বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি হবে ৭%

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:২২ এএম

চলতি অর্থবছর বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে

বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, গত অর্থবছর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশ ছিল বাংলাদেশ। তবে আগামী অর্থবছর প্রবৃদ্ধি কমে ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। পরের দুই অর্থবছর বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার আরও কমবে বলে মনে করছে তারা। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। 

গত অর্থবছর বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা করছে সরকার। নতুন সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে আ হ ম মুস্তাফা কামাল আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী অর্থবছর বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল রেমিটেন্স। তবে খাদ্য ও শিল্প যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়ায় লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা যায়। সংস্থাটি বলছে, ২০২০ ও ২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে নামবে। ওই সময় বেসরকারি খাত ও অবকাঠামোগত প্রকল্পে ব্যয় বাড়বে। এছাড়া স্থানীয় চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ আমদানি করতে হবে, যা রপ্তানি আয়ের তুলনায় অনেক বেশি হবে। এ কারণেই ওই দুই বছর জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। 

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছর ভারত ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, চীন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, পাকিস্তান ৫ দশমিক ৮ শতাংশ ও শ্রীলঙ্কা ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি  অর্জন করেছে। সংস্থাটি বলেছে, চলতি অর্থবছরসহ আগামী দুই বছরে ভারত অনেকটা এগিয়ে ডাবে। ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে।

অন্যদিকে, এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনের প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছর আগের বছরের তুলনায় কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণেই এই শ্লথগতি বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। চলতি অর্থবছর চীনের প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৬ দশমিক ২ শতাংশে নামবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আগামী বছরও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির প্রবৃদ্ধি একই হারে হবে বলে জানিয়েছে তারা। ২০১৯ সালে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।

আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দর কমবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। ভারত, পাকিস্তান ও ইয়েমেনের মতো শীর্ষ চাল রপ্তানিকারকরা নতুন নীতি প্রণয়ন করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে চাল কিনতে হবে এসব দেশের নাগরিকদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত