সাড়ে ৬ বছরেও নির্মাণ হয়নি রেলওয়ে ওভারপাস

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৩, ০১:০৭ পিএম

জামালপুর পৌর শহরের গেটপাড় এলাকার যানজট নিরসনে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণপ্রকল্প হাতে নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সাড়ে ৬ বছর ধরে শহরের প্রধান সড়কে চলছে নির্মাণকাজ। এ প্রকল্পে চতুর্থবারের মতো কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। এমন কথাই জানান প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। এ পর্যন্ত প্রকল্পের মাত্র ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে ওভারপাস প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

এদিকে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। শহরের প্রধান সড়কে বছরের পর বছর নির্মাণকাজ চলায় ভোগান্তিতে পড়েছে শহরবাসী। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই জনসাধারণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে রেলওয়ে ওভারপাসটি শহরের একমাত্র বাণিজ্যিক এলাকায় হওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় কাজটি শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।

জামারপুর সড়ক ও জনপথ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ট্রেন চলাচলের কারণে জামালপুর পৌর শহরের প্রধান সড়কের গেটপাড় এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লাগে থাকে। এ যানজটের দুর্ভোগ দূর করার জন্য ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সড়ক ও জনপথ বিভাগ রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্প শুরু করে। এতে সাড়ে ৬ বছর কেটে গেছে। এ সময়ের মধ্যে রেলওয়ে ওভারপাস প্রকল্পে ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। রেলওয়ে ওভারপাস প্রকল্পে ২১১ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৪২৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ প্রকল্পে ৭৮০ মিটার ওভারপাসসহ দুই পাশে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ৩৫৯ কোটি টাকা প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে। এ প্রকল্পটি চতুর্থবার মতো মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী জুন পর্যন্ত করা হয়েছিল। তবে আগামী জুনে প্রকল্পের কাজটি শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সড়ক ও জনপথ বিভাগ আবারও আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করবেন।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, এ রেলওয়ে ওভারপাসটি ৭৮০ মিটার। এ ওভারপাসের দুই পাশে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হবে। এতে ৬৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তমা কনস্ট্রাকশন, মেসার্স জামিল ইকবাল ও মেসার্স মইন উদ্দিন বাঁশি যৌথভাবে কাজটি শুরু করেন। ২০২০ সালের জুনে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে পারেনি। পরে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর শহরের গেটপাড় এলাকায় ওভারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে। ওভারপাস নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। শুধু রেললাইনের ওপরের অংশের ছাদের ঢালাই বাকি। রাস্তা ও অ্যাপস সড়কের কাজ শুরুই হয়নি। দুই পাশের সড়কে খানাখন্দে ভরা। বড় বড় গর্ত আর ভাঙার কারণে যানবাহন আস্তে আস্তে চলাচল করছে। বিভিন্ন স্থানে কাদা ও পানি জমে রয়েছে। গেটপাড়ের পশ্চিম অংশে পানি জমে রয়েছে। দেখে মনে হবে যেন বিশাল একটি ডোবা। নির্মাণকাজের জন্য আশপাশে যানজট লেগে আছে। ওভারপাস নির্মাণের জায়গা রেখে, দুই পাশ দিয়ে ছোট্ট সড়কে যানবাহন চলাচল করছে। সড়কের মধ্যে বালি, পাথর, ইট রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় সেখান দিয়ে হাঁটাও কষ্টকর। সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমে। প্রকল্পের ধীরগতি ও তীব্র যানজটের কারণে শহরবাসী এখন চরমভাবে ক্ষুদ্ধ। ওভারপাস এখন শহরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় তত্ত্বাবধায়ক শরিফুল ইসলাম বলেন, 'মাত্র দেড় বছর সময়ের কাজ। এ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে এখনো শেষ করতে পারিনি। এখানে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই।'

জামালপুরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পংকজ ভৌমিক বলেন, 'কাজের ধীরগতির কারণে জনদুর্ভোগ হচ্ছে। এ কাজে আমাদের কোনো তদারকির অভাব নেই। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে কাজে ধীরগতি হয়েছে। জায়গা না পাওয়া গেলে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করবে কিভাবে। ভূমি জটিলতার বিষয়টি সমাধান হয়েছে। তবে জুনের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করা হবে। প্রকল্পের মূলকাজ ওভারপাস, সেটার কাজ প্রায় শেষের দিকে। তবে দুইপাশের সড়কের কোনো কাজ শুরু হয়নি। ভুমি অধিগ্রহণের টাকার জন্য প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। এ প্রকল্পে ৩৫৯ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ব্যয় হয়েছে।'

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত