যৌনরোগ নিয়ে ভীতি, অজ্ঞতা বা সংকোচ আমাদের বিপদ আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই এ সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। যৌনরোগ থেকে ক্যানসার, অন্ধত্ব, সন্তানের জন্মগত ত্রুটি, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গবেষণায় পাওয়া তথ্য বলছে, পৃথিবীজুড়েই বাড়ছে যৌনরোগের প্রকোপ।
উপসর্গ : সাধারণত যৌনাঙ্গ থেকে তরল নিঃসৃত হওয়া, মূত্রে জ্বালাভাব, শারীরিক সম্পর্কের সময়ে ব্যথা বা রক্তপাত, তলপেটে ব্যথা, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, পুঁজ এবং গলায় সংক্রমণ এসব উপসর্গের কোনোটি দেখলে দ্রুতই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোগের ধরন : এইচপিভি (HPV) বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস এমন এক ধরনের ভাইরাস, যা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায় এবং বেশ কয়েক ধরনের ক্যানসারের জন্য দায়ী। অনেকের মধ্যে এই ভাইরাস কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে বছরের পর বছর।
নিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের জন্য কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হলেও তা ১০০ ভাগ সুরক্ষিত নয়। সাধারণত তরলের মাধ্যমে ছড়ায় এমন সব যৌনরোগ থেকে কনডম কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। যেমন- গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া বা এইচআইভি। কিন্তু ত্বকের সংস্পর্শে ছড়ায় এমন সব যৌনরোগ যেমন- সিফিলিস, হার্পিস এবং এইচপিভিকে আটকাতে কনডম তেমন কার্যকরী নয়। অনেকের ধারণা, শুধু শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমেই যৌনরোগ ছড়ায়। কিন্তু বাস্তবে যৌনরোগ সম্পর্কে ভুল ধারণা। হার্পিস বা জেনিটাল ওয়ার্ট ত্বকের সংস্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কে জড়িত থাকলে বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করানো উচিত। বেশির ভাগ যৌনরোগই উপযুক্ত চিকিৎসায় সেরে ওঠে। চিকিৎসায় অবহেলা করলে ভবিষ্যতে এইচআইভির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের সিফিলিস, গনোরিয়া বা হার্পিস হয় তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। তবে সতর্ক ও সচেতন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গোপন না করে অতি দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করলে ভয়ের কোনো কারণ নেই। দেশেই এ ধরনের রোগের উন্নত চিকিৎসা রয়েছে।