আমাদের পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে জুতাও হয়ে উঠছে ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ। বয়স, দেশ-কাল, ভেদে জুতার রয়েছে বাহারি ডিজাইন ও রং। শুরুতে যে জুতা মানুষের পায়ের নিরাপত্তার অংশ ছিল। এখন পোশাকের রং, ধরন ও উপলক্ষ অনুযায়ী নানা ধরনের জুতা থাকছে সংগ্রহে। এর মধ্যে কোনোটা বেড়ানো, কোনোটা ক্লাস-অফিস-আদালতের জন্য। কোনো জুতা নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানগুলোর জন্য তুলে রাখা।
মেয়েদের জুতা
শীতে মেয়েদের চাহিদা থাকত ব্যালেরিনা জুতার। কয়েক বছর থেকে মেয়েদের শীতের জুতায় এসেছে নানা পরিবর্তন। এখনকার মেয়েরা শাড়ি, কুর্তা কিংবা টপের সঙ্গে স্যান্ডেলের পরিবর্তে কনভার্স, স্নিকার্স ও কেডস পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। দেশীয় বা ওয়েস্টার্ন যেকোনো পোশাকের সঙ্গে কনভার্স পছন্দের শীর্ষে থাকছে। শীতের জুতা বলতে মেয়েদের পায়ে উঠছে রং-বেরঙের স্নিকার্স, লোফার ও কেডস। এ ছাড়া বুট জুতাও পরছেন। কেডসের মধ্যে ফ্লাট সোল যেমন আছে, তেমনি বুট স্টাইলের ‘হাইনেক’ কেডসও আছে। মেয়েদের জন্য এসব জুতা আলাদাভাবে তৈরি হয়েছে। জুতায় লেদার, আর্টিফিশিয়াল লেদার, রেক্সিন, কনভার্স ও ডেনিমের ব্যবহার হচ্ছে। রঙের ক্ষেত্রে গাঢ় ও হালকা দুটোই আছে। আরও আছে প্রিন্টের স্নিকার্স। নকশা হিসেবে গ্লিটার, এমব্রয়ডারি, কারচুপি। কেডস ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে পরতে হয় এই ভাবনাও বিদায় নিয়েছে। এখন টপ, সালোয়ার-কামিজ এমনকি শাড়ির সঙ্গেও মেয়েরা স্নিকার্স কনভার্স ও কেডস পরছেন।
ছেলেদের জুতা
ছেলেদের জুতার মধ্যে স্যালাইট, বুট, কনভার্স, স্নিকার্স জনপ্রিয়। জুতার মধ্যে সাদা ও কালো রঙের কনভার্স, স্নিকার্স বেশি পরতে দেখা যায় এই শীতে। শীতে স্নিকার্স, হাইকাট জুতা, বুট, স্পোর্টস জুতা, ওয়াশঅ্যাবল জুতাই বেশি কিনছেন মানুষ। তরুণদের জন্য আছে কালারফুল স্নিকার্স আর হাইকাট জুতা ও বুট। বসুন্ধরা সিটিতে জুতা কিনতে আসা শিক্ষার্থী রাতুল আহম্মেদ জানালেন, ‘শীতে পা ঢাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ফ্যাশনও জরুরি। তাই সেমি ফরমাল জুতা কিনব।’ বাটায় ছেলেদের জন্য ফরমাল, সেমি-ফরমাল, ক্যাজুয়াল দুই ধরনের জুতা আছে। সঙ্গে আছে বুটও। হাঁটা ও বেড়ানোর জন্য আলাদা নকশা। বাটার অধিকাংশ ক্যাজুয়াল জুতায় ব্যবহার করা হয় আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় অর্থোলাইট ফোম; যা আরামদায়ক তো বটেই, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানে তৈরি হয়। ফলে জুতার ভেতর দুর্গন্ধ বা ছত্রাকের আক্রমণ এড়ানো যায়। ব্র্যান্ডের ও নন-ব্র্যান্ডের ছেলেদের জুতায় রঙেরও আছে নানা বৈচিত্র্য। হালকা রং সাদা, ছাইয়ের পাশে গাঢ় রং নেভি-ব্লু, রেড, সি গ্রিন বেশি দেখা যাচ্ছে। নকশায় যেমন কমফোর্টেবল হাইনেক আছে, তেমনি আছে ফলস ফিতা। হোয়াইট সোলে রং-বেরঙের স্নিকার্সও পাবেন।
কোথা থেকে কিনবেন
জুতা এবং স্যান্ডেলের দাম নির্ভর করে ডিজাইন, ব্যবহার ম্যাটেরিয়াল এবং পণ্যের গুণগত মানের ওপর। লিবার্টি, বাটা, গ্যালারি এপেক্স, জেনিস, হাস পাপিজ, স্পার্ক গিয়ারের মতো ব্র্যান্ডগুলোর জুতো আমাদের দেশে পাওয়া যায়। এসব ব্যান্ডের অরিজিনাল জুতা যেমন পাবেন তেমনি পাবেন রেপ্লিকা। যার অধিকাংশই চায়না এবং লোকাল মার্কেটগুলোতে তৈরি হয়। দাম অনুযায়ী মান একদম খারাপও না। ঢাকায় বিভিন্ন রকম জুতার বড় কালেকশন রয়েছে এলিফ্যান্ট রোডসহ নিউ মার্কেট, মিরপুর-১০, বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে।