শীত এলেই আতঙ্কে থাকেন কুড়িগ্রামের হাতিয়ার মাঝিপাড়া গ্রামের মানুষ। কারণ আগুন পোহাতে গিয়ে এ সময় ঘটে থাকে অনেক দুর্ঘটনা। গত বছর আগুন পোহাতে গিয়ে পুড়ে মারা যান হরিমণি দাসী। এবারও রংপুর মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিট শীতের আগুনে পোড়া রোগীতে ঠাসা। এরই মধ্যে মারা গেছেন দুজন।
বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, গত তিনদিনে আগুন পোহানোর সময় দগ্ধ হয়ে ২২ জন নারী, পুরুষ ও শিশু ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জের রাজিয়া বেগম (২৭) ও আদিতমারী উপজেলার মোমেনা বেগম মারা যান। বাকিদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আর একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ৫ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। ফলে বিপাকে পড়েছে হতদরিদ্র পরিবারগুলো। তারা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। আর এতেই ঘটছে এসব দুর্ঘটনা।জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রৌমারীর দাঁতভাঙ্গার চরের আমেনা খাতুন দেশ রূপান্তরকে জানান, তীব্র শীতে সকালে তিনি ধানের খরে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করছিলেন। একপর্যায়ে তার শাড়িতে আগুন লেগে পা থেকে কোমর পর্যন্ত পুড়ে যায়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার নয়টি উপজেলায় ৪২ হাজার কম্বল এরই মধ্যে বিতরণ শেষের দিকে। আরও শীতবস্ত্র চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, শীতবস্ত্রের ব্যাপারে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। হয়তো কয়েকদিনের মধ্যে তারা শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করবেন।
