২০ শতকের মাঝামাঝিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হন কৃষ্ণাঙ্গরা। তাদের নাগরিক অধিকার আদায়ে অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে জীবন উৎসর্গ করেন মার্টিন লুথার কিং। হয়ে ওঠেন সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা। লিখেছেন নাসরিন শওকত
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সংস্কারধর্মী সামাজিক আন্দোলনের নেতা ও বিশ্বনন্দিত বক্তা। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে তার হত্যাকা-ের (১৯৬৮ সাল) আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর, মার্কিন সমাজের বিচ্ছিন্ন ও নিপীড়িত বর্ণবৈষ্যমের শিকার আফ্রো-আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ এবং নাগরিক অধিকার বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করে গেছেন তিনি। মন্টোগোমারি বাস ধর্মঘট ও ১৯৬৩ সালের ওয়াশিংটন অভিমুখে মুক্তির পদযাত্রার (ফ্রিডম মার্চ) মতো গুরুত্বপূর্ণ সফল নাগরিক আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন লুথার কিং। এরপরই নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকারের মতো ঐতিহাসিক দুটি আইন পায় মার্কিন জনগণ।
১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারিতে জর্জিয়ার রাজধানী শহর আটলান্টার এক কৃষ্ণাঙ্গ যাজক পরিবারে জন্ম নেন কিংবদন্তি এই নেতা। মাইকেল কিং সিনিয়র ও আলবার্টা উইলিয়ামস কিংয়ের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ব্যাপ্টিস্ট যাজক, ধর্মপ্রচারক বাবা তার ছেলের নাম রাখেন মাইকেল কিং জুনিয়র। কিং জুনিয়রের যখন বয়স পাঁচ, ১৯৩৪ সালে বাবা যাজক হিসেবে এক মিশনে যান জার্মানিতে। সেখানকার বিখ্যাত সংস্কারক ও খ্রিস্টান সন্ন্যাসী মার্টিন লুথারের গুণে মুগ্ধ হয়ে। তাই বাড়ি ফিরেই মার্টিন লুথারের নামানুসারে ছেলের নাম রাখেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। সেই সঙ্গে নিজেরও নাম পাল্টে রাখেন মার্টিন লুথার কিং সিনিয়র।
শৈশব ও কৈশোর
তখন আটলান্টার আফ্রো-আমেরিকান অভিজাত কৃষ্ণাঙ্গদের সমৃদ্ধ পাড়া ছিল সুইট অবার্ন। বোন ক্রিস্টিন ও ছোট ভাই আলফ্রেড ড্যানিয়েলের সঙ্গে লুথার কিংয়ের শৈশবে বেড়ে ওঠা এই পাড়াতেই। শৈশবে ভীষণ দুরন্ত ছিলেন তিনি। বাবার কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন চলত বাড়িতে। সেজন্য তিন ভাই-বোনকে নিয়মিত জোরে সুর করে বাইবেল পড়তে হতো। অনথ্যা হলেই কপালে জুটত চাবুকের বাড়ি। তার দুরন্তপনা নিয়ে বাবা বলেছিলেন, ‘সে (কিং) ছিল খুব অদ্ভুত প্রকৃতির শিশু। যখনই তাকে চাবুক মারা হতো, তখন সেখানে সে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকত। তার গাল বেয়ে কান্নার ধারা বয়ে যেত কিন্তু কখনোই শব্দ করে কাঁদত না।’ কিং জুনিয়রের প্রিয় ছিলেন নানি জেনি। শৈশব ও কৈশোরে আত্মহত্যার প্রবণতা তাকে তাড়িয়ে বেড়াত। ছোটবেলায় ঘটনাচক্রে নানি জেনির অজ্ঞান হওয়া ও পরবর্তী সময়ে দাদির মৃত্যু তাকে অপরাধী করে তোলে। তিনি বাড়ির দোতলার জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুবারই ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।
ছেলেবেলা থেকেই ভালো ছাত্র হিসেবে সুনাম ছিল তার। সে-সময় বাড়ির পাশের এক শে^তাঙ্গ ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে কিং জুনিয়রের। ১৯৩৫-এর সেপ্টেম্বরে কিংয়ের যখন বয়স ছয়, তখন তাকে স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের জন্য পৃথক ইয়ং স্ট্রিট এলিমেন্টারি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হতে হয়। আর তার সেই খেলার সাথীকে ভর্তি হতে হয় শ্বেতাঙ্গদের জন্য নির্ধারিত স্কুলে। এরপর পাড়ার শ্বেতাঙ্গ ছেলেদের সঙ্গে খেলতে গেলেও বাধে বিপত্তি। তিনি কালো বলে খেলতে দেওয়া হতো না তাকে। শুধুমাত্র গায়ের রঙের জন্য এই বৈষম্য তার শিশুমনে গভীরভাবে দাগ কাটে। জর্জিয়ার দক্ষিণের এই জাতিগত বিচ্ছিন্নতা তখন তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের দিনের পর দিন সইতে হয়েছে। পরে বাবা-মায়ের কাছে জানতে পারেন, মার্কিন সমাজে বিদ্যমান দাসপ্রথা ও বর্ণবাদের দীর্ঘ ইতিহাস। কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের ঘৃণা, সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখোমুখি হওয়ার করুণ ইতিহাস পরবর্তী সময়ে তাকে শ্বেতাঙ্গদের প্রতি মানসিকভাবে বিদ্বেষী করে তোলে। কিন্তু বাবা-মায়ের দেয়া প্রতিটি মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা শেষ পর্যন্ত কিং জুনিয়রকে সেই বিদ্বেষ থেকে সরিয়ে আনে। তবে বাবাকে সব সময় নানা ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেখেছেন।
পড়াশোনা ও বিয়ে
১৫ বছর বয়সে তিনি ভর্তি হন বিখ্যাত মোরহাউজ কলেজে। স্বাস্থ্য ও আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। একসময় বিতর্ক দলে যোগ দেন এবং ভালো বিতার্কিক হিসেবে পরিচিত হন। এই সময়ে তিনি ফ্যাশন ও নাচের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফুটবলও খেলতেন।
ব্যাপ্টিস্ট পরিবারের সন্তান হয়েও বাবার মতো মিনিস্ট্রিতে যোগ না দিয়ে ধর্মতত্ত্ববিদ ও জাতিগত সমতার পরামর্শক ড. বেঞ্জামিন মেজ-এর অনুসারী হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৪৮ সালে মোরহাউজ কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানের ওপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পেনসিলভেনিয়ার ক্রোজার থিওলজিক্যাল সেমিনারিতে যোগ দেন এবং ডিভাইনিটি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি ও একটি সম্মানীয় ফোলোশিপ অর্জন করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং পড়া শেষ করে দু বছরের মধ্যে পদ্ধতিগত ধর্মতত্ত্বে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। এ সময়ই কোরেটা স্কটের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। কোরেটা মিউজিক স্কুলের তরুণ গায়িকা ছিলেন। ওই বছরই এই জুটি কোরেটা ও কিং জুনিয়র চার সন্তানের বাবা-মা হন।
অহিংস আন্দোলনের কান্ডারি
ক্রোজার থিওলজিক্যাল সেমিনারিতে পড়াকালীন জনক মহাত্মা গান্ধীর অহিংস মতবাদের নীতি তাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি সরাসরি জড়িয়ে পড়েন কৃষ্ণাঙ্গদের নাগরিক অধিকার আন্দোলনে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যেই তখন বাসের সামনের দিকে বসার অধিকার ছিল না কৃষ্ণাঙ্গদের। শ্বেতাঙ্গরা উঠলে সংরক্ষিত আসন ছেড়ে দেওয়ার নিয়ম ছিল। এই নিয়মকে কেন্দ্র করে ১৯৫৫ সালের শেষ দিকে মন্টোগোমারিতে শুরু হয় ঐতিহাসিক বাস ধর্মঘট, যা চলে টানা ৩৮১ দিন। রোজা পার্কস নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে হেনস্তা করা হয়। এর প্রতিবাদে লুথার কিং ও অন্য কৃষ্ণাঙ্গ খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা বাস সার্ভিস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। বাধ্য হয়ে ১৯৫৬ সালে বাসের এই বর্ণবিদ্বেষী ব্যবস্থাকে সংবিধান বিরোধী বলে ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। এর মধ্য দিয়ে বাসে শে^তাঙ্গদের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় কৃষ্ণাঙ্গদের। একই সময়ে লুথার কিং ও তার সতীর্থ কৃষ্ণাঙ্গ খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা মিলে ‘সাউদার্ন ক্রিশ্চিয়ান লিডারশিপ কনফারেন্স’ (এসসিএলসি) সংগঠনটি গড়ে তোলেন। যা অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রো-আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গদের পূর্ণ অধিকার আদায়ে কাজ করে। কিং জুনিয়র ছিলেন এই সংগঠনের আজীবন সভাপতি। পরে এসসিএলসির হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।
১৯৬০ সালের দিকে তিনি পরিবার সহ আটলান্টায় ফিরে আসেন ও বেনেজার ব্যাপ্টিস্ট চার্চে বাবার সঙ্গে সহ যাজক হিসেবে যোগ দেন। এদিকে বাস ধর্র্মঘট আন্দোলনে জয়ের পর লুথার কিং জুনিয়রের নামডাক ছড়িয়ে পরে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে। এই অহিংস আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে এগিয়ে আসেন কৃষ্ণাঙ্গ নেতারা। লুথার কিং যখন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ ও বঞ্চিতদের পক্ষে নাগরিক আন্দোলনের পথে হাটছেন, তার কয়েক বছর আগে (১৯৪৭ সালে) ভারতকে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত করতে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে গেছেন মহাত্মা গান্ধী। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের বৈষম্য দূর করার লড়াই করছেন আরেক বর্ণবাদবিরোধী কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। লুথার কিংয়ের নেতৃত্বে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বেশ জোরেশোরেই প্রতিবাদ জেগে উঠতে থাকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৩ সালে সরকারের নেওয়া বৈষম্যমূলক আইনের সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ঘোষণা করেন তিনি। এই দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শ্বেতাঙ্গদের সমান কৃষ্ণাঙ্গদের অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া, সর্বত্র কৃষ্ণাঙ্গদের প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং শিশুশ্রম বন্ধ করা।
লুথার কিং তখন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রধান মুখ। আর তার অহিংস আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন মহাত্মা গান্ধী ও পর্দার আড়ালে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের আরেক কৃষ্ণাঙ্গ নেতা বেয়ার্ড রাস্টিন। তখন অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে দুই মাস ধরে এ আন্দোলন চালিয়ে যান লুথার কিং জুনিয়র। ১৯৬৩ সালের ১২ এপ্রিল আলাবামায় এমনি এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ চলছিল। তখন পুলিশ সমবেত জনতার ওপর দমনমূলক নিপীড়ন চালায় এবং সেখান থেকে গ্রেপ্তার হন মার্টিন লুথার কিংসহ আরও অনেকেই। বার্মিংহাম জেলে থাকা ওই সময়ে লুথার কিং তার বিখ্যাত নাগরিক অধিকার ইশতেহারটি লেখেন, যা ‘লটার ফ্রম বার্মিংহাম জেল’ নামে পরিচিত। লুথার কিংকে গ্রেপ্তারের ঘটনা তখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া জাগায়। এরপর তিনি দেশজুড়ে মুক্তির পদযাত্রা বা ফ্রিডম মার্চ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। ওয়াশিংটন অভিমুখে শান্তিপূর্ণ ওই রাজনৈতিক পদযাত্রার উদ্দেশ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গরা বছরজুড়ে যেভাবে ন্যায়বিচার বঞ্চিত হন, তা সবার সামনে তুলে ধরা। আর দাবি ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের চাকরি ও মুক্তি।
১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট শুরু হয় ওয়াশিংটন অভিমুখে পদযাত্রা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওয়াশিংটন ডিসির লিংকন মেমোরিয়ালের সামনের অহিংস এই প্রতিবাদে জড়ো হন সাধারণ জনগণ, নাগরিক অধিকার আন্দোলনকর্মী ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর ২ থেকে ৩ লাখ মানুষ।
‘আমার একটি স্বপ্ন আছে’
সেদিন ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলের লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে লুথার কিং একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। শিরোনাম ছিল ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’। এই ভাষণটি পরবর্তী সময়ে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর মধ্যে স্থান পায়। সেই ভাষণে লুথার কিং তুলে ধরেছিলেন কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের কথা। বলেছিলেন, ‘ইতিহাস এই দিনটি মনে রাখবে, আমাদের জাতির ইতিহাসে মুক্তির মহান সমাবেশ হিসেবে। যতদিন না নিগ্রোরা তাদের নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারবে, ততদিন আমেরিকায় বিরাম ও শান্তি থাকবে না। যতদিন না ন্যায়ের দিন আসছে, ততদিন বিদ্রোহের ঘূর্ণিঝড় আমেরিকার ভিতকে কাঁপিয়ে দিতে থাকবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কোনো প্রাপ্তি নেই যতক্ষণ নিগ্রোরা পুলিশের বর্ণনাতীত নির্যাতনের শিকার হবে। বন্ধুরা, আমি আপনাদের বলছি, বর্তমানের প্রতিকূলতা ও বাধা সত্ত্বেও আমি আজও স্বপ্ন দেখি। আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন এই জাতি জাগবে এবং বাঁচিয়ে রাখবে এই বিশ্বাস আমরা এই সত্যকে স্বতঃসিদ্ধভাবে গ্রহণ করছি সব মানুষ সমান। আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন জর্জিয়ার লাল পাহাড়ে সাবেক দাস আর সাবেক দাস মালিকের সন্তানেরা ভ্রাতৃত্বের এক টেবিলে বসতে সক্ষম হবে। আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন মরুময় মিসিসিপি রাজ্য অবিচার আর নিপীড়নের উত্তাপে দম বন্ধ করা মিসিসিপি হয়ে উঠবে মুক্তি আর সুবিচারের মরূদ্যান। এই বিশ্বাস নিয়ে আমরা আজকের এই বেসুরো কোলাহল থেকে জন্ম দেব ভ্রাতৃবন্ধনের সুন্দরতম সংগীতের। এই বিশ্বাস নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করব, প্রার্থনায় মিলব একত্রে, একদিন আমরা মুক্ত হব এই জেনে, একসঙ্গে শামিল হব সংগ্রামে।’ বলা হয়ে থাকে, তার এই বিখ্যাত ভাষণের প্রভাবেই ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার আইন ও ১৯৬৫ সালে ভোটাধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়।
১৯৬৩ সালেই টাইম ম্যাগাজিন লুথার কিংকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ (বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি) পুরস্কার দেয়। পরের বছর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য মাত্র ৩৫ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল, যুক্তরাষ্ট্র সাক্ষী হয় তার ইতিহাসের অন্যতম নির্মম হত্যাকান্ডের। সেদিন টেনেসির মেমফিস শহরে হোটেল কক্ষের ব্যালকনিতে দাঁড়ানো ছিলেন লুথার কিং। তখন উগ্রবাদী এক শ্বেতাঙ্গের বন্দুকের গুলিতে মারা যান আধুনিক ইতিহাসের বিশ্বনন্দিত এই নেতা। এভাবেই মাত্র ৩৯ বছর বয়সেই নিভে যায় মানবতাবাদী এক নেতার জীবন প্রদীপ। যিনি মৃত্যুর পরও যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ^জুড়ে মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অনুসারীদের জন্য রেখে গেছেন এক গৌরবময় উত্তরাধিকার।
