ছাত্রলীগ নেত্রীর কান্নায় তোলপাড়

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:১২ এএম

লক্ষ্মীপুরে ‘ফেইসবুক লাইভে’ এসে এক ছাত্রলীগ নেত্রীর কান্নাকাটির ঘটনায় জেলাজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। গত শনিবার দুপুরের পর ফেইসবুক লাইভে এসে টানা ২১ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে কান্নাকাটি করে বক্তব্য দেন রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা রিপা। ওইদিন উপজেলা শিক্ষক সমিতির একটি অনুষ্ঠান চলাকালে তাকে মঞ্চ থেকে জোর করে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে ফেইসবুক লাইভে কান্নাকাটি করেন ছাত্রলীগের এই নেত্রী। তবে রিপার এই কান্নাকাটিকে নিছক পাগলামি বলে অবহিত করেছে রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগ নেত্রী রিপা ফেইসবুক লাইভে বলেন, ‘আমি ফাতেমা রিপা, একমাত্র নেত্রী যে কিনা উপজেলার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ দলীয় সব কার্যক্রমে অংশ নিই। অথচ দলীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে আমি বঞ্চিত। কেন আমাকে এভাবে অপমানিত করা হবে? বারবার স্টেজ থেকে আমাকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বসার জায়গা না দিক, আমি প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে থাকব। আমি ছাত্রলীগ করি, আমার দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস আছে। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন স্টেজ থেকে নামিয়ে দেওয়ার মতো অপমান আর কোনো কিছুতে নেই।’ এসব কথা বলার সময় বারবারই কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন রিপা।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সময় সকালে বের হতাম, ফিরতাম সন্ধ্যায় প্রচার-প্রচারণা শেষ করে। খাওয়া-দাওয়ার দিকেও তাকাতাম না। উপজেলাতে (উপজেলা পরিষদে) কোনো প্রোগ্রাম হলেও আমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার কখনো করেনি কেউ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক তারা আমাকে বোনের মতো স্নেহ করেন, অথচ উপজেলার প্রোগ্রামগুলোতে আমাকে বারবার অপমান করা হয়।’

গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত রিপার ফেইসবুক আইডিতে তার লাইভে দেওয়া বক্তব্য দেখা গেছে এবং তা এক হাজার বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। লাইভে দেওয়া তার এই বক্তব্য এরই মধ্যে জেলার ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের মাঝে ভাইরাল হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল হাসান ফয়সাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা নিছকই পাগলামি। কারণ এটা ছিল শিক্ষকদের প্রোগ্রাম। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অত্র আসনের এমপি মহোদয় আনোয়ার হোসেন খাঁন শিক্ষক সমিতির নেতারা ও দলের সিনিয়র নেতাদের ছাড়া সবাইকে স্টেজ থেকে নেমে যেতে বলেন। তখন আমরা সবাই স্টেজ থেকে নেমে গেছি। কিন্তু রিপা না নামায় সেখানে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।’

জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জিয়াউল করীম নিশান বলেন, ‘আমি রিপাকে ডেকে ঘটনাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। কেন এমনটা ঘটল তা জেনে আমরা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করে দেব।’

গত শনিবার রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংসদ আনোয়ার হোসেন খাঁনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেত্রী রিপাকে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার জন্য বলার কিছুক্ষণ পরই তিনি ফেইসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি করে বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত