সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাবির ফিন্যান্স বিভাগ

শিক্ষকদের অন্তঃকোন্দলে বাড়ছে সেশনজট

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:০৭ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফিন্যান্স বিভাগে শিক্ষকদের মধ্যে ‘অন্তঃকোন্দল ও দ্বন্দ্বে’ সেশনজট বাড়ছে। যথাসময়ে ক্লাস শেষ না করা, উত্তরপত্র মূল্যায়নে গড়িমসি ও ফল প্রকাশে বিলম্বে প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে অতিরিক্ত সময় যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বিভাগে বর্তমানে ছয়টি বর্ষের সাড়ে ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। যাদের সবাই এক বছরের সেশনজটে আটকে আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে দুটি গ্রুপ রয়েছে। এক গ্রুপ থেকে কোনো শিক্ষক পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হলে অন্য গ্রুপের শিক্ষকরা উত্তরপত্র মূল্যায়নে দেরি করেন। পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ককে বিপদে ফেলার জন্য তারা এ কাজ করেন। দুই পক্ষের এমন দ্বন্দ্বে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’ চতুর্থ বর্ষের আরেক ছাত্রী বলেন, ‘আমাদের সেশনের অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেখানে চতুর্থ বর্ষ শেষ করে মাস্টার্সে রয়েছে, সেখানে আমরা চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষাও দিতে পারিনি। এতে করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকরিতে আবেদন করতে পারছি না।’ এমবিএ’র কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমেই বাড়ছে। তারা মনে করেন, শিক্ষকদের সদিচ্ছা থাকলে দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। জানতে চাইলে ফিন্যান্সের শিক্ষক ও রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বিভাগের একজন শিক্ষক হিসেবে, এটি সত্যিই লজ্জাজনক। সেশনজট কোনোভাবে কাম্য নয়।’ তবে বিভাগের সব শিক্ষক সেশনজট নিরসনে চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

শিক্ষকদের গড়িমসির কথা স্বীকার করেছেন বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক রুস্তম আলী আহমেদও। তিনি বলেন, ‘এ জট এক দিনে তৈরি হয়নি। অনেক দিন ধরে এটা চলে আসছে। আমাদের বিভাগে বাস্তবিক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান একটি সমস্যা হচ্ছে শিক্ষকদের সময়মতো উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া আমাদের বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু থাকায় বছরে দুইবার পরীক্ষা নিতে হয়। সেজন্য ঠিকমতো খাতা দেখা ও রেজাল্ট তৈরি করা আমাদের জন্য একটু কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ শিক্ষকদের সহযোগিতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকলে এ সমস্যা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত