চিঠিতে বলা হয়, শনিবারের সমাবেশে লোকসমাগম সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে এবং সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হবে। সমাবেশে প্রায় দুই লাখ লোকের সমাগম হবে। সমাবেশটি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে পল্টন মোড়, জিপিও মোড়, শিক্ষা ভবন, গোলাপ শাহ মাজার, নগর ভবন, নবাবপুর সড়ক, মহানগর নাট্যমঞ্চ সড়ক, দৈনিক বাংলা মোড় এবং মতিঝিল সড়ক ও স্টেডিয়াম সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলে জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি (মঞ্চনির্মাণ ও প্রচার–প্রচারণার কার্যক্রম) ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এমতাবস্থায় স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্য কোনো ভেন্যুতে নতুনভাবে সমাবেশের প্রস্তুতি গ্রহণ করা দুরূহ ব্যাপার।
একই কথা জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সৈয়দ আবুল হোসেনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট, অনলি ওয়ান ভেন্যু আই ম্যানশন। যেটা বলেছি সেটাই।
আগামীকাল ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের ভেন্যু প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা কিছু বলতে চাই না। সেটা পুলিশ জানে। অনুমতি দেওয়ার মালিক পুলিশ। অনুমতি দেওয়ার মালিক যারা তারা বুঝবে আর বিএনপি বুঝবে। এখানে আমরা বলার কে? এটা তো আমাদের আওতার মধ্যে পড়ে না। আমরাও অনুমতি চেয়ে নিয়েছি।’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, কমিশনারদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় ২৮ তারিখ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে যা যা করণীয়, তার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে তারা ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগদলীয় সব কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত বিশেষ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গাজীপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশেষ বর্ধিত সভায় বলেছেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দেশকে আবার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা আজকে নানা প্রকার সমাবেশ ডাকছে। তাদের অতীতের সমাবেশগুলো প্রমাণ করে তারা সহিংসতা ছাড়া আর কিছু জানে না। তিনি ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সমাবেশ সফল করতে গাজীপুরের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
