বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতে নাকাল মানুষ, বাড়ছে রোগ

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:১৩ এএম

মধ্য পৌষে চুয়াডাঙ্গায় আঘাত হেনেছে তীব্র শীত। শীতের তীব্রতা প্রতিদিনই বাড়ছে। দিনের অধিকাংশ সময় ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে আকাশ। উত্তরের ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েক গুণ। তীব্র শীত আর কনকনে হাওয়ায় কারণে অনেকটা বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গার ছিন্নমূল মানুষ। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।

গত এক সপ্তাহ ধরেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রতিদিনই তাপমাত্রার পারদ নিচে নামতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে জেলায় তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে নেমেছে। আর এ কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। তীব্র শীতের কারণে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও দিনমজুরেরা। দিনের অধিকাংশ সময়ই ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে আকাশ। একই সঙ্গে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় এবং উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বাইরে বের হচ্ছেন না।

ছিন্নমূল মানুষেরা গরম কাপড়ের অভাবে কষ্টে আছেন। খড়কুটায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।

গত এক সপ্তাহ ধরে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতের কারণে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না।

সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। শীতের তীব্রতা বাড়ার কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামের আবদুল জলিল জানান, তিনি মাটিকাটা শ্রমিক। গত তিন দিনে তিনি শহরে এসে কোনো কাজ পাননি। কনকনে শীতই কাজ না পাওয়ার কারণ বলে জানান তিনি।

একই কথা জানান, সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের দিনমজুর সবদুল ম-ল। তিনি বলেন, শীতের কারণে কোনো মহাজনই কাজ করাতে চাইছেন না। ফলে কাজ না পেয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন খায়রুল আলম জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। প্রতিদিনই প্রায় অর্ধশত রোগী নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়াসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয়ের পর্যবেক্ষক সামাদুল হক জানান, এবার একটু বিলম্বে শীত এসেছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। কারণ প্রতিদিনই নিচে নামছে তাপমাত্রার পারদ। যদিও গতকাল বুধবার রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশ ছিল। তার পরও কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস অব্যাহত থাকায় তাপমাত্রার সুফল পাচ্ছে না মানুষ। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, ‘গত বছরের কিছু শীতবস্ত্র আমাদের গুদামে ছিল। চলতি মৌসুমেও ঢাকা থেকে কয়েক হাজার শীতবস্ত্র এসেছে। কিছু বিতরণ করা হয়েছে। নির্বাচনের কারণে পুরাপুরি বিতরণ করা হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যেই জেলার ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত