মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দায়টা ব্যাটসম্যানদের তাড়াহুড়োয়

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৩৫ পিএম

সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের হারকে বিপর্যয় ছাড়া অন্য কিছু বলার উপায় নেই। দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও সামান্য লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৫১ রানে হারের চেয়েও বড় কথা যে সাড়ে তিন দিন খেলা হয়েছে তাতে স্বাগতিকরা কখনও চলকের আসনে বসতে পারেনি। কেন এমন হলো? দল নির্বাচনে ভুল, না উইকেটের রহস্য বুঝতে পারেননি মাহমুদউল্লাহরা? নাকি টেস্ট খেলাটাই ভালভাবে রপ্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ?

প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে একবার পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ বুলানো যাক। বাংলাদেশ সর্বশেষ চার টেস্টের ৮ ইনিংসে ২০০ রানের গণ্ডি পার হতে পারেনি। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জাও আছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত খেলা চার টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ১৬৯। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে এই স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যানের সাক্ষ্য থেকে পরিষ্কার বাংলাদেশের টেস্ট ব্যর্থতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে সিলেটের হার বেশি দৃষ্টিকটু লাগছে কারণ একে তো ঘরের মাঠ হার, তাতে আবার প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে ১৭ বছর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জেতেনি।

মাঠে বসেই উত্তরসূরিদের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখেছেন সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান। এমন ব্যর্থতায় ব্যটসম্যানদেরকেই দাঁড় করাতে চাইলেন কাঠগড়ায়, ‌‍‌‌“হারটা বড্ড হতাশার। আমি ব্যাটসম্যানদেরকেই দুষবো এর জন্য। তাদের মানসিকতায় বড্ড ঘাটতি ছিল। যারা খেলেছে তাদের আসলে লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেট খেলার প্রস্তুতি নেই বলেই মনে হয়েছে।”

রকিবুল শট নির্বাচনেও সমস্যা দেখেছেন, “খুব বেশি শট খেলাটা বড় সমস্যা আমাদের ব্যাটসম্যানদের। টেস্টে তাড়াহুড়োর সুযোগ নেই। সেশন বাই সেশন পরিকল্পনা করে খেলতে হয়। সেটা তারা করতে পারেনি। টেস্টের ছন্দটা অনুপস্থিত ছিল বলেই শর্টার ভার্সনে যারা ধারাবাহিক তারাও ব্যর্থ হয়েছে।”

বাংলাদেশকে হারানোর পর জিম্বাবুয়ের কোচ লালচাঁদ রাজপুতের কথাতেও এর প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছিল, “আমরা জানতাম প্রতিপক্ষের শট খেলার প্রবণতার কথা। আর শট খেলতে গিয়ে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের ভুল করার সুযোগ নিয়েছি আমরা।”

টেস্টে শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেওয়া অবশ্য বাংলাদেশের পুরাতন রোগ। ওয়ানডেতে ঝুঁকি নিয়ে শট খেলে সফল হওয়া গেলেও টেস্টে ফল পেতে ধৈর্য ধরতে হয়।‌‌‍

সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৪৩ রান। দলে একজন পেসার কম খেলিয়ে ৭ জন ব্যাটসম্যান খেলানো হয়েছিল। পরের ইনিংসেও সাত ব্যাটসম্যান খেলানোর সুফল মিলেনি স্বাগতিকদের। দল নির্বাচনে কি তবে কোনো ভুল ছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলেও জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া তুষার ইমরান দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘উইকেট যেমনই হোক দুই পেসার না নিয়ে টেস্ট খেলতে নামা বোকামি। আমার মনে হয়, সিলেট টেস্টে দুই পেসার দুই স্পিনার নিয়েও আমরা অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান খেলাতে পারতাম।”

তবে শুধু দল নির্বাচনের ভুলেই যে সিলেটে বিপর্যয় হয়েছে এমনটাও মনে করেন না তুষার, “আমার মনে হয় তামিম এবং সাকিবের অনুপস্থিতিও হারের বড় কারণ। তাছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে অনুশীলন ছাড়া লম্বা সংস্করণে নামলে মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয়। তাইজুল ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছিল। সেকারণে ১১ উইকেট নিয়ে সফলও হয়েছে।”

কিন্তু তাইজুলের সাফল্য দলের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে পারেনি। যদিও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ সিলেটের হারকে দেখছেন বড় শিক্ষা হিসেবে। ভুলগুলো শুধরে ঢাকায় ঘুরে দাঁড়ানোর কথাই শোনা গেছে তার মুখে।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত