যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউন নিরসনে ডেমোক্র্যাট নেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে ২০ দিনে গড়ালো দেশটির এ অচলাবস্থা।
বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকান সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে অর্থছাড়ের জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাব নাকচ করে দেন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চউক শুমার এবং ন্যান্সি পেলোসি। ফলে সরকারি অর্থ বরাদ্দেও রাজি হননি প্রেসিডেন্ট।
এ ডেমোক্র্যাট দুই নেতার সঙ্গে সমঝোতা বৈঠককে ‘পুরো সময়টাই নষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতাদের বিদায় জানালাম।’
২১ ডিসেম্বর, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলার বাজেট অনুমোদনে ব্যর্থ হয়ে সরকারি ব্যয় বরাদ্দ বিলে সই করতে অস্বীকৃতি জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিন মধ্যরাত থেকে শাটডাউন তথা সরকারি সেবা বন্ধের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
চলমান এ শাটডাউনের মুখে ৮ লাখ সরকারি কর্মী প্রথমবারের মতো এ সপ্তাহের বেতন পাবে না। এ অচলাবস্থা নিরসন হওয়া পর্যন্ত বিনা বেতনে কাজ করতে হচ্ছে এসব কর্মীকে।
শাটডাউনের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন স্বরাষ্ট্র, আইন ও কৃষি বিভাগে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেছে। চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ পাচ্ছে না এই বিভাগগুলো।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় পার্কগুলোও এর কবলে পড়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, সীমান্তে টহল, ডাক বিভাগ ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু আছে।
বুধবার রাতে এই সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হওয়া নিয়ে হোয়াইট হাউসের বাইরে দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করেন। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পেলোসি বলেন, ‘ট্রাম্পের কারণে বিপুল পরিমাণ সরকারি কর্মীকে বিনা বেতনে থাকতে হচ্ছে।’ একে তিনি ‘কোলাটেরাল ড্যামেজ’ বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে মনে হল অনুভূতিহীন। তিনি মনে করছেন, সরকারি কর্মীরা তার বাবার কাছে অর্থ চাচ্ছে। অথচ যেটা তারা চাইছে না।’
পেলোসি আরও জানান, ট্রাম্প তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, ‘দেয়াল বানাতে আপনারা কি রাজি আছেন কিনা?’ তখন এ ডেমোক্র্যাট নেতা জবাব দেন, ‘না’।
পেলোসির এ জবাব শুনেই ট্রাম্প উঠে দাঁড়ান এবং বলেন, ‘তাহলে তো আলোচনার কিছু নেই’। এমনটা বলে বের হয়ে যান তিনি।
