বজ্রপাতের জীবন বাঁচাতে পারে ‘৩০ সেকেন্ড-৩০ মিনিটের নিয়ম’

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

চলতি বছরে সারা দেশে বজ্রপাতে উল্লেখযোগ্য হারে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। যা প্রায় প্রতি বছরেই প্রাকৃতিক এ দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্তু প্রতিকারের কোনো উপায় মিলছে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘একটি সহজ নিরাপত্তা নির্দেশিকা’ ৩০ সেকেন্ড ও ৩০ মিনিটেরে একটি নিয়ম' মেনে চললে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। এ বছর এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে ৭২ জন মারা গেছেন, যাদের বেশিরভাগই খোলা মাঠে কাজকরা কৃষক।

সর্বশেষ ২৬ এপ্রিল একদিনেই বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ)।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নত হলেও ঘন ঘন মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, মানুষ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিলে আগাম সতর্কতা যথেষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শুধু সতর্ক বার্তা শোনাই মূল কাজ নয়, বরং কী করতে হবে, তা জানা প্রয়োজন। বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে সহজও কার্যকর হলো ‘৩০ থেকে ৩০ একটি নিয়ম’।

এই নিয়ম দুটি ধাপে কাজ করে

বজ্রপাতের আলো দেখামাত্র সেকেন্ড গণনা শুরু করতে হবে। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বজ্রধ্বনি শোনা গেলে বুঝতে হবে বজ্রঝড় একদম কাছে এবং বিপদ বয়ে আনছে। তখনই ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিতে হবে। ঘরে ঢোকার পর শেষ বজ্রধ্বনি শোনার অন্তত ৩০ মিনিট পর বাইরে যাওয়া উচিত।

প্রথম ৩০ সেকেন্ড আপনাকে জানায় বিপদ কতটা কাছে, আর পরের ৩০ মিনিট নিশ্চিত করে যে ঝুঁকি কেটে গেছে। মানুষ নিয়মটি কঠোরভাবে মেনে চললে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।

দেশে অনেক মানুষ বজ্রপাতে মারা যাওয়ার কারণ হলো বজ্রপাতের আলো দেখার পরও তারা অনেকক্ষণ বাইরে থেকে যান। অনেক সময় তারা মাঠ থেকে গবাদি পশু আনা, কৃষিকাজকরা বা বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার কারণে এ বিপদের সম্মুখীন হন।

গ্রামীণ এলাকায় বিশাল খোলা মাঠে থাকা কৃষকদের জন্য ঝুঁকি বেশি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মানুষ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বা ঝড়ের সময় মাঠ পার হওয়ার সময় বজ্রপাতে মারা গেছেন। এসব জায়গা লজ্রপাত থেকে সুরক্ষায় নিরাপদ নয়।

কর্তৃপক্ষ নিয়মটির পাশাপাশি একটি সহজ্রবার্তা প্রচার করছে, সেটি হলো- 'শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই'। এখনই বজ্রধ্বনি শোনা যাবে, তখনই দৌড়ে ঘরে যেতে হবে। কারণ, ঘর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।

এবিষয়ে সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ) সম্প্রতি কৃষকদের বজ্রপাত-সম্পর্কিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে। সেগুলো হলো- খোলা আকাশের নিচে কাজ করার সময় কালো মেঘ দেখামাত্র নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া। কোনো অবস্থাতেই বৃষ্টির সময় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং মাঠে কাজ করার সময় অবশ্যই জুতা ব্যবহার করা। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত