পাট ও বস্ত্র বিশেষজ্ঞ গড়ে তোলার উদ্যোগ

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:১৪ এএম

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বস্ত্রশিল্প খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।  রপ্তানিতে বস্ত্র খাতের অবদান প্রায় ৮৪ শতাংশ। কিন্তু এই খাতে রয়েছে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানব সম্পদের অভাব। শ্রমিক থাকলেও নেই কোনো বিশেষজ্ঞ। এই অবস্থায় প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল তথা টেক্সটাইল টেকনোলজিস্ট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

দক্ষ মানব সম্পদ গড়তে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে শিক্ষাব্যবস্থার ধরন পাল্টাতে হবে। আবার ক্ষমতায় এলে চাহিদাভিত্তিক যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বর্তমান সরকার। এখন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের সময় এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা ।

এ পরামর্শের সঙ্গে একমত পোষণ করেন তখনকার পরিকল্পনামন্ত্রী ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, শিক্ষার আধুনিকায়নে জোর দেবে সরকার। এ জন্য বছরের প্রথম থেকেই উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে। নতুন নতুন ইনস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রথম সভায় এ সংক্রান্ত এক প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান ৭টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ৬টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন হবে। এসব ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে পাট ও বস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে পড়ানো হবে। 

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতি বছর ১ হাজার ৮৭২ শিক্ষার্থী এসএসসি ভোকেশনাল পাস করে বের হবে। এই শিক্ষার্থীরা পাট ও বস্ত্র বিষয়ে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলে পরিণত হবে বলে মনে করছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। ফলে বস্ত্র ও পাটশিল্প খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের বস্ত্র প্রযুক্তিবিদ তেরি, গুণগত ও মানসম্মত এবং যথাযথ মূল্যে বস্ত্রশিল্প পণ্য তৈরি সম্ভব হবে।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩৫৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২১ সালের জুন নাগাদ বাস্তবায়নের  কাজ শেষ হবে।

প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও গৌরীপুর উপজেলা, জামালপুরের বকশিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও সদর, বরগুনা সদর এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট।

নওগাঁর পত্নিতলা, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, নোয়াখালীর কবিরহাট, জামালপুর সদর, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, প্রকল্পটির কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই হয়নি। কিন্তু সরকার বস্ত্র খাতে প্রায় দেড় লাখ প্রযুক্তিবিদ তৈরি করতে চায়। এরই অংশ হিসেবে এটি সরকারি বস্ত্র খাতে দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। একনেকে এটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে ২১ দশমিক ৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ২৬ লাখ ৩৪ হাজার ঘন মিটার ভূমি উন্নয়ন, ২টি ৫ তলা অ্যাকাডেমিক কাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ভবন নির্মাণে। এর বাইরে এ অর্থ দিয়ে ৯ হাজার ৯৯ বর্গমিটার ইন্টারনাল এবং অ্যাপ্রোচ রোড, ৪ হাজার ৫১৮ বর্গমিটার ড্রেইন ও আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ, বইপত্র ও সাময়িকী এবং আসবাবপত্র কেনা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত