শেষ মুহূর্তে গৃহিণীর প্রস্তুতি

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৩, ১২:০৩ এএম

ঈদ মানেই আনন্দ আর খাওয়া-দাওয়ার মহোৎসব। বাড়ির গৃৃহিণীর ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় কয়েক দিন আগে থেকেই। নিজের রান্না করা খাবার সুস্বাদু ও মুখরোচক করে সবাইকে চমকে দিতে। আর এই রান্নার জোগাড়যন্ত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গৃহিণীরা। এই আয়োজনের প্রস্তুতি কেমন হবে জানালেন মোহসীনা লাইজু

রান্নাঘর : মসলার তাক, বয়াম সব পরিষ্কার করে নিন। সেগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখুন। ঈদের আগেই প্রয়োজনীয় মসলা ব্লেন্ড করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এতে করে ঈদের দিনের সময় কম লাগবে। আগে থেকেই মাংসের মসলা, বিরিয়ানির মসলা ও চটপটির মসলা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। মাংসের পদ ছাড়া ঈদের জন্য বিশেষ যে পদ রান্না করতে চান, তা ঈদের আগের দিনই রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। মিষ্টি পদ কিংবা মুরগির রোস্ট করতে চাইলে সেগুলো ঈদের আগেই রান্না করে নিলে ঈদের দিনে আপনার কষ্ট কমবে। ফ্রিজে রাখা অতিরিক্ত জিনিসগুলো ব্যবহার করে ফেলুন, ফ্রিজ যতটা সম্ভব খালি করে রাখুন, যাতে এই গরমে ঈদের রান্না সহজেই ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন। ডিনার ওয়াগন ও কিচেন কেবিনেট থেকে প্রয়োজনীয় তৈজস আগে থেকে  বের করে ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। যদি মনে হয় কিছু বাসনকোসন না হলেই নয়, তাহলে তা দু-একদিনের মধ্যেই কিনে ফেলুন। রাইস কুকার, প্রেশার কুকার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় হাঁড়িপাতিলগুলো হাতের নাগালে রাখুন। ফ্রিজ ও ওভেন ঠিকঠাক আছে কি না, তা ঈদের আগেই পরখ করার পাশাপাশি পরিষ্কার করে নিতেও ভুলবেন না। এ কাজগুলো আগে থেকে করে রাখলে ঈদের দিন হাতে অনেক সময় থাকবে। ঈদে অনেক ধরনের রান্না করতে হয় তার জন্য প্রয়োজন হয় নানা রকম মসলার। বাজারের ফর্দ করে মসলা পাতি কিনে ফেলতে পারেন। প্রয়োজনে সুপার শপ বা পাইকারি বাজারেও ঢুঁ মারতে পারেন। কেনাকাটা শেষে রান্নাতে প্রয়োজনীয় জিনিসের একটিও যেন লিস্ট থেকে বাদ না পড়ে মিলিয়ে নিন।

বাসনকোসন : নতুন পোশাকের মতো অনেকেই ঈদের বাসনকোসনে একটু নতুনত্ব ও পরিবর্তন চান অনেক গৃহিণীই। এ সময় অতিথি আপ্যায়নে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সিরামিক ও মেলামাইনের বাসনকোসন। আজকাল একেক ধরনের খাবার পরিবেশনের জন্য একেক ধরনের বাসনের চল। তাই কেমন  মেনু থাকবে ঈদের দিন, সেটা ভেবেই বাসনকোসন গুছিয়ে কিংবা কিনে নিতে পারেন। খাবার টেবিলের বৈচিত্র্য বাড়াতে আজকাল হালকা নীল বা হলুদ, কমলা, লাল রঙের বাসন ব্যবহারের চল দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে খাবার ঘরের আলো ও সাজের সঙ্গে মিলিয়ে ঈদের ক্রোকারিজ ঠিক করে রাখুন। চাইলে মিক্স-ম্যাচ করেও বাসনকোসন নিতে পারেন। যেমন ছয়জনের টেবিলে তিনটি হলুদ আর তিনটি লাল রঙের প্লেট হতে পারে। ডাইনিং রুমের দেয়াল বা টেবিল রানারের সঙ্গে মিলিয়ে পছন্দ করতে পারেন খাবার পরিবেশনের সরঞ্জাম।

সিরামিকের বাসনপত্রে নতুন নতুন ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। এই যেমন খাবারের  প্লেট, বাটি ও মগে উঠে এসেছে জামদানির নকশা, রিকশা পেইন্ট, হ্যান্ডপেইন্ট। থালা, বাটি, গ্লাস বা কাপে দেখা গেছে বৈচিত্র্য। সেই গতানুগতিক গোল থালা আর নেই। চায়ের কাপও রূপ বদলেছে।  গোলাকৃতির ভেতরের দিকে দাবানো রাইস বোলগুলোর চল থাকলেও বর্তমানে খানিকটা ছড়ানো ডিশের চল আছে। এ ধরনের ডিশগুলোতে সবকিছুই পরিবেশন করা যায়। সিরামিক ও মেলামাইনের বাসনের রঙেও এসেছে পরিবর্তন। চিরায়ত সেই সাদা বা চাপা সাদার বদলে এখন অনেকে পছন্দ করছেন উজ্জ্বল রঙের প্লেট ও বাটি। বাসনে এখন দেখা যাচ্ছে লাল, কমলা, হলুদ, নীলের মতো উজ্জ্বল শেড। আগে একটা টেবিলে ছয়টা প্লেট থাকলে সব কটিই হতো একই রং আর নকশার। সেই ধারা এখন আর  নেই। ছয়টা প্লেটে থাকতে পারে ছয় ধরনের রং। গ্লসি বা ম্যাট ফিনিশ দুই রকমেরই পাওয়া যাচ্ছে ডিনার সেটগুলো।

মসলাপাতি : ঈদের বাহারি খাবার বানাতে অনেক কিছুই প্রয়োজন। যা সচরাচর অনেক সময় ঘরে থাকে না। এসবের মধ্যে আছে শুকনা মাসরুম, ভ্যানিলা, স্ট্রবেরি, লাচ্ছা সেমাই, স্ট্রবেরি স্বাদে ইসেন্স, ফুড কালার হলুদ, ওরিগেনো, বুটের বেসন, নারিকেল দুধ ক্যান, তেঁতুল, ভিনেগার, সিজনিং সস, থাই কর্ন সিরাপ, কর্ন ফ্লাওয়ার, কুলসন লাচ্ছা সেমাই, তিল, কারি পেস্ট, ব্রেডক্রাম্ব, রেড কাউ বাটার ওয়েল কিনে রাখুন।

মসলাপাতির মধ্যে জিরা গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, হিং গুঁড়া, সাদা গোলমরিচ গুঁড়া, বিট লবণ, জয়ত্রী গুঁড়া, দারুচিনি, এলাচি, তেজপাতা, লবঙ্গ, পাঁচফোড়ন, কালো আস্ত মরিচ, কালোজিরা, ধনিয়া, মেথি, শাহী জিরা, দারুচিনি পাউডার, আস্ত জয়ফল, আজওয়াইন, সাদা গোলমরিচ, কালো এলাচ, মিষ্টি জিরা, জয়ত্রী, কাবাব চিনি, পোস্ত দানা, শুকনা মরিচ, গরম মসলা, আদা, পাপরিকা গুঁড়া, কাশ্মীরি মরিচ গুঁড়া, ফ্রাই গোশত কারি, পার্সলে ফ্লেক্স বোতল, ওরিগেনো পিজা বোতল, রাজমা, চার মগজ, বার্বিকিউ মসলা, ফ্রট চাট মসলা, কালো তিল, রসুনের গুঁড়া, আদা, গোল মরিচ গুঁড়া, কাবাব চিনি, আলু বোখারা কিনে রাখতে পারেন। নানা ধরনের খাবার তৈরিতে এগুলো প্রয়োজন। বাজারে অনেক ধরনের রেডিমিক্স মসলা পাওয়া যায়। সময় ও ঝামেলা এড়াতে এগুলো কিনে রাখুন। বিশেষ করে যারা নতুন রাঁধুনি তাদের জন্য আরও বেশি প্রয়োজন। মাংসের মসলা, ফালুদা মিশ্রণ, জর্দা মি, মিক্স বম্বে বিরিয়ানি, চিকেন মসলা, টিক্কা বঁটি, মাটন বিরিয়ানি, শামি কাবাব, ক্ষীর মিক্স, চিকেন মাসালা, মাংসের তরকারি মসলা, তেহারি মসলা, আচার গোশত কারি, হালিম মসলা মিক্স, কোরমা কারি মিক্স। এ ছাড়া বাজার ঘুরে অনেক ধরনের মসলা পাবেন, যা আপনার খাবারের স্বাদকে বাড়িয়ে দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত