আক্ষেপ সরিয়ে সামনে দৃষ্টি সোহাগের

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ০১:৪১ এএম

হাবিবুর রহমান সোহাগ। ঢাকার মাঠে অতিপরিচিত নাম। গত এক যুগে আবাহনী, মোহামেডানসহ বড় বড় দলে ঘুরে ঘুরে খেলা ফুটবলারটিকে সবাই চেনে তার ট্রেডমার্ক ফ্রি-কিকের কারণে। বাঁ পায়ে তার ফ্রি-কিকে নির্ধারিত হয়েছে অনেক দলের ভাগ্য। সেই তিনিই দীর্ঘদিন বয়ে বেড়িয়েছেন আক্ষেপ। কিশোর বয়স থেকে তারুণ্যে পা রাখা পর্যন্ত সমানে খেলে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে। ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৩ দলে খেলা দিয়ে শুরু। ছিলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। সবক’টি বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে ২০১০ সালে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে কুয়েতে খেলেছেন অলিম্পিক বাছাইপর্ব। এরপর থেকেই শুরু সোহাগের অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত ২০২১-এ এসে ফুরোল তা। পজিশন বদলে নিজ দল মোহামেডানের হয়ে আলো ছড়িয়েই ধরা পড়েছেন জাতীয় দলে ইংলিশ কোচ জেমি ডে’র রাডারে। কোচ তাকে ডেকেছেন নেপালগামী জাতীয় দলে। বঞ্চিত থাকার দীর্ঘ আক্ষেপ ভুলে ২৮ বছরের সোহাগ চোখ রাখছেন ভবিষ্যতে। লাল-সবুজের হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার।

গ্রামের বাড়ি নড়াইলে। কিন্তু বেড়ে ওঠা ফুটবলের হাতেখড়ি নারায়ণগঞ্জে। বন্দর থেকে নদী পার হয়ে প্রতিদিন ভোরে চলে আসতেন শহরের ওসমানী স্টেডিয়ামে। সেখানে বন্ধন অ্যাকাডেমির কোচ সুজনের কাছে নেন ফুটবল দীক্ষা। এরপর কিশোর বয়সে খেলেন পাইওনিয়র লিগ। সেখানে খেলা অবস্থায় ২০০৯ সালে সোহাগকে দলে নেয় আবাহনী। আকাশি-হলুদের হয়ে হ্যাটট্রিক লিগ শিরোপা জয়ে অবদান রাখেন সোহাগ। এরপর চার মৌসুম মোহামেডানে খেলেন। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা ও আরামবাগ ঘুরে সোহাগ ২০১৮ সালে ফেরেন সাদা-কালোতে। আর এই ফেরাটাই বদলে দেয় সোহাগকে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে মোহামেডানের ইংলিশ কোচ শন লিনের হাতেই পুনর্জন্ম হয় সোহাগের। গতকাল সেই রূপান্তরের গল্পটাই বলছিলেন সোহাগ, ‘আসলে মাঝখানে খুব ভেঙে পড়েছিলাম জাতীয় দলে সুযোগ না পেয়ে। এরপর মোহামেডানের কোচ শন লিনের অধীনে খেলতে থাকা। কোচ প্রায়ই বলতেন যদি তোমার ১৩-১৪ বছর বয়সে আমি পাশে থাকতাম, তাহলে তুমি এখানে পড়ে থাকতে না, ইউরোপের কোথাও খেলতে। উনি খুব অনুপ্রেরণা জোগাতেন। মাঝেমাঝে অনেক রাগারাগিও করতেন। ভয় পেতাম। কিন্তু বুঝতাম উনি আমার ভালোর জন্যই বকাবকি করছেন। করোনার জন্য বাতিল হওয়া মৌসুমেই এরকম একটা প্রস্তাবের আশায় ছিলাম। করোনার আগে মোহামেডান খুব ভালো খেলছিল। বুঝতে পারছিলাম হয়তো ডাক পাব। শেষ পর্যন্ত এখন ডাক পেলাম। একটা আক্ষেপও ঘুচল। আসলে আমি ছিলাম অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। শন লিন আমাকে সেন্টারব্যাক পজিশনে খেলানো শুরু করলেন মোহামেডানে। এটাই হয়তো আমাকে নতুন করে শুরুর স্বপ্ন দেখিয়েছে।’

ফ্রি-কিক দিয়েই পরিচিতি পাওয়া ঢাকার মাঠে। ভালো ফ্রি-কিক কীভাবে রপ্ত করলেন, জানতে চাইলে সোহাগ শোনালের কঠোর অধ্যবসায়ের কথাÑ ‘প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে। আমি ফ্রি-কিক করতে খুব পছন্দ করতাম ছোটবেলা থেকেই। অনুশীলনেও এটা বেশি বেশি করতাম। সেই থেকে ফ্রি-কিকটা ভালো করি। জাতীয় দলকে নিজের সেরা বৈশিষ্ট্যটা দিয়ে সহায়তা করতে চেষ্টা করব। তবে জাতীয় দলের কোচ আমাকে যে পজিশনে খেলাতে চাইবেন আমি তার জন্যই প্রস্তুত আছি।’

জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। তবে এখনই অনেক বড় স্বপ্ন দেখতে চান না সোহাগ। বরং ধীরপায়ে এগিয়ে যেতে চান, ‘আমি আসলে হুট করে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চাই না। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যেতে চাই। নেপালে খেলার সুযোগ পেলে সেখানে ভালো খেলতে চাই। কোচ জেমি ডে আমাকে এক মাস আগেই হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে কিছু প্রোগ্রাম অনুসরণ করতে বলেছিলেন। গতকাল (মঙ্গলবার) আবারও হোয়াটসঅ্যাপ করে নেপালের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।’

দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে সোহাগের সামনে এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ। তার মতো আরও চার তরুণও পেয়েছেন প্রথমবার জাতীয় দলে খেলার সুযোগ। সবাইকে ছাড়িয়ে সোহাগ লাল-সবুজ জার্সিতে কতটা জ্বলে উঠতে পারেন, তা সময়ই বলে দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত