মাদকের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি নিজেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দেবেন। এমনকি সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলেও ঘোষণা দেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে, কিন্তু গোলাবাড়ি কেন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না? সেখানে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তার করলে কেউ হয়তো অখুশি হবে—এমন চিন্তা করে বসে থাকলে চলবে না।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উদ্দেশে তিনি বলেন, গোলাবাড়ির মূল অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করুন। ডিসি সাহেব ও এসপি সাহেব, আপনারা যদি ব্যবস্থা নিতে পারেন, নিন। না হলে বাকিটা আমি দেখব। প্রয়োজনে গোলাবাড়িতে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে লংমার্চ করব।
মাদকের পাশাপাশি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও নিজের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো আপস হবে না। সরকার যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তিনি সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইউমুল হক রিংকুর উদ্দেশে সংসদ সদস্য প্রশ্ন তোলেন, হত্যা ও মাদক মামলাসহ ৩৫টি মামলার আসামি কীভাবে জামিন পায়? এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ আরও কঠোর করার জন্য তিনি তাগিদ দেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিজিবির সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইউমুল হক রিংকু, অধ্যক্ষ শরীফুল ইসলাম, লাকসাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সনদ বড়ুয়া, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় এবং আদর্শ সদর ইউএনও ফাতেমা তুজ জোহরাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ