আরামের পোশাকে স্বস্তির ভ্রমণ

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ এএম

ছুটিতে অনেকেই পরিকল্পনা করছেন ঘুরতে যাওয়ার। ভ্রমণের জন্য জানা চাই উপযোগী পোশাকতত্ত্ব। স্থান, পরিবেশ, আবহাওয়াভেদে পরিবর্তন আসে পোশাকের। ভ্রমণস্থল যেখানেই হোক না কেন, পোশাক হওয়া চাই আরামদায়কও সহজ পরিধেয়। ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ হলো পোশাকের ফেব্রিক নির্বাচন। ভ্রমণ পোশাকের আদ্যোপান্ত লিখলেন মোহসীনা লাইজু

ভ্রমণের সময় জরুরি হলো ব্যাগে কী নিচ্ছি আর কী নিচ্ছি না। কোন পরিবেশে কেমন পোশাক না হলেই নয়। যারা এই মৌসুমে দেশের মধ্যে বেড়াবেন কিংবা বিদেশে যাবেন দুটোরই হিসাব হবে আলাদা। যদি মনে করেন পাহাড়ে বেড়াতে যাবেন, এই ধরুন বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এসব অঞ্চল, তাহলে অবশ্যই পাহাড় এলাকার আবহাওয়া মাথায় রেখে পোশাক বেছে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে পাহাড়ে ওঠার হাফপ্যান্ট হতে হবে মোবাইল পকেট স্টাইলের। এতে করে চলাফেরার জন্য দরকারি জিনিস বহন করার সুবিধা হয়। শীতের সময় বেছে নিতে পারেন কার্গো প্যান্ট । ভারী পোশাক এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ চলাচলে অসুবিধা দেখা দেবে। পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ এড়িয়ে যেতে হবে। জিনস টপ, সিঙ্গেল কামিজ, টি-শার্ট উপযুক্ত পোশাক হবে। পাহাড়ে চড়তে গেলে পা আটকানো অধিক খাদওয়ালা জুতা থাকা জরুরি। এক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই স্নিকার বা ক্রোকস-স্টাইল ক্লগ, ফোম ক্লগ বা ক্লগ স্যান্ডেল বেছে নিতে পারেন। আবহাওয়া বুঝে পোশাক পছন্দ করা জরুরি। কারণ বৃষ্টির মৌসুমে আপনি হয়তো ভারী ভারী পোশাক পরলেন। কিছু দূর হাঁটাহাঁটির পর দেখলেন ঘেমে যাচ্ছেন। তাই খুব ভারী পোশাক এড়িয়ে এমন পোশাক বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যা প্রয়োজনে খুলে রাখতে পারবেন। ভর্তিব্যাগ পোশাক কাঁধে নিয়ে ঘোরারও দরকার নেই। জিনস প্যান্ট পরলে তা অবশ্যই আরামদায়ক হতে হবে।

এ তো গেল পাহাড়ের পোশাক। সমুদ্রের পোশাক হবে আরও আলাদা। আমাদের দেশের সমুদ্রসৈকতে সাধারণত খুব একটা শীত অনুভব করা যায় না। তাই স্বাচ্ছন্দ্যেই পরা যায় পোশাক বেছে নিতে হবে। এক্ষেত্রে হাফপ্যান্ট বা পাতলা ট্রাউজারই বেশি মানানসই হবে। সঙ্গে টি-শার্ট আর সি-বিচের হাফপ্যান্ট হতে পারে। এখানে লাইক্রা মিশ্রিত কাপড়ের টি-শার্ট, থ্রি-কোয়ার্টার ও ট্রাউজার পরতে পারেন। রোদচশমা ও পানির বোতল সঙ্গে থাকা জরুরি। রোদের তীব্রতা থাকলে রোদচশমার সঙ্গে ক্যাপ বা হ্যাট রাখতে পারেন। সাগরের তীর বালুকাময়। তাই পায়ের জন্য ছেলেমেয়ে উভয়ই দুই ফিতার ফ্লিপ ফ্লপ স্যান্ডেল বেছে নিতে পারেন।

যদি কোনো রিসোর্ট বা গ্রামে বেড়াতে যেতে চান তাহলে সুমিং পুল কিংবা গ্রামের পুকুরে সাঁতার কাটতে পারেন এমন পোশাক বেছে নিন। যারা একদমই শহরে থেকে অভ্যস্ত তাদের জামাকাপড় বেছে নিতে হবে ভেবেচিন্তে। শিশুদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন থাকতে হবে। হাওর বা সুন্দরবনের ক্ষেত্রে পোশাক বেছে নেওয়ার হিসাব হবে আলাদা। সুন্দরবনে হাঁটতে হলে গামবুট সঙ্গী করতে পারেন।

দেশের বাইরে যারা যেতে চান তাদের জন্য নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। একেক দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ একেক রকম হবে। ইউরোপের দেশগুলোতে একটু শীত বেশিই থাকে। আবার একই দেশে যেমন আমেরিকায় দু-তিন রকমের আবহাওয়া রয়েছে। তাই যে দেশেই বেড়াতে যান না কেন। যাওয়ার আগে ইন্টারনেটে সেখানকার আবহাওয়া ও পোশাক সম্পর্কে জেনে নিয়েই ব্যাগ গোছাবেন। তেমনি পরিচিত কেউ থাকলে আগেভাগেই জেনে নিতে পারেন।

অনেক সময় হুটহাট ভ্রমণে বের হয়ে গেলেন। কোন পোশাকের সঙ্গে কোন পোশাক পরবেন মিলিয়ে নিতে পারলেন না। তাই দ্রুত পোশাক বেছে নেওয়ার সময় ট্রেন্ডি কো-অর্ড সেট কিংবা টি-শার্ট ট্রাউজার উপযুক্ত হবে। ভ্রমণে ঝটপট আরামদায়ক পোশাক হিসেবে জনপ্রিয় কো-অর্ড সেট। ভ্রমণের পোশাক বাছাই করার সময় টপ বা বটম যেটাই হোক না কেন, সঙ্গে পকেট থাকলে ভালো। এতে ভ্রমণের সময় ছোটখাটো প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গও পকেটে রাখতে পারবেন, দেখতেও লাগবে স্টাইলিস্ট। আজকাল ছেলেদের মতো মেয়েদের পোশাকেও নানা নকশার পকেট থাকে। গরমে ঢিলেঢালা সুতি হারেম প্যান্টের কদর আছে। এগুলোতেও পকেটের সুবিধা রয়েছে। ইউনিসেক্স, তাই ছেলেমেয়ে উভয়ই পরতে পারবেন আর ভ্রমণে বেশ স্বস্তিও দেবে। যারা অনেক বেশি ভ্রমণপ্রিয় তারা ডিজাইন দিয়ে পোশাক বানিয়ে নিতে পারেন।

সমুদ্রে যাবেন যখন

সমুদ্র ভ্রমণ অনেকটা আবেগের বিষয়। ভ্রমণের সঙ্গে ছবি তোলার বিষয়টা আজকাল অনেক গুরুত্ব পায়। তাই সমুদ্রসৈকতের জন্য বেছে নিতে পারেন ম্যাক্সি জামা, প্রিন্টেড লং শর্টস, জাম্পস্যুট, কিমোনো কিংবা রঙিন কাফতান। সুতি বা ডেনিম শর্টসের সঙ্গে বডি হাগিং ট্যাংক টপ বা স্প্যাগেটিও বেশ মানাবে। অনেক বেশি রঙিন পোশাক বেছে নিতে পারেন।

সমুদ্রের নীল রঙের সঙ্গে অনেকে নীল পোশাক পছন্দ করেন। নীল আকাশ আর নীল পোশাক মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। অন্যদিকে সমুদ্র ভ্রমণে ছেলেদের জন্য উপযুক্ত পোশাক হতে পারে রঙিন লিনেন ফ্লোরাল শার্ট, হাওয়াই বা কিউবান কলার শার্ট। ফ্লোরাল বা ছাপা নকশার হলে বেশ মানাবে। চিনোস অনেক ছেলেদের পছন্দের তালিকায় থাকে। শটস যাদের পছন্দ না সেসব ছেলেরা ট্রাউজার বা থ্রি-কোয়ার্টার সমুদ্র ভ্রমণের পোশাক হিসেবে বেছে নিতে পারেন।

যখন পাহাড়ে যাবেন

পাহাড়ে তীব্র রোদ এবং বৃষ্টি দুটোই পাওয়া যায়। পাহাড়ে বেড়াতে গেলে অবশ্যই রেইনকোট রাখতে হবে। হাঁটাচলার সুবিধার্থে ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য ঢিলেঢালা আর স্ট্রেচি ফেব্রিকের প্যান্ট পরা উচিত। টুইন ওয়ান কার্গো প্যান্টও বেছে নিতে পারেন ছেলেরা। সঙ্গে টি-শার্ট, সুতির শার্টও মানানসই হবে।

জঙ্গলে যেতে পারেন

জঙ্গলে যাওয়ার পোশাকও কিন্তু আলাদা হবে। মেয়েদের জন্য টপস, টিউনিক, কুর্তি, কাফতান কিংবা টি-শার্ট যেকোনোটাই হতে পারে। তবে সুতির পোশাক হলে সবচেয়ে ভালো হয়। সঙ্গে অনুষঙ্গ হিসেবে স্কার্ফ রাখলে বিভিন্ন সময় কাজে আসবে। অন্যদিকে ছেলেদের জন্য এ সময় টি-শার্ট, সুতির শার্ট কিংবা ফতুয়াও বেশ মানাবে।

জেনে রাখুন

সুতি কাপড় বাতাস চলাচলে সুবিধা এবং ঘাম শোষণক্ষমতাও বেশি। সুতির পরই গরমে আরামদায়ক কাপড় হতে পারে নরম লিনেন। এ ছাড়া ভিসকস, খাদি, ধুপিয়ান, শিফন, সিল্ক কাপড়ের ঢিলেঢালা শার্ট, টি-শার্ট, কুর্তি কিংবা ফতুয়া বেছে নিতে পারেন। ভ্রমণের জন্য ঢিলেঢালা বা ওভারসাইজ পোশাকই বেশি ট্রেন্ডি।

কোনো অবস্থাতেই ভারী বা সিনথেটিক কাপড় বেছে নেওয়া উচিত না। গরমের সময় ভ্রমণে হালকা রঙের পোশাক বেছে নেওয়া ভালো। হালকা রঙের পোশাক পরতে যেমন আরাম, চোখকেও দেয় প্রশান্তি। এর মধ্যে সাদা রঙের পোশাক সবচেয়ে আরামদায়ক কারণ, এর তাপ শোষণের ক্ষমতা খুব কম। সাদার পর হলুদ, ধূসর ও লাল রঙও শরীর ঠান্ডা রাখে। গোলাপি, বেগুনি, নীলের হালকা শেডও বিকল্প হতে পারে। টি-শার্ট, ট্যাংক টপ বা ক্রপ টপের ওপর সুতি শ্রাগ, লিনেন শার্ট বা হালকা কটন কার্ডিগান পরলে ফ্যাশন ও ভ্রমন দুটোই যুতসই হবে।

প্লেনে ভ্রমণ করেন, ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচতে লেয়ারিং কাজে আসবে। আবার ফ্লাইট থেকে নেমে হঠাৎ একটু বেশি গরম অনুভব করলে ওপরের লেয়ারটা খুলে রাখারও সুবিধা থাকে। লেয়ারিং পোশাকের ক্ষেত্রে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সমুদ্র, পাহাড় বা সমতল, দেশ বা বিদেশ গন্তব্য যেখানেই হোক, সেখানকার আবহাওয়া, তাপমাত্রা ইত্যাদি জেনে তবেই ব্যাগ গোছানো উচিত। না হলে বেড়াতে গিয়ে আনন্দ মাটি হবে। বেশি পোশাক বা জিনিসপত্র নেওয়া বহন করা ঠিক হবে না। অনেকেই আছেন ভ্রমণ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটা করেন। তাই ভ্রমণের সময় এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। ভারী ব্যাগ টানাটানিতে ক্লান্তি ও বিরক্তি দুটোই বাড়ে।

মডেল : আমির পারভেজ ও জাকিয়া ইমি

পোশাক : রঙ বাংলাদেশ

ছবি : আবুল কালাম আজাদ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত