করোনা বাড়ছে : প্রয়োজন সচেতনতা

আপডেট : ২৩ জুন ২০২২, ১২:৫৫ এএম

হঠাৎ করে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে গেছে। এখনো পৃথিবী থেকে করোনা ভাইরাস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। যদিও টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এই ভাইরাস অনেকটা নিয়ন্ত্রিত, তবে এখনো ভাইরাস সারা পৃথিবীজুড়েই রয়েছে। সে কারণেই এখনো প্রয়োজন করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা।

অমিক্রন না ভিন্ন ধরন

করোনার অমিক্রন ধরনটি যাত্রা শুরু করে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। ডেল্টা ধরনের পর অমিক্রন সারা পৃথিবীতে তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে গেছে। অমিক্রন ধরনটিও সময়ের বিবর্তনে পাল্টে ফেলেছে তার রূপ। অমিক্রন-এর বেশ কয়েকটি উপধরন ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীজুড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে কোন উপধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে ধরন-উপধরন যাই হোক বাস্তবতা হলো করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে গত কয়েকদিন যাবৎ।

লক্ষণ

জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা, ঘ্রাণশক্তি হ্রাস, ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা, শরীরে ব্যথা এগুলো সবই হতে পারে করোনার আক্রমণে। বয়স্ক ব্যক্তিদের আরও বেশ কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে করোনার আক্রমণে। অস্বাভাবিক আচরণ, অসংলগ্ন কথাবার্তা এমনকি মূর্ছা যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে করোনার আক্রমণে। সুতরাং এই মুহূর্তে কেউ জ্বর এবং আনুষঙ্গিক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে অথবা চিকিৎসকের দুয়ারে উপস্থিত হলে অবশ্যই সর্বপ্রথম করোনা এবং ডেঙ্গু পরীক্ষা করে নিতে হবে। মনে রাখা দরকার করোনার পাশাপাশি বর্ষার মৌসুমে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ নগরীতে বৃদ্ধি পায়। সুতরাং এই দুটি ভয়ানক ব্যাধির হাত থেকে নিস্তার পেতে প্রয়োজন প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা।

করণীয়

বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। যথাসম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ কোনো কাজ না থাকলে ঘরের মধ্যে থাকাই শ্রেয়। নিয়মিত বিরতিতে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। হাঁচি-কাশির সময় অবশ্যই নাকেমুখে রুমাল ব্যবহার করতে হবে। অথবা মুখ-নাক এমনভাবে ঢেকে রাখতে হবে যাতে পরিবেশে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে। কারও করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে ভাইরাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করে নিতে হবে। করোনা আক্রান্ত হলে অবশ্যই তাকে ঘরের মধ্যে থাকতে হবে।

ঘরে বসেই চিকিৎসা নিন

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন। যথেষ্ট পরিমাণ পানীয়, শরবত, তরল খাবার গ্রহণ করুন। এ সময়ে প্রাপ্ত মৌসুমি ফল যেমন আম, লিচু, কাঁঠাল ইত্যাদিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা রোগপ্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সুতরাং পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলমূল এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। উপসর্গ অনুযায়ী করোনার চিকিৎসা করতে হবে। জ্বর-ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করুন। সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় যে কোনো ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে করোনার জন্য অ্যান্টিভাইরাস ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। এছাড়া রোগের তীব্রতা অনুযায়ী কিংবা আনুষঙ্গিক অন্যান্য ভয়ানক চিহ্নের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করুন। তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কিংবা অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। গর্ভবতী মা, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা যারা ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত তারা অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন।

করোনার টিকা

যারা এখনো বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেননি তারা তাদের বুস্টার ডোজ গ্রহণ করুন। বুস্টার ডোজ গ্রহণ করার পরেও অনেকে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন এ কথা সত্য। তবে টিকা প্রদানের কারণে করোনার ভয়াবহতা এবং মৃত্যুহার অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে সুতরাং ভয়াবহ করোনার হাত থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই টিকা গ্রহণ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত