যেমন হবে রমজান ভাবনা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৩, ১০:৩৩ পিএম

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র রমজান। কদিন পর আকাশে উঠবে রমজানের আলো ঝলমলে বাঁকা চাঁদ। আসন্ন রমজানের অপেক্ষায় সুখময় অস্থিরতায় কাটছে মুমিন বান্দার দিন। তার জীবনজুড়ে শুরু হয়ে গেছে ইবাদতের সাজসাজ রব। আমাদেরও উচিত, রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। এসব প্রস্তুতির কয়েকটি ধাপ হলো

বেশি বেশি দোয়া করা

মহান আল্লাহর কাছে রমজান পর্যন্ত হায়াতপ্রাপ্তির জন্য দোয়া করা। বলতে হবে, হে আল্লাহ! আমার জীবনে বরকত দিন। সুস্থতা দিন। আমার দেহে শক্তি দিন। রমজান পর্যন্ত আমার হায়াতকে প্রলম্বিত করুন। রহমত-বরকত হাসিলের তওফিক দিন। বান্দা দোয়া করলে আল্লাহ খুশি হন। দোয়া কবুল করেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। নিশ্চয় আমি কাছেই আছি। আমি দোয়াকারীর দোয়া কবুল করি। যখন সে আমার কাছে দোয়া করে।’ সুরা বাকারা : ১৮৬

ইবাদতের নিয়ত

রমজানে উত্তমপন্থায় অধিক পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগির দৃঢ় সংকল্প করা। কোরআন তেলাওয়াত, নফল আমল, তওবা-ইস্তেগফার ও অন্যান্য ইবাদতে সময় কাটানোর নিয়ত করা। রমজানে কোন কোন আমল বেশি করা হবে; তা ঠিক করা। হজরত উমর (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘কাজ (এর প্রাপ্য হবে) নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফলন পাবে।’ সহিহ বোখারি : ১

পূর্বপরিকল্পনা

রমজানের আগে কাজের একটি তালিকা তৈরি করা। কায়িক পরিশ্রমের কাজ কমিয়ে ফেলা, সম্ভব হলে গুটিয়ে নেওয়া। রমজানে পড়ার জন্য ধর্মীয় বই সংগ্রহ করা। পরিবারের সঙ্গে রমজান কাটানোর ব্যাপারে পরামর্শ করা। সম্ভব হলে, শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের ইচ্ছা করে, অথচ এখনো সে তা পূর্ণ করেনি, তথাপি তার জন্য একটি নেকি লেখা হবে। যদি সে ওই কাজটি করে ফেলে, তাহলে তার জন্য দশ থেকে সাতাশ; বরং অগণিত নেকি লেখা হবে।’ সহিহ মুসলিম : ২৩৫

নামাজে মনোযোগ বৃদ্ধি

রমজানের প্রথম দিন থেকে নামাজ শুরু করব, এমন চিন্তা মাথা থেকে ছুড়ে ফেলুন। এখনই নামাজে মনোযোগী হোন। জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় আবশ্যকীয় করে নিন। আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই মুমিনরা সফল হয়েছে। যারা নিজেদের নামাজে বিনয়াবত। আর যারা অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিমুখ।’ সুরা মুমিন : ১-৩

ফাজায়েল ও মাসায়েল শিক্ষা

রমজানের ফাজায়েল ও মাসয়ালার বই পড়–ন। কোন কাজ করা যাবে আর কোন কাজ করা যাবে না সে সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করুন। রমজানের ফজিলত নিয়ে আলোচনা করুন। ফাজায়েল জানলে আমল করতে সুবিধা হবে। ইসলামের মাসয়ালা সম্পর্কে জ্ঞাত এমন নির্ভরযোগ্য ইমাম, আলেমকে জিজ্ঞেস করুন। হজরত রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’ বোখারি : ৫০২৭

গোনাহ পরিত্যাগ

গোনাহের কাজ পরিত্যাগ করা। গোনাহের কাজে ডুবে থাকলে রমজানের বরকত থেকে বঞ্চিত হবেন। গোনাহ করতে করতে রমজানে প্রবেশ করলে, রমজানের বরকত লাভ হবে না। এখনই আত্মশুদ্ধি অর্জনের চেষ্টা করুন। রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখুন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য গোনাহ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই যারা গোনাহ করে, অচিরেই তাদের তাদের কৃতকর্মের বদলা দেওয়া হবে।’ সুরা আনআম : ১২০

কোরআন তেলাওয়াত

রমজানের আগেই কোরআন তেলাওয়াত শুরু করুন। কোরআন পড়তে না জানলে, আলেমের কাছে গিয়ে শিখুন। যারা নিয়মিত তেলাওয়াত করতেন, বাড়িয়ে দেন। রমজানে একাধিক কোরআন খতম দেওয়ার চিন্তা করুন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে, এ লেবুর মতো যা সুস্বাদু এবং সুগন্ধযুক্ত। আর যে ব্যক্তি কোরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে, এমন খেজুরের মতো, যা সুগন্ধহীন, কিন্তু খেতে সুস্বাদু। আর ফাসেক ব্যক্তি কোরআন পাঠ করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে রায়হান-জাতীয় লতার মতো, যার সুগন্ধ আছে, কিন্তু খেতে বিস্বাদ। আর ওই ফাসেক যে কোরআন একেবারেই পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ওই মাকাল ফলের মতো, যা খেতেও বিস্বাদ এবং যার কোনো সুগন্ধও নেই।’ সহিহ বোখারি : ৫০২০

গরিব-অসহায়ের পাশে দাঁড়ান

গরিব, মিসকিনদের খোঁজখবর নিন। সাধ্যমতো দান-সদকা করুন। রমজানের প্রস্তুতি নিতে তাদের সহযোগিতা করুন। তাদের ইফতার ও সাহরির ব্যবস্থা করুন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মহান আল্লাহ বলেছেন, হে আদম সন্তানরা, তোমরা অকাতরে দান করতে থাকো, আমিও তোমাদের ওপর ব্যয় করব। নবী (সা.) আরও বলেন, আল্লাহর ডান হাত প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ। রাত-দিন অনবরত ব্যয় করলেও তা মোটেই কমছে না।’ সহিহ মুসলিম : ২১৯৮

আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান

মুসলমানদের মধ্যে রমজানের ফজিলত ও যেসব কাজ শরিয়তে নিষিদ্ধ সে সম্পর্কে আলোচনা করুন। সম্ভব হলে মহল্লার মসজিদে নির্ভরযোগ্য আলেম এনে রমজানের গুরুত্ব, ফজিলত ও আমল সম্পর্কে সেমিনার করুন। পরিবারে রমজানবিষয়ক সচেতনতা তৈরি করুন। বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশীকে আল্লাহর পথে ডাকুন। আল্লাহ বলেন, ‘আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ সুরা হামিম আস সাজদা : ৩১

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত