টিআইবির প্রতিবেদন মনগড়া পূর্বনির্ধারিত : ইসি

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:২৮ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশন বলেছে, এই প্রতিবেদন পূর্বনির্ধারিত ও মনগড়া। ভোটে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে টিআইবির ধানমন্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম এ প্রতিক্রিয়া জানান।

নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্য থেকে দৈবচয়নের (লটারি) ভিত্তিতে ৫০টি বেছে নেয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৪৭টি আসনে কোনো না কোনো অনিয়মের অভিযোগ টিআইবির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। পর্যবেক্ষণে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ইসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টিআইবি যে প্রতিবেদনটিকে গবেষণা বলে দাবি করছে, তা কোনো গবেষণা নয়, প্রতিবেদন মাত্র। কেননা, গবেষণা করতে যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়, তা এখানে প্রয়োগ করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণরূপে মনগড়া প্রতিবেদন। এ ছাড়া বলা হয়েছে, এটা তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন। তার অর্থই হচ্ছে এই প্রতিবেদন পূর্বনির্ধারিত প্রতিবেদন।’

রফিকুল বলেন, ‘টিআইবি বলেছে গবেষণাটি গুণবাচক, মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার ও পর্যবেক্ষণ, ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাবাচক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তথ্য নেওয়া হয়েছে পরোক্ষ উৎস থেকে। এভাবে কোনো গবেষণা হয়? ভোটের কারচুপির তথ্য নিলে অবশ্যই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে বা অথবা লিখিত কোনো ডকুমেন্ট থেকে তথ্য নিতে হবে, এসব করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘কোন সোর্স থেকে কী প্রক্রিয়ায় তথ্য নিয়ে তারা বলছে, ভোটের আগের রাতে সিল মারা হয়েছে এসব কিছু উল্লেখ নেই। কাজেই এটা কোনো গবেষণা হয়নি। বাছাইকৃত প্রার্থীদের কাছ থেকে তারা তথ্য নিয়েছে বলা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীদের কাছ থেকে তথ্য নিলেও গবেষণা প্রতিবেদন এক রকম হবে। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কাছ নিলে তো আরেক রকম হবে। টিআইবির গবেষণায় এগুলো স্পষ্ট নয়।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই প্রতিবেদন আমলে নিচ্ছি না। যদি গবেষণা হতো তবে আমলে নিতে পারতাম।’

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট মোট আসন পেয়েছে ২৮৮টি। অন্যদিকে বিএনপি ছয়টি ও গণফোরাম দুটি আসন পেয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মোট আটটি আসন পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনজন প্রার্থী।

বিএনপি এই নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ এনে ফল বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোটগ্রহণের জন্য ভোটের দিনই দাবি তুলেছে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা ৩১ ডিসেম্বর ভোটের পরের দিনই গণমাধ্যমকে বলেছেন, ফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচন করার সুযোগ নেই।

টিআইবির প্রতিবেদনে অনিয়মের ধরনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৫০টি আসনের মধ্যে ৪১টি আসনে জাল ভোট; ৪২টি আসনে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা; ৩৩টি আসনে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল; ২১টি আসনে আগ্রহী ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো বা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা; ৩০টি আসনে বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল মেরে জাল ভোট; ২৬টি আসনে ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা; ২০টিতে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা; ২৯টিতে প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া ইত্যাদি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত