ইয়াবা সেবনের পর দুই শিশুকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০৫:৩৬ পিএম

রাজধানীর ডেমরায় চাঞ্চল্যকর দুই শিশু হত্যায় ঘাতক গোলাম মোস্তফা (৩০) ও মো. আজিজুল বাওয়ানীকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে  যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের প্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ বলছে, ইয়াবা সেবনের পর দুই শিশুকে ‘ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে’ গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

তারা জানায়, লিপস্টিকের প্রলোভন দেখিয়ে ওই দুই শিশুকে নিজ বাসার রুমে ডেকে নেয় গোলাম মোস্তফা ও আজিজুল ইসলাম। সেখানেই হত্যা করা হয় শিশু দুজনকে।

এ ঘটনায় ডেমরা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক হত্যার ঘটনা তদন্তে গতকাল বুধবার ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহমুদ সাইদুল কবীর। অপর দুই সদস্য হলেন উপপরিচালক সুস্মিতা পাইক ও উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহমুদ সাইদুল কবীর জানান, ‘ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠিত হয়েছে। বৃহম্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

বুধবার সকাল ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, শিশু দু’টিকে প্রথমে বাসায় ডেকে আনা হয়। এরপর ঘরে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এতে শিশু দু’টি ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করলে প্রথমে দোলাকে গলা চেপে হত্যা করে আজিজুল। পরে নুশরাতের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মোস্তফা।

তিনি জানান, হত্যার পর আজিজুল পালিয়ে যায় এবং মোস্তফা দুই শিশুর মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে বাসায় থাকে। ঘটনার সময় মোস্তফার স্ত্রী গার্মেন্ট কর্মী আঁখি ছিলেন কারখানায়। দুই ঘাতক এই সুযোগে ইয়াবা সেবন করে জোরে গান বাজিয়ে মেয়ে দুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যায় আঁখি বাসায় ফিরে স্বামীর ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ দেখে সন্দিহান হয়ে ওঠেন। আঁখি প্রতিবেশীর বাসায় গেলে ওই ফাঁকে মোস্তফা বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ওই বাসার খাটের নিচ থেকে মেয়ে দুটির লাশ থেকে উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান আসামি গোলাম মোস্তফাকে যাত্রাবাড়ি থানার ভাঙ্গা প্রেস এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মোস্তফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ি অপর আসামি আজিজুলকে ডেমরা কাউন্সিলের মোল্লাব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহুত গামছা ও শিশুদের ব্যবহৃত দুই জোড়া স্যান্ডেল, সাউন্ডবক্স ও শিশুদের প্রলোভন দেখানোর জন্য ব্যবহুত লিপিস্টিক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফরিদ উদ্দিন আরও জানান, শিশু দু’টি নার্সারিতে পড়ত। স্কুল শেষে এলাকায় তারা খেলা করছিল। মোস্তফা সিরামিকের কারখানায় ও আজিজুল একটি বেকারিতে কাজ করত। আসামিরা মাদকাসক্ত এবং স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী। মোস্তফার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি ডাকাতি চেষ্টার মামলাও রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “প্রথমে ধারণা করেছিলাম, এত ছোট বাচ্চাদের মুক্তিপণের জন্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে দুজন বলেছে, ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে তারা নুসরাত আর দোলাকে বাসায় নিয়ে যায়।”

উল্লেখ্য, ৭ জানুয়ারি দুপুর থেকে দুই শিশু নিখোঁজ হয়। মাইকিং করে ও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের খোঁজ মেলেনি। পরে ডেমরা কোনাপাড়া শাহজালাল রোডে রোস্তম আলীর সাত তলা ভবনের নিচ তলায় একটি কক্ষ থেকে ওই দুই শিশুর মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত