জ্যেষ্ঠ নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ তারেক রহমান

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:৪২ এএম

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির ‘ভরাডুবির’ জন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের পদত্যাগ চেয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, নির্বাচন পরিচালনাসহ সব দায়িত্ব জ্যেষ্ঠ নেতাদের দিয়েছিলেন লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। এখন তাদের উচিত দল থেকে পদত্যাগ করা। তারেক রহমানও তাদের ওপর ক্ষুব্ধ। তৃণমূল নেতাদের এমন প্রত্যাশার জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করতে পারেন। এটি তাদের ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতির কথা। নির্বাচনে দলের ফলাফলে তারা কষ্ট পেয়েছেন, তাই এমন কথা বলছেন। নির্বাচনে বিএনপির পরাজয় হয়নি, হয়েছে আওয়ামী লীগের।’ 

বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারেক রহমান নির্বাচন পরিচালনার ভার দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। এখন দলের ভরাডুবির দায় নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিজ উদ্যোগে দল থেকে পদত্যাগ করা উচিত। আবার দরকার হলে পদত্যাগ করার কথা কেন বলেন ওনারা? ছাত্রদলের আরেক সাবেক নেতা জাবেদ হাসান স্বাধীন দেশ রূপান্তরকে ক্ষোভের সুরে বলেন, এখনো ওনারা সরে যাননি কেন? মৃত্যু না হলে কেউ দল ছাড়তে চান না কেন? তারা নিজ দায়িত্বে সরে দাঁড়াক।

গত ১৬ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলনেও ব্যর্থ, নির্বাচনেও ব্যর্থ। ব্যর্থতার দায় নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগ করা উচিত।’ এর এক দিন পর ১৮ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কাউন্সিলের মাধ্যমে দল পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের নেতৃত্বে আনতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ, তাদের পদ ছেড়ে দিতে হবে তরুণদের জন্য। তাহলেই বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে। একই অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দরকার হলে আমাদের যাদের বয়স হয়ে গেছে আমরা সরে যাব। তারপরও এই দলটাকে তো রাখতে হবে। এর একমাত্র উপায় হলো দলকে পুনর্গঠন করা। কাজটি কয়েক মাসের মধ্যেই করতে হবে। তাহলেই আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব। স্থায়ী কমিটির এই দুই সদস্যের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার ধারণা তারা মূলত মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলেছেন। কারণ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই এমন অজুহাতে মওদুদ আহমদসহ বেশ কয়েকজন নেতা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে বলেছিলেন মহাসচিবকে। মহাসচিব জবাবে তাদের বলেছিলেন নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে কথা বলবেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে মহাসচিবের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

মোতাহার হোসেন বলেন, মহাসচিবের ওপর শুধু স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ক্ষুব্ধ এমন নয়। লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ক্ষুব্ধ। দলে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে দূরত্ব তৈরি হয় মহাসচিবের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের। তারেক রহমান তার নির্বাচনী এলাকায় তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান শাহ শহীদ সারোয়ারকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি তারেক রহমান। 

মোতাহার হোসেনের এমন অভিযোগের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটি তার ব্যক্তিগত মত। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ছাড়া আমি কোনো কাজ করিনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত