মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে বিদেশিরা

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:৩৬ পিএম

জাতীয় নির্বাচনের তোড়জোড় ও ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের মধ্যে পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে বিদেশিরা। চলতি বছরের শুরু থেকে ১০ মাসে তুলে নেওয়া বিদেশি বিনিয়োগের প্রায় অর্ধেক প্রত্যাহার হয়েছে অক্টোবরে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে নিট ৪৭০ কোটি টাকার বিনিয়োগ তুলে নেন বিদেশিরা। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরেই তোলা হয়েছে ২০১ কোটি টাকা যা ১০ মাসের মোট প্রত্যাহার করা বিনিয়োগের প্রায় ৪৩ শতাংশ।

গ্রামীণফোন, বাটা সু, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, বিএসআরএম ও বার্জারের মতো শক্ত মৌলভিত্তির কোম্পানি থেকেও তারা বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে। বিদেশিদের শেয়ার বিক্রি বেড়ে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাবে পুঁজিবাজারে সূচকের পতন ত্বরান্বিত হচ্ছে।

শেয়ার বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ২০১৮ সালের ১০ মাস শেষে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ কমে একহাজার ২৩৪ কোটি টাকায় নেমেছে, যার পরিমাণ ২০১৭ সাল শেষে ছিল একহাজার ৭০৫ কোটি টাকা।

এই ১০ মাসে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন বিদেশিরা, বিপরীতে বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকার শেয়ার। সে হিসেবে এসময়ে নিট ৪৭০ কোটি টাকার বিনিয়োগ তুলে নিয়েছেন বিদেশিরা। শুধু অক্টোবরে ৪৮৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে, বিপরীতে বিদেশিরা কিনেছে ২৮২ কোটি ৯০ লাখ টাকার। নিট বিনিয়োগ প্রত্যাহার হয়েছে ২০১ কোটি টাকা।

ডিএসইর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই ১০ মাসে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি ১৮৭ কোটি টাকার নিট বিদেশি বিনিয়োগ হয় জানুয়ারিতে। মার্চেও ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বিদেশিরা। তবে এরপর থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস ধরে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেন। এর মধ্যে মে ও জুন মাস মিলে ৪৯০ কোটি টাকার বিনিয়োগ তুলে নিয়ে যায় বিদেশিরা। সেপ্টেম্বরে অল্প যোগ হলেও অক্টোবরে আবার বড় অংকের বিনিয়োগ প্রত্যাহার হয়।

ডিএসইতে স্মরণকালের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয় ২০১৭ সালে। এ সময় বিদেশিরা মোট ১১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা করেন। আগের বছর তারা মোট ৮ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা করেছিলেন এবং নিট বিনিয়োগ ছিল ১ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। আর ২০১৭ সালে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ বেড়ে ১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়, যা চলতি বছরের অক্টোবর শেষে ১ হাজার ২৩৪ কোটি টাকায় নেমে আসে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত হার অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ডলারের দর ছিল ৮২ টাকা, যা  অক্টোবর শেষে ৮৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত