সৌদি-ইরান সম্পর্কে নতুন মোড়ের রহস্য

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৩, ১০:৫২ পিএম

সিরিয়া ও ইয়েমেনে ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত সৌদি আরব ও ইরান। আঞ্চলিক নানা বিষয়ে উভয় দেশের মতানৈক্য চরমে। তা সত্ত্বেও দেশ দুটি সম্প্রতি কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় চুক্তি করেছে। এই পদক্ষেপের কারণ কী? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া      

ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী দেশ সৌদি আরব ও ইরান। আঞ্চলিক নানা ইস্যু নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরব ও ইরানকে এক টেবিলে বসিয়েছে চীন। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুটির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরেও ভূমিকা রেখেছে দেশটি। এতে স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হয়েছেন বিশ্বনেতারা। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন পদক্ষেপের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে টানা চার দিন অপ্রকাশিত বৈঠকের পর চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইরান ও সৌদি আরব তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। তাদের ওই ঘোষণা, পশ্চিম এশিয়া পুনর্বিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দেশ দুটির কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবেও দেখছেন তারা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি, দুই মাসের মধ্যে নিজ নিজ দেশে দূতাবাস পুনরায় চালু এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান পুনরুজ্জীবিত করার মধ্য দিয়ে সাত বছরের বৈরী সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসতে সম্মত হয়েছে ইরান ও সৌদি আরব।  

ইরান বিশ্বের প্রধান শিয়ারাষ্ট্র। অন্যদিকে, সৌদি আরবকে সুন্নিদের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যকার টানাপড়েন থেকে মুক্ত নয় মধ্যপ্রাচ্য। ইরাক, লেবানন, সিরিয়া ও সবচেয়ে বিধ্বংসীভাবে ইয়েমেনে বহুবার পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রক্সি ওয়ার বা ছায়াযুদ্ধে অংশ নেয় সৌদি আরব ও ইরান। ইয়েমেনে ইরানসমর্থিত বিদ্রোহীদের পরাজিত করতে বোমা হামলা করে বহু বেসামরিক মানুষ হত্যা করে সৌদি আরব। ওই বিদ্রোহীরা প্রতিশোধ নিতে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও তেলকেন্দ্রে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও সশস্ত্র ড্রোন হামলা করে। ইয়েমেন গৃহযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নেওয়া সব পক্ষই বারবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনও ভঙ্গ করে। ২০২০ সালে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ইয়েমেনির মৃত্যু হয় খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোর অভাবে। সৌদি আরব ও ইরান তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ সম্প্রতি নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে। তারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে বেসামরিক মানুষের ওপর বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে কিছুটা হলেও ভাববে উভয় দেশ। এতে কমবে রক্তপাত ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা। অবশ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক ফের গড়লে দেশ দুটির মধ্যকার উত্তেজনা একেবারে থেমে যাবে, এতটা আশাবাদী কেউ নয়। 

সৌদি-ইরান স্বার্থ

ধর্মীয় বিশ্বাসসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে প্রবল মতানৈক্য থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি কী এমন হলো যে, দেশ দুটি দীর্ঘদিনের বৈরিতা দূর করার উদ্যোগ নিল?

চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা নিতে চাইছে, তা ইউক্রেন যুদ্ধের পর অনেক বেশি স্পষ্ট। চীন ছাড়া সৌদি-ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের আর কী কারণ থাকতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গত কয়েক বছরে কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। তার ভিশন ২০৩০ সৌদি আরবের তেলনির্ভর অর্থনীতি ঢেলে সাজিয়ে পর্যটনশিল্প ও বিদেশি বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে। সালমানের এই পরিকল্পনায় আকৃষ্ট হয়ে লাখ লাখ প্রবাসী সৌদি আরবে ভিড় করে, সেটিকে বাণিজ্য ও সংস্কৃতির এক বৈশ্বিক কেন্দ্রস্থলে পরিণত করেছে। এই রূপান্তর সৌদি আরবের পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক অবস্থানের ভিত্তি। ভিশন ২০৩০ সফল করতে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা সৌদিদের জন্য খুবই জরুরি। এই লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা অবসানের চেষ্টা করছেন সৌদি যুবরাজ সালমান। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ ওই পরিকল্পনারই অংশ। এ ছাড়া এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব খর্ব করতে চাইছেন সালমান। যুক্তরাষ্ট্র এখনো সৌদি আরবের বৃহত্তম সামরিক অস্ত্রের জোগানদার হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন সরকারের প্রতিপক্ষ রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুতের উদ্যোগ নেয় রিয়াদ।

এবার তাকানো যাক ইরানের দিকে। দেশটি কেন সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাইছে? ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর, সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর, হিজাব না পরার অভিযোগে ‘মাসা আমিনি’ নামে ২২ বছরের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করে ইরান পুলিশ। এর তিন দিন পর ১৬ তারিখে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মাসা আমিনির পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে তিনি ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং সেটিই তার মৃত্যুর কারণ। এরপর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানের জনগণ। মাসা আমিনি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভে নামে লাখো মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বহু মানুষ ইরান সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে। লক্ষণীয় বিষয় হলো,  ন্যায়বিচারের দাবিতে ওই বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন ইরানের নারীরা। মাসের পর মাস ধরে চলমান বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালিয়ে হত্যা করে শত শত ইরানিকে। ইরান সরকার ২০০ মানুষের মৃত্যুর দাবি করলেও অধিকারকর্মীদের ধারণা, এই সংখ্যা এর চেয়ে আরও অনেক বেশি। বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করে তারা। মাসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে গত সেপ্টেম্বর থেকে ইরান সরকারের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংস্থার দিক থেকে চাপে আছে ইরান। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানামুখী চাপে মধ্যপ্রাচ্যে এমন এক মিত্র খুঁজছেন, যে কি না এই বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াবে। সেই জায়গা থেকে খামেনি ও রাইসির মনে হয়েছে, সৌদিদের সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্নির্মাণ হলে চাপ কিছুটা হলেও কমবে।  

চ্যালেঞ্জগুলো

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেশ দুটিকে পরস্পরের কাছে আসতে হলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ফয়সালা করা দরকার। শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমন সবচেয়ে জরুরি। একটি কূটনৈতিক চুক্তির এক্ষেত্রে খুব বেশি কিছু করার নেই। এর বাইরে নির্দিষ্ট কিছু ভূরাজনৈতিক ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর সমাধান কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে দেশ দুটি এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেয়নি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের কথা। এই দুই যুদ্ধে ইরান ও সৌদি আরবের অবস্থান বিপরীতমুখী। ইয়েমেন ও সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে দেশ দুটির এই অবস্থান আগামী দিনে তাদের মধ্যে শত্রুতা বাড়াবে বৈ কমাবে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠতার কড়া সমালোচক ইরান। দশকের পর দশক ধরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির অর্থনীতিকে নাজুক করে দিয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনকে সমর্থন ও অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ইরান। দেশটির এসব কর্মকাণ্ডকে নিজের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে সৌদি আরব। মোটা দাগে, এসব বিষয়ে মীমাংসা না হলে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কোনো ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হওয়া বাস্তবিক অর্থেই কঠিন। অবশ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দেশ দুটির মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে আলোচনার স্টার্টিং পয়েন্ট হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের অবস্থান 

পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব বিস্তার করে আসছে। ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে চীনের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আগের মতো নেই। সৌদি আরব ও ইরানের সঙ্গে চীনের সুসম্পর্ক ঐতিহাসিক। মধ্যপ্রাচ্যে চীনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আকাক্সক্ষা সাম্প্রতিক ইরান-সৌদি ইস্যুতে আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আটলান্টিক কাউন্সিল অব ইউনাইটেড স্টেটসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ ফেলো জোনাথন ফুলটন বলেন, ‘চীন মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা চায়। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে নিজেদের চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি করে দেশটি। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলমান থাকলে বা বাড়লে তা চীনের স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শীর্ষ কূটনীতিক ড্যানিয়েল রুজেল বলেন, ‘সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা চীনের জন্য অস্বাভাবিক। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুটির মধ্যকার দ্বন্দ্বে চীন কোনো পক্ষই নয়। তারপরও দেশটি ওই কাজ করেছে। এর অর্থ, বিশ্বমঞ্চে আরও বড় কূটনীতিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাইছে চীন।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অবস্থান

চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ স্বভাবতই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুখবর নয়। বেলজিয়ামভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক নায়সান রাফাতি বলেন, ‘ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা ইরান সরকারের সাম্প্রতিক দমন-পীড়নমূলক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগ বৃদ্ধি করেছে। ইরানের সংকটকালে চীনের এগিয়ে আসা ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের ঘটনা তেহরানকে আত্মবিশ্বাসী করবে এই ভেবে যে, পশ্চিমারা চাইলেও তাকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিসের প্রধান নির্বাহী মার্ক ডুবোভিৎজ বলেন, ‘সৌদি-ইরান ঘনিষ্ঠ হলে যুক্তরাষ্ট্র এ কূল, ও কূল দুকূলই হারাতে পারে। সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না, তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো। মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার রাজনীতিতে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠছে।’  

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সৌদি আরব ও ইরানের সাম্প্রতিক চুক্তি বিস্মিত করেছে ইসরায়েলকে। সৌদি-ইরান কারোর সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি নেতারা ইরানকে শত্রু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে বহু বছর ধরে এবং সৌদি আরবকে মনে করে সম্ভাব্য অংশীদার। সৌদি-ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইসরায়েলকে কেবল অবাকই করেনি, একই সঙ্গে উদ্বিগ্নও করেছে। তারা আশা করেছিল, ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের দূরত্ব তাদের লাভবান করবে এবং সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় বাধ্য করবে।  ইসারায়েলের বিরোধী দলের নেতা ইয়ার লাপিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক চুক্তি ইসরায়েল সরকারের ব্যর্থ পররাষ্ট্রনীতির ফল।’ ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সৌদি-ইরানের সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার খবর অপ্রত্যাশিত ছিল না। ওই পদক্ষেপ ইসরায়েলিদের স্বার্থে খুব বেশি আঘাত হানবে, এমনটা নাও হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত