পড়ার পাশাপাশি উপার্জন

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রজীবনে কীভাবে কাজ করে উপার্জন করা যায় এবং পড়াশোনার ক্ষতি না হয়।  অনেকেরই এ বিষয়ে ধারণা থাকে না। অনলাইন এবং নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বিস্তারিত  জানিয়েছেন মাহামুদা ইসরাত

যে কাজ করতে পারেন

শিক্ষাজীবনে উপার্জনের জন্য প্রথম কাজ হচ্ছে শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করা। মাস্টার্স বা পিএইচডি লেভেলের শিক্ষকদের সাহায্যকারী হিসেবে কাজ । তবে অনেকেই হয়তো জানেন না যে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লেভেলেও শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। অনেক শিক্ষক রয়েছেন যাদের গবেষণার কাজ ও লেকচার থাকে। যা তার ছাত্রদের দিয়ে করিয়ে নেন। এখন যদি আপনি ছাত্র হিসেবে এই কাজগুলো করতে চান তাহলে আপনাকে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভালো সম্পর্ক রাখা।  তাদের জানিয়ে রাখা  আপনি কাজ করতে চান।

এছাড়া শিক্ষাজীবনে উপার্জনের জন্য অন্যের প্রজেক্ট করে দিতে পারেন। অন্য ছাত্রদের বিশেষ করে যারা ইন্টার্ন বা প্রজেক্ট করে থাকেন তাদের সাহায্য করা। এর জন্য প্রথমে আপনাকে  অনেকগুলো প্রজেক্ট সংগ্রহ করতে হবে। তারপর সেই প্রজেক্টগুলো নিয়ে অন্য সিনিয়র রয়েছেন যারা সমস্যায় রয়েছেন তাদের সাহায্য করতে হবে। আর যদি আপনি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ভালো করে শিখে ফেলতে পারেন তাহলে আপনি নিজেই কিন্তু প্রজেক্টগুলো করে দিতে পারবেন অনেককে।

কোচিং সেন্টারগুলোতে এক্সাম কো-অর্ডিনেটর হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে কোচিং সেন্টার রয়েছে। এই কোচিং সেন্টারগুলোতে এক্সাম কো-অর্ডিনেটর নেওয়া থাকে। যাদের কাজ হচ্ছে শুধুমাত্র পরিক্ষা নেওয়া। এখানে সাধারণত ঘণ্টা হিসেবে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।

শিক্ষাজীবনে উপার্জনের আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে কনটেন্ট রাইটিং করা। বর্তমানে কনটেন্ট রাইটারদের চাহিদা আকাশচুম্বী। আপনি পত্রিকায়, ব্লগে লেখালেখি বা ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্টের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।

এ ছাড়াও যারা ইউটিউবার রয়েছে তাদের কিন্তু স্ক্রিপ্ট রাইটার প্রয়োজন হয়। ফেসবুক ইউটিউবের বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপ রয়েছে সেখান থেকে আপনি একটু খোঁজখবর নিলে জানতে পারবেন। এগুলো করার মাধ্যমেই ফ্রিল্যান্স রাইটিং এর মাধ্যমে আপনার পড়াশোনার ক্ষতি না করেই উপার্জন করতে পারবেন।

ছাত্র জীবনে আরও কিছু কাজ রয়েছে তাহলো প্যাসিভ কাজ করা। তা হচ্ছে ব্লগিং করা, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা ইউটিউবিং করতে পারেন । যেগুলোতে আপনাকে নির্ধারিত সময় কাজ করতে হবে না। আপনার সুবিধা মতো কাজ করতে পারবেন। এর বাইরেও আপনি ছাত্রজীবনে অনলাইন টিউশনি করতে পারেন ।

যা করবেন না

প্রথমেই ছাত্রদের যা বাদ দেওয়া  উচিত তাহলো  ই-কমার্স বা অনলাইনের   পোশাক বিক্রি করার ব্যবসা। যা অনিশ্চিত এবং এই ব্যবসায় আপনি যত টাকা বিনিয়োগ করেন না কেন এখান থেকে লাভ বের করা কঠিন।

ছাত্র হিসেবে আপনার কিন্তু পড়াশোনা রয়েছে, পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে তো আপনি বেশি সময় দিতে পারবেন না।  যদি করতে চান তাহলে আপনি বিভিন্ন উপলক্ষে পোশাক বিক্রি করতে পারেন। ছাত্রদের এর পরে যে ব্যবসা এড়িয়ে যাওয়া উচিত সেটি হচ্ছে অর্গানিক পণ্য বিক্রি করার ব্যবসা।

অনেক ছেলেমেয়ে রয়েছে যারা শুরুতেই ফেসবুকে পেইজ খুলে মধু, ঘি বিক্রি করার চেষ্টা করে। এগুলো বিক্রি করা খারাপ না কিন্তু ছাত্র হিসেবে আপনার যে লাভ থাকবে সেটি আপনার জন্য বেশি নাও হতে পারে। ছাত্র জীবনে কখনো অ্যাড ক্লিক করে অথবা কোনো অ্যাপ্লিকেশন থেকে উপার্জন করার চেষ্টা করা উচিত নয়। এখানে যে পরিমাণ সময় বিনিয়োগ ক বা সময় দিতে হবে সেই পরিমাণ উপার্জন আপনি পাবেন না।

বিনিয়োগ করতে হয় এবং সহজেই টাকা পাওয়া যায় এমন কাজ বাদ দিন । ডাটা এন্ট্রি বা এই ধরনের কাজ না করাই ভালো। এই কাজগুলো করার মাধ্যমে আপনি খুবই সামান্য আয় করতে পারবেন। দেখুন ডাটা এন্ট্রির কাজ করা অথবা ওয়েব রিসার্চের কাজ করা কিন্তু খারাপ না। রেফারেন্স ছাড়াই অপ্রচলিত চাকরি পাবেন কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এখানে আপনার যে সময় ব্যয় করতে হবে তার থেকে এবং সেখান থেকে যে আয় হবে সেটা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট ক্যালকুলেশন করলে খুব একটা ভালো আসে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত