বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পর্দা উঠল ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:০২ এএম

নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ স্লোগান  নিয়ে পর্দা উঠল সপ্তদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করেন সদ্য বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘এই উৎসব দেশীয় চলচ্চিত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২১৮টি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ৭২টি দেশের সংস্কৃতি-সভ্যতা সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিচ্ছে উৎসব।’

উদ্বোধনী আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সিনেমার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মানসম্পন্ন সিনেমার এই আদান-প্রদানের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের সিনেমা শিল্প এগিয়ে যাবে। ঢাকায় বসে ৭২টি দেশের সিনেমা দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে এই উৎসব।’

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক বলেন, ‘এই উৎসবের সিনেমাগুলোকে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সেন্সর ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি সেন্সর ফি-ও মওকুফ করেছি। যেন আমাদের দর্শক ভালো সিনেমা দেখতে পারে। আমাদের রুচি গঠনে ভালো সিনেমা দেখা জরুরি।’ 

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উৎসবের কার্যনির্বাহী সদস্য ম. হামিদ।  তিনি বলেন, ‘এই উৎসবটি শুরুতে দ্বিবার্ষিক ছিল। বিগত তিন বছর ধরে এটি বার্ষিক উৎসব হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এটা আমাদের সিনেমাপ্রেমী মানুষের জন্য আনন্দের সংবাদ।’ স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল। 

উদ্বোধনী আলোচনার আগে ভাবনা নৃত্যদল পরিবেশন করে উদ্বোধনী নৃত্য। নির্দেশনায় ছিলেন শামীমা হোসেন প্রেমা। প্রথমেই তারা পরিবেশন করে রাইবেশে নৃত্য। এরপর ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলাকে উপজীব্য করে ‘কোন গাঙে আইলো পানি, মন হইলো উতলা গো’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে তারা। দলটির শেষ পরিবেশনা ছিল ‘সোহাগ চাঁদ বদনি ধ্বনি নাচো তো দেখি’ গানের সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্য। 

উদ্বোধনী আয়োজনের পর দেখানো হয় চলচ্চিত্র ‘দ্য গেস্ট’। তুরস্ক ও জর্ডানের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন তুরস্কের নির্মাতা আন্দাজ হাজানেদারগলু।  ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, এবারের উৎসবের ২১৮টি চলচ্চিত্রের মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য (৭০ মিনিটের বেশি) চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১২২টি, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের সংখ্যা ৯৬টি।  সিনেমাগুলো প্রদর্শিত হবে এশিয়ান প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেনস ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম বিভাগে।  উৎসবের ভেন্যু হিসেবে রয়েছে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন ও যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমা হল।

উৎসবের অংশ হিসেবে ১১-১২ জানুয়ারি চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা বিষয়ক ‘পঞ্চম আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস্ কনফারেন্স’ আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।  উদ্বোধন করবেন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত