স্ত্রী নাচ ভালোবাসতেন। নাচের অনুষ্ঠানের জন্য একাধিক যুবকের সঙ্গে মেলামেশা করতে হত তাকে। বিষয়টি পছন্দ হত না স্বামীর। স্ত্রীর প্রতি অবিশ্বাস তৈরি হয় তার। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গুলিতে হত্যা করলেন তিনি। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত চন্দন মাঝি জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী অনুশ্রী হাজরাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্ত্রীকে হত্যা করে ব্যবহৃত বন্দুকটি ঘটনাস্থলের পাশে থাকা একটি পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। গতকাল বুধবার (৩০ আগস্ট) চন্দনকে ডোমজুর সেই এলাকায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেই তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের কথা স্বীকার করেন।
অবশ্য পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে মাথায় গুলি লেগে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এমনই তথ্য পেয়েছিলেন তারা। এর আগে গত রবিবার রাতে ঝালুয়ারবেড় এলাকায় রাস্তার উপর পড়েছিল অনুশ্রীর রক্তাক্ত মরদেহ। তার স্বজনদের অভিযোগ ছিল, স্বামী চন্দনই এই ঘটনার নেপথ্যে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতেই চন্দনকে সে সময় গ্রেপ্তার করা হয়।
অনুশ্রীর স্বজনরা জানান, বিয়ের আগে থেকেই চন্দনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল অনুশ্রীর। তারপর দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। অনুশ্রী নাচ ভালবাসতেন। এটা তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরাও জানতেন। কিন্তু বিয়ের পর অনুষ্ঠানে নাচার ব্যাপারে বাধা দিতেন তারা। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। এমনকি অনুশ্রীকে মারধর করা হত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ছয় মাস আগে বাপের বাড়ি চলে যান অনুশ্রী। ডিভোর্স চেয়ে মামলাও করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের চাকরি নিয়েছিলেন অনুশ্রী। এছাড়া পাড়ার বাচ্চাদের নাচ শেখাতে শুরু করেন। কিন্তু অকালেই ঝরে যেতে হলো তাকে।
আরও পড়ুন: অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, সাড়া নেই বিশ্বভারতীর
