বিশেষ জরুরি সেবা দিতে প্রস্তুত হাসপাতাল

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:৩৬ এএম

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আজ ভোটগ্রহণ। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে বিশেষ জরুরি সেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব ধরনের সাধারণ ছুটি বাতিল করে চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়সহ অন্যান্য জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চিকিৎসক, নার্সসহ সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো দপ্তরের নির্দেশনা না পাওয়ায় কারো পূর্বনির্ধারিত ছুটি বাতিল করা হয়নি।

নির্বাচনের দিন বা আগে পরে সহিংসতা হলে ব্যাপকসংখ্যক রোগীর চাপ পড়তে পারে এই অবস্থা মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের প্রস্তুতি কতটুকু জানতে চাইলে পরিচালক বলেন যত বেশি সংখ্যক রোগীই আসুক না কোনো চিকিৎসক, নার্স ও সরঞ্জামসহ আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। তাই ঢামেক হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত আছে।’

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড) কর্র্তৃপক্ষও তাদের চিকিৎসক ও নার্সসহ সবাইকে ছুটি না নিতে অনুরোধ করেছে। নির্বাচনের দিন বাড়তি রোগীর চাপ তৈরি হলে তারা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হাওলাদার বলেন, ‘একান্ত প্রয়োজন ছাড়া চিকিৎসক ও নার্সদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে না।’

দেশের সবগুলো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রস্তুত রাখা ও অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে সচল রাখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর তিন দিন নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজনে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পঙ্গু হাসপাতালসহ দেশের সব বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালসমূহ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত এবং অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডবাই রাখতে হবে।

সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর প্রায় ৮ লাখ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া ৭ লাখের মতো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাও অন্যান্য কাজে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতি সংসদ নির্বাচনেই সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটে থাকে। দলীয় কর্মী-সমর্থকের সঙ্গে সহিংসতায় নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকবলও আহত কিংবা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই অবস্থায় পর্যাপ্ত জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত