না.গঞ্জে পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষ, পোশাক শ্রমিক নিহত

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:০৭ এএম

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের ঘটনায় একটি পক্ষের মামলার আসামি গ্রেপ্তারে অভিযানে গেলে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার রাতে বন্দরের মদনপুর এলাকায় এ সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয়েছে অন্তত অর্ধশত। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। নিহত আশিকুর রহমান (২৫) মদনপুরের প্যানডেক্স নামে গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তিনি লালমনিরহাটের শহীদুল ইসলামের ছেলে; উপজেলার চানপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় সপরিবারে থাকতেন। তার স্বজনরা বলছেন, সন্ধ্যায় বাজার করতে গিয়ে সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন আশিকুর। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই নেতা আমির হোসেন ও খলিলুর রহমান খলিল মেম্বারের সমর্থকদের মধ্যে গত ১৮ নভেম্বরের এক সংঘর্ষের ঘটনায় বন্দর থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। শনিবার রাতে একটি মামলার আসামি খলিলুরের সমর্থক দিপু ও সুজন নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে তাদের সমর্থকরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, তখন দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আশিকুর ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাবু নামে গুলিবিদ্ধ আরেকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার বাইতোলা গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে।

বন্দর থানার এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, সংঘর্ষে কনস্টেবল দেবাশীষ, মোহনসহ চার পুলিশ সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় আরো ৪০-৪৫ জন আহত হয়েছে। ওই সময় ভাঙচুর করা হয় পুলিশের দুটি গাড়ি; বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ঘটনায় পরে পুলিশ ড্রিমল্যান্ড নামের একটি রেস্তোরাঁ থেকে নূর নবী ও রিফাত নামের দুই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ওসি আজহারুল বলেন, ওই ঘটনায় আহত বন্দর থানার এসআই মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে রবিবার বিকেলে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনা তদন্তে গঠিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় পুলিশের ওপর হামলা করে গাড়ি ভাঙচুর ও শর্টগান ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত