৯০ দশক পরবর্তী প্রজন্ম কর্মজীবনে প্রবেশ করেই একাধিক চাকরি ও আয়ের পেছনে ছুটছে। প্রযুক্তিবান্ধব তরুণ এই প্রজন্ম বিশাল শ্রমশক্তিতে রূপ নিচ্ছে। তাদের এই উত্থান পাল্টে দিতে পারে ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র। লিখেছেন নাসরিন শওকত
জেনারেশন জেড
জেনারেশন বা প্রজন্ম বলতে কাছাকাছি সময়ে জন্মানো ও বেড়ে ওঠা একটি মানবগোষ্ঠীকে বোঝায়। যারা একই রকম পরিবেশ, পরিস্থিতি, অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তাদের জীবন অতিবাহিত করে আসছে। একই পরিবেশ-পরিস্থিতিতে বেড়ে ওঠার কারণে তাদের আচার-ব্যবহার, চিন্তা-ভাবনার ধরনও বেশ কাছাকাছি হয়। এ রকম একটি প্রজন্ম জেড জেনারেশন বা জেনারেশন জেড।
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০১০-এর (১৯৯৭-২০১২ সালের মধ্যে) পরবর্তী কয়েক বছরে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে জেনারেশন জেড বলা হয়। ইন্টারনেটের জনপ্রিয় হওয়ার পর জন্ম নেওয়া প্রথম প্রজন্ম হওয়ায় অনেক সময় জেনারেশন জেডকে ‘ইন্টারনেট প্রজন্ম’ও বলা হয়। প্রযুক্তিতে আসক্ত (টেকনোলজি ফ্রিক) এই প্রজন্মের কাছে স্মার্টফোন বিলাসিতার চেয়ে বরং অতিব প্রয়োজনীয় একটি গেজেট। সামাজিক যোগাযোগমধ্যম ব্যবহার করছে স্বাচ্ছন্দ্যে। ধর্মীয় বা সামাজিক বিষয়ে ততটা আগ্রহী নয়। তারা চেয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত থাকতেই পছন্দ করে বেশি। তবে তারা পরিবেশ সম্পর্কে বেশ সচেতন। জেনারেশন জেড অনলাইনে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
লেখা-পড়ায় অনেকটাই এগিয়ে থাকা এই প্রজন্ম বেশ উদারমনা। তারা অত্যন্ত আশাবাদী। তাই নিজেদেরকে অনেক এগিয়ে কল্পনা করতে ভালোবাসে। তাদের কাছে সৃষ্টিশীলতার বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পায়। তবে প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লাগামহীন ব্যবহার এই প্রজন্মকে হতাশায় ডুবে যাওয়া এক প্রজন্মে পরিণত করেছে। বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা প্রায়ই হতাশায় ভুগে থাকে। জেনারেশন জেড সংস্কৃতির পরিবর্তনে আগ্রহী। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলতেই তাদের আনন্দ বেশি।
মার্কিন সমাজে এই জেনারেশ জেড উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় কর্মশক্তিতে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেওয়া তথ্য মতে, ২০২২-এর জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ১০ লাখ (২১ মিলিয়ন), যেখানে কর্মসংস্থানের হার ধারাবাহিকভাবে বছরে বেড়েছে ৫৪.৪ শতাংশ এবং দেখা যায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কর্মীদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যাতও বৃদ্ধি পায়, যা সম্ভবত তাদের আলাদা কাজের ক্ষেত্রও বাড়িয়ে দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেদের ভালো লাগার বিভিন্ন কাজ ও আয়ের নানা উৎসের পেছনে ছুটে চলেন।
জেনারেশন জেড প্রতিনিধি
জেনারেশ জেডের অসংখ্য তরুণ কর্মী বিশ্বাস করেন, নিজের জন্য পরিপূর্ণ একটি ক্যারিয়ার গড়ার জন্য একটি ফুল টাইম চাকরি থাকাই যথেষ্ট নয়। তারা মূল চাকরির পাশাপাশি বাড়তি এক বা একাধিক কাজ করে থাকেন, যাকে সাইড হ্যাসেল বা সাইড গিগ বলে। বাড়তি কাজের মূল উদ্দেশ্য অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত ক্যারিয়ার গড়া। খন্ডকালীন বাড়তি এই কাজের মধ্যে থাকতে পারে চাকরি বা ব্যবসা, যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ওই কর্মীর আবেগ বা ভালোলাগা। প্রজন্ম পরম্পরা, অনিশ্চিত অর্থনীতি এবং একটি গতিশীল কর্মপরিবেশ এই তিন মিলেই হয় আজকালকার তরুণ কর্মীদের ক্যারিয়ার। করোনা মহামারীর আগের কয়েক বছরের তুলনায় এ পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন।
২২ বছরের শোলা ওয়েস্টও এই জেনারেশনের জেডের একজন প্রতিনিধি। থাকেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। বিজ্ঞাপনী সংস্থা ওএমডির মিডিয়া-পার্টনারশিপ দলে কাজ করেন। শোলা তার পেশাগত জীবনের পুরো সময়ের অর্ধেকটা ব্যয় করেন একটি পার্টটাইম ব্যবসায়। আর বাকি সময় কাটান এই বিজ্ঞাপনী সংস্থার পরামর্শকের কাজ করে। কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে শোলা ওয়েস্ট বলেছেন, ‘আমি যেখানে চাকরি করি তারা আমার আলাদা কাজের বিষয়টি জানেন এবং এ ক্ষেত্রে তারা বেশ সহযোগিতাও করেন। চাকরি দেওয়ার সময়ের সাক্ষাৎকারেই তারা পুরো বিষয়টি আমাকে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, আমি যদি ব্যক্তিগত পরিচয় ও পেশাগত কাজের ক্ষেত্র এ দুটোকে আলাদা রাখতে পারি, তবেই আমাকে দায়িত্বটা দেওয়া হবে। আমি বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই চাকরিটি পেয়েছি।’
শোলার জানান, বিজ্ঞাপনী সংস্থাটিতে কর্মীবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। যা তার অন্য ভালো লাগার কাজগুলো করতে উৎসাহ জোগায়। সাধারণত, এখানকার কাজের সময়েই সে মিডিয়া শিল্পের অন্দরের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে তার টিকটক অ্যাকাউন্টের জন্য বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করেন। এই কাজের ধরন সম্পর্কে শোলা বলেন, ‘এ ধরনের হাইব্রিড কাজ আমার অতিরিক্ত বা বাড়তি কাজের অংশ। আমি যখন বাড়িতে থাকি, তখন মিটিংয়ের মধ্যে থেকেও ফিল্মের ভিডিও তৈরি বা আমার ব্যবসার কাজ চালিয়ে যেতে পারি।’
বাড়তি কাজের উত্থান
করোনা মহামারীর আগেও একটা চাকরি করার পাশাপাশি আরেকটা চাকরি করার প্রবণতা ছিল। তবে সেগুলো সাধারণত আবেগের চেয়ে প্রয়োজনের তাগিদেই বেশি করা হতো। বেশ কয়েক চাকরির পরিধিতে পরিবর্তন এসেছে। অনেকে আরও বেশি আয় করার জন্য একটা চাকরির পাশাপাশি আরেকটি চাকরি নেন। এমনকি এখনো অনেক মানুষ তার আয় বাড়ানোর জন্য মূল পেশার পাশাপাশি আরও কয়েকটা চাকরি করেন।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর। যুক্তরাজ্যের বিমা কোম্পানি রয়্যাল লন্ডনের ৪ হাজার কর্মীর ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৬ শতাংশ কর্মী জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে বাধ্য হয়ে তারা একটা চাকরির পাশাপাশি আরেকটি চাকরি করছেন।
অধ্যাপক মেরেডিথ মেয়ার গ্রেলি যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ ভিত্তিক কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেপার স্কুল অব বিজনেসের উদ্যোক্তাদের সহকারী শিক্ষক। এ বিষয়ে মেয়ার গ্রেলি বলছেন, ‘এক সঙ্গে অনেকগুলো চাকরি করার প্রবণতা আগেও ছিল। তবে সেটা ছিল শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে। তারা বেঁচে থাকার জন্য এটা করতেন।’
যখন এই গাদাগাদি করে চাকরি করার প্রবণতা চলতেই থাকবে এবং এটা দৈনন্দিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে, তখন সেটা শিক্ষিত কর্মীদের জন্য নতুন সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। তবে স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায়, এমন একটা পার্টটাইম চাকরি নিয়ে, কর্মীরা তাদের পছন্দের কাজটাও করতে পারে আরও অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করার সুযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে লন্ডনের কনসালটিং ফার্ম কান্টারের প্রোফাইল বিভাগের সিইও ক্যারোলিন ফ্রাঙ্কাম বলেছেন, ‘ফুলটাইম চাকরি করলে একটা অফিস থাকে, কাজের নির্দিষ্ট সময় থাকে। তখন একজন কর্মী কাজটি করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন। তখন এটি করতে ততটা তাড়াহুড়ো মনে হয় না। কিন্তু যখন কাজটি পার্টটাইম হয়, তখন এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকে না, অফিসও থাকে না। মানসিকভাবে প্রস্তুতও থাকে না কাজটি করার জন্য। তখন সেটি আরও বিরক্তিকর হয়ে ওঠে।’
কাজের চাপের রহস্য
যেহেতু অধিকাংশ কর্মীর মধ্যে বাড়তি কাজ করে আয়ের প্রবণতা বাড়ছে, সেহেতু তাদের দেখাদেখি নতুন যারা ক্যারিয়ারে প্রবেশ করছেন, তাদের মধ্যেও এই প্রবণতাটি ছড়িয়ে পড়ছে। ২০২৩ সালে কান্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১০ হাজার কর্মীর ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে। সেখানে দেখা গেছে, কমপক্ষে ৪০ শতাংশ জেড জেনারেশন একাধিক চাকরি করেন।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক পরামর্শক সংস্থা গার্টনারের গবেষণা পরিচালক ক্যাটলিন ডাফি বলছেন, ‘ক্যারিয়ারগুলো এখন আর একমুখী থাকছে না। একটি প্রতিষ্ঠানে বা একটি কাজে নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে রাখতে বা সেই কাজে রিলাক্সে কাজ করতে চায় না তরুণ কর্মীরা। তারা নিজেকে ডাইনামিক করে গড়ে তুলছেন। আজ তারা একটি পেশায় আছেন। কাল হয়তো তারা সেই পেশা বা প্রতিষ্ঠানে থাকছেন না। অন্য ভালো কোনো প্রতিষ্ঠান বা পেশা পেলে চলে যাচ্ছেন।’
এই বাড়তি কাজের চাপ কর্মীদের জন্য বৈচিত্র্যময় ঝুঁকি তৈরি করছে জানিয়ে মেয়ার গ্রেলি বলছেন, ‘ধরুন, একজন কর্মী একটি পেশায় কাজ করছে। তারপরও তিনি বুঝতে পারছেন, যে কোনো সময় এই পেশা পুরনো হয়ে যেতে পারে, বা তার বাপ-দাদা যে পেশায় জীবিকা নির্বাহ করে গেছেন, একটা সময় আর চাহিদা থাকবে না সেই পেশার। তাই তারা মূল চাকরির পাশাপাশি আরও কয়েকটি চাকরি করে নিজেকে দক্ষ করে বর্তমান পেশা বা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।’
এই বাড়তি কাজ কর্মীদের মধ্যে যে বহুমুখিতা তৈরি করে সেটাই জেনারেশন জেডের মূল চাবিকাঠি। বাড়তি কাজের চাপ নতুন আয়ের পাশাপাশি তরুণ কর্মীদের নিজেদের পছন্দের কাজগুলো করার সুযোগ করে দেয়। যেমন, একজন কর্মী যে কাজটি করছেন, সেটি তার পছন্দ নয়। তিনি যদি সেটার পাশাপাশি তিনি যেটা পছন্দ করেন, সেটা করতে থাকেন, তখন তিনি সেই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবেন এবং একটা সময় তার পছন্দের কাজে চলে আসতে পারবেন।
সবচেয়ে বড় কথা, এই বাড়তি কাজ করার প্রবণতা একজন তরুণ কর্মীকে যেমন ব্যক্তিগত কাজগুলো করার সুযোগ করে দেয়, তেমনি বাড়তি আয়ও দেয়। মেয়ার গ্রেলি বলছেন, ‘আমার একজন ছাত্র একটি স্টার্ট-আপে কাজ করছে। সেই স্টার্ট-আপে একজন কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বসে তার পছন্দের সময় অনুযায়ী কাজ করতে পারে। এতে একজন কর্মী তার দক্ষতা ও পছন্দের কাজগুলো করে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারে।’
অন্য এক ভবিষ্যৎ
এই সেদিনও কর্মক্ষেত্রে এমন পরিবেশের কথা চিন্তুাও করা যেত না। কিন্তু পুঁজিবাদী বিশ্বে কাজের নতুন আবহ চলছে। তাই দৃশ্যত মনে হচ্ছে, এরই মধ্যে চাকরিদাতা কর্মীদের মূল চাকরির পাশাপাশি বাড়তি কাজকে বেশ সহজভাবেই গ্রহণ করতে শুরু করেছেন। এ প্রসঙ্গে মেয়ার গ্রেলি বলেছেন, ‘মহামারীর আগে কর্মীরা খুব খোলামেলাভাবে নিজেদের প্রকাশ করতেন না। তারা এমন কিছু নিয়ে কথা বলতে চাইতেন না, যা তাদের পূর্ণকালীন চাকরিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমন কী শিশু দিবাযত্নের মতো চাকরির ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। কিন্তু এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও কর্মীদের ধরে রাখার জন্য তাদের গুরুতর চাওয়া-পাওয়াগুলোর প্রতি আগের তুলনায় বেশি সহানুভূতিশীল ও মেনে নেওয়ার মানসিকতা ধারণ করে যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে ওই কর্মীর আবেগ বা ভালো লাগার কাজগুলো।’
এ ক্ষেত্রে কর্মীর বাড়তি কাজ মালিকপক্ষের কাছে শুধু তাকে ধরে রাখার একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে, তা নয়, তারা কর্মীদের অভিজ্ঞতা অর্জন ও সুনিপুণ দক্ষতাকে তাদের পূর্ণকালীন চাকরিতে সরাসরি বিনিয়োগ করবে। এ প্রসঙ্গে মেয়ের গ্রেলি বলেছেন, ‘এখন থেকে একজন তরুণ কর্মীর একটি দীর্ঘ কর্মজীবন (ক্যারিয়ার) থাকবে, যেখানে তারা বিকশিত হওয়ার ও বাড়তি আরও কাজ করার আশা করবে।’
সম্প্রতি জেনারেশন জেড হিসেবে শোল তার মূল চাকরিতে এনগেজমেন্ট নির্বাহী হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। তার সঙ্গে তার গ্রাহকদের যোগাযোগের একটি ক্ষেত্র হলো তার জেনারেশন জেড শ্রোতারা। কারণ তার ব্যক্তিগত পরিচয় ও ফ্রিল্যান্স কাজ তাকে এই ক্ষেত্র তৈরিতে সহায়তা করছে। কর্মক্ষেত্রে যত বেশি বহুমুখী জেড প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা আসবে, বাড়তি কাজের প্রবণতা সাধারণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও ততবেশি বাড়তে থাকবে। হয়তো এমন একদিন আসবে, যখন মালিকপক্ষ শুধু এমন কর্মীর প্রত্যাশায়ই প্রহর গুনবেন।