প্রিমিয়ার লিগের ফিরতি পর্বে টানা ছয় ম্যাচ জিতে হ্যাটট্রিক শিরোপার পথে ভালোভাবেই ছিল বসুন্ধরা কিংস। গতকাল কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মোহামেডানকে হারালে শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে যেত তারা। তবে শফিকুল ইসলাম মানিকের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া মোহামেডান রুখে দিয়েছে তাদের।
আসলে কিংসকে রুখে দিয়েছেন তাদেরই ‘ঘরের ছেলে’ শেখ মোরসালিন। মধ্যবর্তী দলবদলে ধারে কিংসের কাছ থেকে ১৭ বছরের তরুণ মিডফিল্ডারকে নিয়েছিল মোহামেডান। ১১ মিনিটে অসাধারণ গোলে সাদা-কালোদের শিবিরে উৎসবের উপলক্ষ এনে দেন মোরসালিন। ৩৪ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মিগেল ফিগেইরা সেটা শোধ দিয়েছেন ঠিক। তবে পরে আর মোহামেডানের গোলের দরজা খুলতে পারেনি চ্যাম্পিয়নরা। তাতেই দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তৃতীয় ড্রয়ে ১৮ ম্যাচ থেকে কিংসের সংগ্রহ ৪৫ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলা ঢাকা আবাহনীর ৩৮। আজ সাইফ স্পোর্টিংকে হারালে হবে ৪১, কিংসের সঙ্গে ব্যবধান নামবে চারে। মোহামেডান কিংসের জয়রথ থামিয়ে আদতে উপকারটা করেছে চিরশত্রু আবাহনীর। এখন আকাশিরাই পারে লিগটা জমিয়ে তুলতে।
প্রথমপর্বে ২-০ গোলে হারানো মোহামেডান যে শুরু থেকেই এভাবে চ্যালেঞ্জ জানাবে তা হয়নো ভাবেনি কিংস। চোট, কার্ড সমস্যায় নিয়মিত একাদশের তারিক কাজী, বিশ্বনাথ ঘোষ ও রিমন হোসেন ছিলেন না। হোল্ডিং মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদকে সেন্টার ব্যাকে খালিদ সাফিই’র সঙ্গী হতে হয়। আর লেফট ব্যাক পজিশনে খেলেন এ মৌসুমে অনিয়মিত হয়ে পড়া মাহবুবুর রহমান সুফিলকে। তাতে তারুণ্য নির্ভর মোহামেডান শুরু থেকেই আক্রমণে সুবিধা পায়। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শুরু হওয়া ম্যাচের ১১ মিনিটে বিকেএসপির ছাত্র মোরসালিন ঝলকে এগিয়ে যায় মোহামেডান। বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে মোরসালিনের বাঁকানো শট জিকো বুঝে ওঠার আগেই জালে জমা পড়ে। পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ হেলায় নষ্ট করেন মোহামেডানের জাফর ইকবাল। মালির ফরোয়ার্ড সুলেমনা দিয়াবাতের থ্রু ধরে অফসাইড ফাঁদ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড। আগুয়ান জিকোর মাথার ওপর দিয়ে ঠিকঠাক চিপ করলেই ২-০ হয়। তবে ফাঁকা পোস্টে জাফর পারেননি বলটি রাখতে। শুরুর ধাক্কা সামলে আক্রমণে যায় কিংস। ৩৪ মিনিটে মিলেছে ফল। ইয়াসিন আরাফাতের আড়াআড়ি পাস প্রথমে ফরহাদ মনা ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি। মিগেল প্রথমে বলটা ডানপায়ে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাঁ পায়ের ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন। চলতি লিগে সপ্তম গোল করে মিগেল আস্থার প্রতিদান দিলেও রবসন রবিনহো, নুহা মারংসহ বাকিরা পারেননি জ্বলে উঠতে। ৫৫ মিনিটে বিপলুর বাড়ানো পাস ধরে বক্সে ঢুকে রবিনহো চেয়েছিলেন গোল করতে। তবে মোহামেডান কিপার আহসান হাবিব অপু দারুণ ক্ষিপ্রতায় তা রুখে দেন। সেন্টারব্যাক পজিশনে বদলি নেমে কিংসকে রক্ষা করেন বিশ্বনাথ ঘোষ। ৬৭ মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ইয়াসিন আফারাতকে পরাস্ত করে পোস্টে শট নিয়েছিলেন নাইজেরিয়ান ওবি মোনেকে। তবে জিকোকে পরীক্ষায় ফেলতে দেননি বিশ্বনাথ। শেষ দিকে বেশ কটি বদল করে আক্রমণের শক্তি বাড়িয়েছিলেন কিংস কোচ অস্কার ব্রুজন। সুমন রেজা, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মতিন মিয়া ও এলিটা কিংসলে অবশ্য পারেননি শেষ মুহূর্তে কিংস শিবিরে জয়ের আনন্দে মাতাতে।
নিঃসন্দেহে এই ম্যাচের সেরা মোরসালিন। সেটা কেবলই অসাধারণ গোলের জন্য নয়। মাঝমাঠের সপ্রতিভ থেকে কিংসকে সেভাবে আক্রমণ গড়তে না দেওয়া ও হঠাৎ হঠাৎ ডিফেন্স চেরা পাস বাড়িয়ে আলাদাভাবে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তাই তো ম্যাচ শেষে তাকে ঘিরেই হয়েছে মোহামেডান কোচ-কর্তাদের উল্লাস। দূর থেকে সেটা দেখে নিশ্চয় আফসোস করবেন কিংসের কর্তারা। সেটা তারা করতেই পারেন। তবে পরপর দু’ম্যাচে গোল করে মোরসালিন বুঝিয়ে দিচ্ছেন আগমনীবার্তা। তার মধ্যেই বাংলাদেশ খুঁজে নিতে পারে ভবিষ্যৎ তারাকে। যা না থাকাটা এ কালের ফুটবলে যে বড় দীর্ঘশ্বাস।