আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ৩০ কারখানা বন্ধ ঘোষণা

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৫২ এএম

সদ্য ঘোষিত মজুরিকাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সাভার-আশুলিয়ায় টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়ার বেরন ও কাঠগড়া এলাকার কারখানার শ্রমিকেরা বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়ক ও বিশমাইল-জিরাবো সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে ও অগ্নিসংযোগ করে রাখে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পরিচালক সানা শামিনুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আশুলিয়ার কাঠগড়া ও জামগড়া এলাকায় শ্রমিকেরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৩০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা ও শ্রমিকেরা জানান, সকালে বেরন এলাকার শারমিন গ্রুপের এএম ডিজাইন কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে সড়কে বেরিয়ে আসে। তাদের সঙ্গে স্থানীয় ডিজাইনার জিনস, উইন্ডি গ্রুপ, স্টারলিংক ও হলিউড ফ্যাশনসহ বিভিন্ন কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ এতে বাধা দেয়। পরে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় সংঘর্ষে শ্রমিক ও পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। পরে বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রায় এক ঘণ্টা পর টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

বেরন এলাকার চায়ের দোকানি বাচ্চু মিয়া জানায়, সকালে ডিজাইনার জিনস কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তা অবরোধ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ গ্যাস ছেড়ে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় অগ্নিসংযোগ করে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে পোশাক শ্রমিকেরা। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপুর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেন।

শাহাদাত হোসেন নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘কারও ইন্ধনে নয়, ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই আমরা আন্দোলন করছি। আমরা পেটনীতিতে বিশ্বাস করি, কোনো রাজনীতি বুঝি না। তাই আমাদের যৌক্তিক দাবিকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে হেলায় উড়িয়ে দেবেন না।’

মকবুল নামে অপর শ্রমিক বলেন, ‘সরকার যদি গেজেট করে বেতন বৃদ্ধি করে থাকে, তাহলে একেক কারখানায় বেতন একেক রকম কেন? যেসব কারখানা কর্র্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঠিকভাবে বেতন দিচ্ছে সেগুলোতে তো কোনো আন্দোলন হচ্ছে না।

শেওড়াপাড়া ও কালশীতে বিক্ষোভ 

বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনের মতো উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণ খান, কালশী ও শেওড়াপাড়াতেও শ্রমিকরা সড়কে নামে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালশীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শুরু করে শ্রমিকেরা। বেলা ১১টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইমরানুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকালে মিরপুর কালশী এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়েছিল। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে পুলিশের সহায়তায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

অপর দিকে শেওড়াপাড়া ও  রোকেয়া সরণির একটি কারখানার শ্রমিকেরা সকালে রাস্তায় নেমে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করে। তারা আশপাশের কারখানার শ্রমিকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানায়। ওই সব কারখানার শ্রমিকেরা না নামায় তারা তারা গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ তাদের রাস্তার একপাশে সরিয়ে নেয়। দুপুর ২টা পর্যন্ত শ্রমিকেরা অবরোধ অব্যাহত রাখে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সৈয়দ মামুন মোস্তফা দেশ রূপান্তরকে বলেন,  একটি কারখানায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিকেরা কাজে না গিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করে। তারা কারখানাগুলোতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশ তাদের মৃদু লাঠিপেটা করে এবং বুজিয়ে সড়ক থেকে তুলে দেয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা সড়কের এক পাশে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে এবং বেলা ২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত