দাস ব্যবসা সম্পর্কে জানেনই না চার্লস!

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৩, ১০:৪৩ পিএম

দাস ব্যবসা করে একসময় নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করেছিল ব্রিটিশ রাজতন্ত্র। ওই ব্যবসা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারেও রেখেছিল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। রাজা তৃতীয় চার্লস এসব বিষয় ‘জানেন না’, তাই তিনি দাস ব্যবসার সঙ্গে রাজতন্ত্রের সম্পর্ক জানতে সম্প্রতি আগ্রহী হয়েছেন। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া    

গবেষণাকর্মে সহযোগিতা

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস সম্প্রতি এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন। বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে জানানো হয়েছে, সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীর দাস ব্যবসা ও ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে স্বাধীনভাবে যে গবেষণা শুরু হয়েছে, তাতে বাকিংহাম প্রাসাদ সহযোগিতা করবে এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে এও জানানো হয়, রাজা তৃতীয় চার্লস গবেষণাকর্মটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়,  ইতিহাসবিদ ক্যামিলা ডি কোনিংয়ের নেতৃত্বে গবেষণাকর্মটির সঙ্গে যুক্ত আছে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও হিস্টোরিক রয়্যাল প্যালেসেস (যুক্তরাজ্যের অনধিকৃত রাজপ্রাসাদ দেখভাল করা স্বাধীন দাতব্য সংস্থা)। গবেষকরা যাতে রয়্যাল আর্কাইভস ও রয়্যাল কালেকশনে প্রবেশে পূর্ণ অধিকার পান, তার অনুমতি দিয়েছে

বাকিংহাম প্রাসাদ।

আশা করা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে গবেষণার কাজ শেষ হবে। গত বছর রাজা তৃতীয় চার্লস ও তার ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম দাস ব্যবসার শিকার ব্যক্তিদের যে অবর্ণনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। ওই বছর পূর্ব আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডা সফরকালে চার্লস বলেছিলেন, দাসদের কষ্ট জেনে ব্যক্তিগতভাবে তিনি যে পরিমাণ দুঃখ পেয়েছেন, তা প্রকাশ করার মতো ভাষা তার নেই। অন্যদিকে একই সময়ে জ্যামাইকা সফরের সময় প্রিন্স উইলিয়াম বলেন, ‘দাসপ্রথা ঘৃণ্য এক প্রথা। মানুষকে দাস করে রাখার এমন ব্যবস্থায় আর কখনো ফিরে যাওয়া উচিত নয়। দাস ব্যবসা আমাদের ইতিহাসকে চিরদিন কলঙ্কিত করে রাখবে।’ বাকিংহাম প্রাসাদের এক মুখপাত্র জানান, রাজা হওয়ার পর চার্লস দাসপ্রথার প্রভাব নিয়ে জানা-বোঝা গভীর করার ব্যাপারে উৎসাহী ও সংকল্পবদ্ধ।   

১৬৮৯ সালে রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানিতে দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কলস্টনের কাছ থেকে শেয়ার সপ্তদশ শতাব্দীর ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের কাছে হস্তান্তর হয় বলে এক নথি সম্প্রতি আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের হাতে আসে। এডওয়ার্ড কলস্টন ওই দাস বেচাকেনা কোম্পানির ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। নথিটি এর আগে কেউ দেখেনি। নথি হাতে পাওয়ার পর এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য গার্ডিয়ান। এরপরই নড়েচড়ে বসে বাকিংহাম প্রাসাদ। গত বছর চার্লস ও উইলিয়াম দাসপ্রথার সমালোচনার পর পূর্বসূরির দাসপ্রথার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার এমন নথি স্বাভাবিকভাবেই তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাই গবেষণাকর্মে বাধ্য হয়েই রাজা তৃতীয় চার্লসকে সহযোগিতার অঙ্গীকার করতে হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।                

দাস ব্যবসা

ষষ্ঠদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আটলান্টিক মহাসাগরজুড়ে ত্রিভুজাকার বাণিজ্যের (ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকা) একটি অংশ ছিল ট্রান্স-আটলান্টিক দাস ব্যবসা। ইউরোপে উৎপাদিত পণ্য আফ্রিকায় বিক্রি করা হতো দাসদের বিনিময়ে। এই দাসদের পরে দুই আমেরিকায় পাঠানো হতো। এরপর উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় দাসদের শ্রমে উৎপন্ন চিনি, তুলা, তামাকসহ অন্যান্য অর্থকরী ফসল জাহাজে করে ইউরোপে যেত। ষষ্ঠদশ শতাব্দী থেকে শুরু করে সাড়ে তিনশ বছরের বেশি সময় ধরে ইউরোপীয় দাস ব্যবসায়ীরা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ আফ্রিকানকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে আমেরিকায় নিয়ে যায়। এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, ওই সময়ে কমপক্ষে ১৫ লাখ আফ্রিকান শুধু যাত্রাপথেই প্রাণ হারায়। পরে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছানোর পর সেখানকার অমানবিক পরিবেশে অত্যধিক পরিশ্রমে মারা যায় আরও বহু আফ্রিকান।    

পঞ্চদশ শতাব্দীতে পর্তুগিজ ও স্প্যানিশদের হাত ধরে প্রথম শুরু হয় দাস ব্যবসা। আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে আখ চাষের সম্ভাবনা দেখা দিলে বাড়তি শ্রমিকের দরকার হয়। পর্তুগিজ ও স্প্যানিশরা তখন আফ্রিকানদের ওইসব অঞ্চলে আখ চাষের শ্রমিক হিসেবে পাঠায়। সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যে ব্রিটেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্কসহ ইউরোপের উত্তরাঞ্চলের প্রায় সব দেশই অত্যন্ত লাভজনক দাস ব্যবসায় নিজেদের যুক্ত করে। তারা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় তাদের উপনিবেশে আফ্রিকানদের অনেক সস্তায় খাটাত। দাসদের উৎপন্ন পণ্য (প্রধানত চিনি, তুলা ও তামাক) এরপর ইউরোপে নিয়ে এসে তারা নিজেদের ক্রমবর্ধমান শিল্পকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করত। ট্রান্স-আটলান্টিক ব্যবসার মাধ্যমে ইউরোপীয়রা ওই সময় বিপুল মুনাফা করে। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী মহাদেশ হিসেবে বিশ্বে ইউরোপের উত্থানে দাস ব্যবসা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।                          

ব্রিটেনের ভূমিকা

ষষ্ঠদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত দাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী দেশগুলোর একটি ছিল ব্রিটেন। ওই সময় ক্যারিবীয় অঞ্চল, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় নিজেদের উপনিবেশে ৩৪ লাখ আফ্রিকান নিয়ে যায় ব্রিটেন। এদের মধ্যে উপনিবেশগুলোতে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিল ২৭ লাখ আফ্রিকান। ব্রিটিশ উপনিবেশের দাসদের দিয়ে তুলা, চিনিসহ অর্থকরী বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি খনি থেকে সোনাসহ অন্যান্য দামি ধাতু তোলানো হতো। ১৫৬০ সালের দিকে ইংলিশ নৌ-কমান্ডার স্যার জন হকিন্স পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনের উপকূলে দাসবহনকারী পর্তুগিজদের একটি জাহাজ ছিনতাই করেন। এর মধ্য দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রথম দাস ব্যবসায় পদার্পণ করে ব্রিটেন। ছিনতাইয়ের পর ৩০০ আফ্রিকান দাসকে বন্দি করে দেশটি। এরপর তাদের ক্যারিবীয় অঞ্চলের আবাদি জমির মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেয়। দাস ব্যবসা যে অত্যন্ত লাভজনক, তা দ্রুতই বুঝতে পারেন ব্রিটিশ নৌ-কমান্ডার হকিন্স এবং এই ব্যবসায় পর্তুগিজদের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকবার ক্যারিবীয় অঞ্চলে যান হকিন্স। তার উৎসাহ, উদ্যম ও একাগ্রতায় মুগ্ধ হয়ে রানী প্রথম এলিজাবেথ তাকে পুরষ্কৃত করেছিলেন। দাস ব্যবসায় ব্রিটেনকে যুক্ত করতে ব্রিটিশ নৌ-কমান্ডার হকিন্সের ব্যক্তিগত উদ্যোগে রানী সমর্থন দিয়ে যান পরোক্ষভাবে। ১৬৬০ সালের দিকে ব্রিটেন আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রান্স-আটলান্টিক দাস ব্যবসা শুরু করে। 

রাজতন্ত্রের অংশগ্রহণ

সপ্তদশ শতাব্দীতে রাজা দ্বিতীয় চার্লসের আমলে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যরা ট্রান্স-আটলান্টিক দাস ব্যবসায় প্রচুর বিনিয়োগ করেন। লন্ডনের বণিকদের উদ্যোগে ১৬৬৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় কোম্পানি অব রয়্যাল অ্যাডভেনচারার্স ট্রেডিং ইনটু আফ্রিকা নামে ব্রিটিশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এটির নাম পরবর্তী সময় সংক্ষেপে রাখা হয় রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানি। ইতিহাসবিদ উইলিয়াম পেটিগ্রু বলেন, ‘ট্রান্স-আটলান্টিক দাস ব্যবসার পুরোটা সময়জুড়ে রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানি যে বিপুল সংখ্যক নারী, পুরুষ ও শিশুকে ক্রীতদাস হিসেবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছিল, অন্য কোনো কোম্পানিকে এত ক্রীতদাস নিতে দেখা যায়নি।’ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই কোম্পানিটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের আনুকূল্য পেয়ে আসছিল। রাজপরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানি খুব দ্রুত মুনাফার দেখা পায়। রাজপরিবারের সদস্যরা ছিলেন ওই কোম্পানির প্রধান শেয়ারহোল্ডার। সফলতার শিখরে পৌঁছাতে কোম্পানিটির ব্রিটিশ রাজার রাজনৈতিক সমর্থনের দরকার ছিল এবং তা তারা পেয়েছিলও। ১৬৮৮ সালে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় জেমসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিপ্লব সংঘটিত হয়। ইতিহাসে ওই বিপ্লব গ্লোরিয়াস রেভল্যুশন নামে পরিচিত। বিপ্লবের পর ব্রিটিশ রাজতন্ত্র অল্প সময়ের জন্য দুর্বল হয়ে পড়ে। ওই সময় রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানির রাজপরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পাওয়াও কমে যায়। গ্লোরিয়াস রেভল্যুশনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ব্রিটিশ রাজা দ্বিতীয় জেমস ফ্রান্সে নির্বাসিত জীবন কাটান। ভিন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে তাকে সে সময় রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করতে হয়েছিল। যা হোক, রাজা দ্বিতীয় জেমসের পরিণতি বা গ্লোরিয়াস রেভল্যুশন কোনোটিই ব্রিটিশ বণিকদের দাস ব্যবসার অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি এবং দাস ব্যবসা থেকে রাজপরিবারের লাভবান হওয়াও থেমে থাকেনি।

অষ্টাদশ শতাব্দীতে রাজপরিবার ও বণিক শ্রেণির বাইরে আরও অনেকে গোপনে দাস ব্যবসায় অংশ নেন। ফলে গোটা ব্যবসার কলেবর আরও বড় হয়। ইতিহাসবিদ কে জি ডেভিসের মতে, ‘ওই সময় ট্রান্স-আটলান্টিক দাস ব্যবসায় রাজতন্ত্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপে ভাটা পড়লেও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অর্থনীতিতে ওই ব্যবসা বরাবরই অপরিহার্য অংশ ছিল।’ ইতিহাসবিদদের ভাষ্য, ব্রিটিশরা দাস ব্যবসার মাধ্যমে সস্তা শ্রম কাজে লাগিয়ে কেবল মূল্যবান পণ্যই উৎপাদন করেনি, একই সঙ্গে শিল্প বিপ্লবের তহবিল গঠনের লক্ষ্যে ওই ব্যবসা থেকে মুনাফা অর্জনও তাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়ে। তাদের ওই কর্মযজ্ঞের ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আফ্রিকা মহাদেশে। সেখানে জনশূন্যতা ও সামাজিক-রাজনৈতিক অবক্ষয়ের মতো দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত সংকট ‍সৃষ্টি হয়, যার জের আফ্রিকার দেশগুলো আজও টানছে। ইতিহাসবিদ ডেভিড রিচার্ডসন বলেন, ‘দাস ব্যবসা একদিকে আফ্রিকার অনুন্নয়নের জন্য দায়ী, অন্যদিকে এটি ইউরোপে ব্যাপক মাত্রায় শিল্পায়ন ঘটায়। বিশেষ করে দাস ব্যবসায় শীর্ষস্থানীয় দেশ ব্রিটেনে সে সময় স্থাপন করা হয় প্রচুর কল-কারখানা।’ যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ ড. ব্রুক নিউম্যান বলেন, ‘আজ আমরা ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতিপত্তি, ধন-দৌলত ও ঠাটবাট দেখছি। এসবের পেছনে একসময়ের দাস ব্যবসা যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আফ্রিকান ক্রীতদাসদের পেছনে বিনিয়োগ এক, দুই শতক ধরে নয়, কয়েক শতক ধরে চলে। দাস ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত মুনাফা ও ক্রীতদাসদের শ্রমে প্রতিষ্ঠিত শিল্পকারখানা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারে ভূমিকা রাখে, যা ব্রিটেন ও রাজপরিবারের সম্পদ আরও ‍বৃদ্ধি করে।’              

দাস ব্যবসা বাতিল

১৮০৭ সালে দাস ব্যবসা বাতিল করে ব্রিটেন। দেশটির উপনিবেশগুলোতে এটি বাতিল হয় আরও পরে, ১৮৩৪ সালে। এর ৩০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা রদ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নৈতিকতার জায়গা থেকে ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশে দাসপ্রথা রদ করা হয়েছিল, তা নয়। দাসদের বিদ্রোহ ও অর্থনৈতিক সংকট এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৮৩৭ সালে ব্রিটেনে দাস ক্ষতিপূরণ আইন পাস করা হলে মুক্ত করা দাসদের পেছনে প্রায় দুই কোটি পাউন্ড ব্যয় হয়। এই অর্থ দাস মালিকদের পকেট থেকেই যায়। দুই কোটি পাউন্ড দিয়ে তারা তাদের ‘সম্পত্তি’ হারিয়েছিলেন। বিভিন্ন দেশ দাস ব্যবসা থেকে সরে আসার সময়ও ব্রিটিশ অর্থনীতি অতি মাত্রায় শোষণমূলক শ্রমের ওপর নির্ভরতা জারি রেখেছিল। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের শানশওকত বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছিল দাস ব্যবসার কারণে। একই সঙ্গে ওই ব্যবসা ব্রিটেনের অনেক ব্যক্তিকে ধনী করার পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির সম্পদ বৃদ্ধি করেছিল, যার প্রভাব আজও চোখে পড়ে। এ ছাড়া ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাঠামোগত বর্ণবাদ যে এই একবিংশ শতাব্দীতেও বহালতবিয়তে আছে, তার কারণ ওই দাস ব্যবসা। পশ্চিমা দেশগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গরা আজও তুলনামূলকভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক পিছিয়ে। তাদের বেশিরভাগই আফ্রিকান ক্রীতদাসদের বংশধর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত