আহমদ শফীর বক্তব্য নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নয় বরং নারীদের ইজ্জত-আবরু ও নিরাপত্তার স্বার্থে বলে মনে করে বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলন। তারা মনে করে- ‘কিছু কুচক্রী মহল আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্য অপব্যাখ্যা করে সমালোচনা করেছেন। অপব্যাখ্যাকারীদের শাস্তির দাবি করেছে বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলন’।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলন মানববন্ধন করে এ দাবি জানায়। মানববন্ধনে আহমদ শফীর সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে ড. কামাল ও মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি এর আগে করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রশিদ, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, হাসানুল হক ইনু, আফরোজা হক রিনা ও রৌশন আরার মন্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়।
মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জনসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, আহমদ শফী সাহেব গত ১১ জানুয়ারি হাটহাজারী মাদ্রাসার মাহফিল বলেন মেয়েদেরকে কলেজ ভার্সিটিতে পড়তে হলে পর্দার সাথে পড়াবেন। নতুবা নারীদের জন্য স্বল্প শিক্ষাই যথেষ্ট। এই বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে কিছু কুচক্রী মহল তার সমালোচনা করেছেন। আহমদ শফির বক্তব্যের অপব্যাখ্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
ড. কামাল ও মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আহমদ শফী নারীদের ইজ্জত রক্ষার কথা বলার কারণে ড. কামালরা মামলা করতে চান। বাংলাদেশের শুধু ২০১৮ সালে ৯৪২ জন নারী ধর্ষিত হয়েছে, তখন ড. কামাল ইনুদের নারী দরদ ও মামলা কোথায় থাকে।
সম্প্রতি কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আহমদ শফীর বক্তব্য শুনে মির্জা ফখরুল হতবাক। কিন্তু যখন শিক্ষকের হাতে ছাত্রী ধর্ষিত হয়, স্কুল কলেজের ক্লাস রুমগুলোতে যখন ছাত্রের হাতে ছাত্রী ধর্ষিত হয়, যাত্রাপথে বাস-ট্রেন ওপার গুলোতে নারীরা ধর্ষিত হয় তখন তারা হতবাক না হয়ে ইনজয় করেন।
তিনি আরও বলেন, শফী কয়েক যুগ ধরে হাদিস পড়াচ্ছেন। শেষ বয়সে এসে আপনাদের নিকট থেকে তার হাদিস শিক্ষা গ্রহণ করা লাগবে না। কিছু না পেয়ে আপনার এখন হাদিস খোঁজেন। আপনাদের এই হাদিস ও সংবিধান কোথায় ছিল যখন সুবর্ণচরে ভোট দেওয়ার কারণে দশজন মিলে তিন বাচ্চার মা কে ধর্ষণ করে।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- মহাসচিব মাওলানা ইয়ামিন হুসাইন আজমি, মুফতি আশিক জোবায়ের, মৌলানা আবুল কাশেম কাসেমী, আলহাজ মো. আজম খান, মাওলানা হোসাইন আকন্দ প্রমুখ।
