কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকিমুক্ত থাকুন

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

অফিস যে খুব নিরাপদ জায়গা তা কিন্তু নয়। পদে পদে আছে বিপদের আশঙ্কা। বুঝতে হবে তার গতি-প্রকৃতি। নানা কারণে আপনি বিপদে পড়তে পারেন। আপনার চাকরি হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এখানে আপনার জন্য রইল নানা রকম বিপদ এড়াতে দশ পরার্মশ।

হতে পারেন আপনি যোগ্য কর্মকর্তা, দক্ষতাও বেশ কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়। যদি অল্প বেতনে আপনার চেয়ে যোগ্য কাউকে পাওয়া যায় তাহলে আপনার চাকরি হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। তাই চাকরির বাজারের খোঁজখবর রাখতে হবে। ‘চাকরি পেয়ে গেছি, মাস শেষে বেতন পাচ্ছি’ মানেই আপনি সম্পূর্ণ নিরাপদ নন। নতুন যে কেউ এই নিরাপত্তা বলয় ভেঙে দিতে পারে।

আপনি যদি বসের সুনজরে না থাকেন তাহলে এই বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। বসের সুনজরে থাকাটা নিরাপত্তার একটা ধাপ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সুতরাং আপনার কার্যক্রম সম্পর্কে বসের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বস অখুশি মানে আপনি অথৈ সাগরে আছেন। দ্রুত কূলকিনারা খুঁজে বের করতে হবে।

আপনার দক্ষতা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয় তাহলে এটা অবশ্যই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যদিও আপনার চোখের সামনেই অনেক অযোগ্য লোক দিব্যি মাস শেষে বেতন নিচ্ছেন অর্থাৎ তাদের চাকরি টিকে আছে। তার মানে এই নয় যে, সেটা চিরদিন চলবে। আর ব্যতিক্রম কখনো নিয়ম হতে পারে না। তাই এই সাধারণ কারণগুলো সম্পর্কে আপনি অন্তত সব সময় সচেতন থাকবেন।

আরেকটি বড় ধরনের বিপদ হচ্ছে, আপনি যদি বসের তুলনায় বেশি দক্ষ হয়ে থাকেন আর এই কারণে বস যদি আপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ করেন। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দক্ষতা জাহির করা কখনো কখনো কাল হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ জ্ঞান ব্যবহার করলেই আপনি এই বিপদগুলো আঁচ করতে পারবেন।

একইভাবে আপনার অধস্তনরা যদি আপনার চেয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন তাহলেও আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আপনি যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার অধস্তনের চেয়েও দক্ষ না হয়ে ওঠেন তাহলে একদিন তাদের সুপারভাইজ করার দক্ষতা আপনি হারাবেন। সেদিন আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবেই। শুধু পদবি-বলে খুব বেশিদিন বস হিসেবে টিকে থাকা যায় না। 

আপনি অন্য কোথাও চাকরি খুঁজছেন বা বর্তমান চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন এমন খবর যদি টপ ম্যানেজমেন্ট জানতে পারে তাহলেও বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানবসম্পদ বিভাগ আপনাকে ডাকবে। যদি আপনি মূল্যবান হন, আপনাকে ধরে রাখার জন্য কাউন্সেলিং করবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনাকে ডাকবেই না, সুযোগ বুঝে বরখাস্ত করে দেবে। তাই যতক্ষণ চাকরিতে বহাল আছেন আপনার এই ধরনের কার্যক্রম গোপন রাখুন এবং মনোযোগ দিয়ে কাজ করুন। চাকরি যখন ছাড়বেন প্রতিষ্ঠানের বিধি মেনেই ছাড়বেন। তাহলেই আর কোনো সমস্যা হবে না।

এটা খুবই সাধারণ কথা যে, আপনি যদি প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত প্রত্যহিত বিধিনিষেধ মেনে না চলেন তাহলে আপনার চাকরি চলে যেতে পারে। কিন্তু এর পরেও অনেকের চাকরি টিকে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ, হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, অফিসে কেউ কেউ অনেক দেরি করে আসেন তবুও বস তাকে বকা দেন না। মোলায়েম শাসনে দায়িত্ব পালন সমাপ্ত করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের খুব দক্ষ কর্মকর্তাদের এই বিশৃঙ্খলা কখনো কখনো ওভারলুক করা হয়। কিন্তু সব কিছুর সীমারেখা আছে। আপনি প্রতিষ্ঠানের সীমারেখা অতিক্রম করে বিধি ভেঙেও এখনো টিকে আছেন হয়তো। এটা কিন্তু শেষ কথা নয়। যেকোনো দিন আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নতুন বস মানে নতুন বিপদের আশঙ্কা। নতুন বস এলে আপনার চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। হয়তো ভালোই ছিলেন আগের বসের অধীনে। সুনামের সঙ্গেই কাজ করছিলেন। এতে কোনো নিশ্চয়তা নেই যে নতুন বস আপনাকে একইভাবে মূল্যায়ন করবেন। সুতরাং নতুন বস মানেই নিজেকে নতুনভাবে স্থাপন করার কাজ শুরু করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত