চেক ফেব্রিকস ছোট-বড় সব বয়সেই মানিয়ে যায়। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের পোশাক হিসেবেও চেক বেশ জনপ্রিয়। শার্ট, টপস থেকে শুরু করে সব ধরনের পোশাক এই প্যাটার্নে করা যায়। একেকটি চেক প্যাটার্ন একেক ধরনের পোশাকের জন্য উপযুক্ত। লিখেছেন মোহসীনা লাইজু
চেকের ধরন
চেকের হাউন্ডসটুথ ফেব্রিকস প্যাটার্নে অসমান। এই ধরনের চেক প্যাটার্ন দেখতে হাউন্ডের দাঁতের মতো। সাধারণত সাদা-কালো রঙের হলেও এখন নানা রঙের চেক দেখা যায়। এই প্যাটার্নে ভারী টুইল কাপড়ের ওভারকোট বা জ্যাকেট হয়। হ্যাট ও ব্যাগ তৈরির ফেব্রিকসেও এই প্যাটার্ন ব্যবহার করা হয়। গ্লেন চেক হলো ক্রিসক্রস। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্যুট-টাই, হ্যাট ও স্পোর্টস জ্যাকেটে এই চেক দেখা যায়। জানালার শার্সির মতো চারকোনা আকৃতির চেক হলো উইন্ডোপেন চেক। এটি গ্লেন চেকের মতো ক্ল্যাসিক এবং ক্যাজুয়াল, তবে বেশি বোল্ড।
উইন্ডোপেন ফরমাল শার্টের প্যাটার্ন হলেও এখন অনেক স্যুটেও ব্যবহৃত হচ্ছে। গিংহ্যাম খুব হালকা সুতি চেক কাপড়। এর চেক দেখতে অনেকটা ছোট ছোট সমান ছকের মতো। দেখলে মনে হয় সাদা ক্যানভাসে একই রঙের হালকা ও গাঢ় শেড দিয়ে ছক কাটা। গরমের সময়ে চেক শার্ট সাধারণত গিংহ্যাম ফেব্রিকসের প্যাটার্নেই বেশি দেখা যায়। ওভারকোট, মেয়েদের টপে বাফেলো চেকের ব্যবহার বেশি। এটাও গিংহ্যামের মতো দুই রঙের চেক। বাফেলো চেক লাল-কালোর মতো বেসিক রঙে হয়। অনেক বেশি ছোট আকারের প্যাটার্ন এমন ধরনের চেককে মিনি চেক বলে। মিনি চেক বেশি দেখা যায় স্যুট, মিনি বা লং ফরমাল স্কার্টে। মাদ্রাজ চেক হলো প্লেইড, গ্লেন, গিংহ্যাম অথবা উইন্ডোপেনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ মিশ্রণ। সামার ট্রাউজার, শর্টস বা সামার জ্যাকেটে এই প্যাটার্ন বেশি ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এই সময়ে ছেলে ও মেয়েদের মাদ্রাজ চেকের পোশাকই বেশি পরতে দেখা যাচ্ছে।
জনপ্রিয়তা
চেকের পোশাক জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ এর উজ্জ্বল বর্ণিল রং এবং পরতে আরামদায়ক। এতে লাল, সবুজ, হলুদ, মেরুন, কালো, নীলসহ উজ্জ্বল সব রং ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে অনেক রং ব্যবহারেরও সুযোগ থাকে। চেক কাপড়ের ডিজাইনে রঙের আধিক্য থাকে। কখনো ঝুড়ি চেক, কখনো আড় চেক, কখনো বা বড় চেক। প্রাকৃতিক রংগুলোই চেক কাপড়ে বেশি ব্যবহার হয়। অনেক সময় সেলফ মোটিফ বুনন চেকও দেখা যায়। এই ধরনের ফেব্রিকস দিয়ে সাধারণত অফিশিয়াল শার্ট তৈরি হয়।
দেশীয় প্রায় সব ফ্যাশন হাউজগুলোতে চেকের পোশাক পাওয়া যায়। মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, লং ড্রেস, টপ, ফতুয়া, শাড়ি সবই তৈরি হচ্ছে চেক কাপড়ে। ছেলেদের শার্ট, ফতুয়া এমনকি পলো শার্টেও নানা ধরনের চেক দেখা যায়। মেয়েদের পছন্দ নীল, হলুদ, গোলাপি, লালের মতো উজ্জ্বল রঙের চেক। ফ্যাশন ব্যান্ড ইজির পরিচালক ও চিফ ডিজাইনার তৌহিদ চৌধুরী বলেন, ‘চেকের শার্টের প্রতি সব বয়সীদের আগ্রহ রয়েছে। এছাড়া আরামদায়ক ও রঙের বৈচিত্র্য রয়েছে। যার ফলে চেক কাপড়ের ব্যবহার ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। চেক ফেব্রিকস সুতির হওয়ায় পরতেও আরাম।’
চেক কাপড়ের মধ্যে নানা ধরনের ডিজাইনও পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে ফ্যাশন ব্যান্ড ভূমির স্বত্বাধিকারী ও চিফ ডিজাইনার মঈন উদ্দিন ফুয়াদ বলেন, ‘চেক ফেব্রিকসের মধ্যে নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্টও করা হচ্ছে। কেউ কেউ চেকের কাপড়ের মধ্যে সুতার হালকা কাজ করছেন। কেউ কেউ চেক ফেব্রিকসের বর্ডারে ক্রুশকাঁটার লেইস বসিয়ে দিচ্ছেন। আবার চেক ফেব্রিকসে ডাই, বাটিক ও ব্লকের নকশাও হচ্ছে। তবে আরামদায়ক হওয়ায় এবং ক্যাজুয়াল ফরমাল দুটো লুকে মানিয়ে যায় বলে প্লেন চেকের ছেলে ও মেয়ে উভয়ের শার্টই জনপ্রিয়।’
ডিজাইন বৈচিত্র্য
নানাভাবে চেকের কাপড় ব্যবহার হচ্ছে। এখন চেকের বডিফিটেড শার্টই চলছে। আবার সামনে বাটন লাইন যোগ করে একপাশে একটা পকেট দিয়ে লং ফ্রকও তৈরি করছেন কেউ কেউ। চাইলে মেয়েরা শর্ট টপ ও ফতুয়াও পরতে পারেন। ছেলেদের ক্যাজুয়াল ফরমাল শার্টের পাশাপাশি একরঙা চেকের মাঝারি লেন্থের পাঞ্জাবিও পরতে দেখা যায। বয়স্কদের জন্য লুজ ফিটিং শার্টের পাশাপাশি ফতুয়াও ভালো মানাবে। কারও পছন্দ একরঙা ওড়না, কামিজ আর চেকের সালোয়ার। আবার কারও পছন্দ চেকের কামিজ, ওড়না-সালোয়ার একরঙার সঙ্গে আবার মোটা চেকের বর্ডার। সুতি চেক কাপড়ের তৈরি পোশাকের আছে আলাদা নকশার ধরন। গোল অথবা আবার আর চেক কাপড়ে ঘটিহাতা বেশ ভালো লাগে। তবে কেউ না পরতে পারলে ম্যাগি অথবা কাপ্তান হাতা পরতে পারেন। চেকের কামিজ ও ফতুয়ায় কোমরে বেল্ট বাঁধাটাও চলছে। শুধু চেকের পোশাক পরলেই তো হলো না। সঙ্গে অন্যান্য আনুষঙ্গও মিলিয়ে নিতে পারেন। ব্যাগ, ওড়না, স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন অনুষঙ্গ পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরতে পারেন। চেক পোশাকের সঙ্গে সলিড রং মিলিয়ে পরলে ভালো দেখায়।
দরদাম
চেকের পোশাক দেশীয় প্রায় সব ফ্যাশন হাউজে পাবেন। এর মধ্যে ফ্যাশন ব্যান্ড গ্রামীণ চেক-এ পাবেন চেকের সব রকমের পোশাক। আর এদের পোশাক ও গজ কাপড় দুটোরই দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। প্রতি গজ কাপড় পাবেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। ছেলে ও মেয়েদের শার্ট ও ফতুয়া পাবেন ৫৯০ থেকে শুরু করে ১২০০ টাকার মধ্যে। ছেলেদের পাঞ্জাবি পাবেন ৮০০ টাকায়। মেয়েদের কুর্তা পাবেন ৬৭০ থেকে শুরু করে ১৩৫০ টাকার মধ্যে। সালোয়ার-কামিজ পাবেন ১৫০০ টাকা থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে। ছোট মেয়েশিশুদের ফ্রক পাবেন ৫৫০ টাকায়। ছেলে শিশুদের ফতুয়া ৪০০ টাকা আর নবজাতকের বেবি সেট পাবেন ৩০০ টাকায়।
