যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ ও স্থানীয় বাজারে চাহিদা মন্দায় গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে চীনে প্রবৃদ্ধি ২৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার (এনবিএস) বরাতে রয়টার্স গতকাল জানিয়েছে, ২০১৮ সালে দেশটিতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিশে^র দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতির দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম শিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চীনে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রবৃদ্ধি হয় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। চীনের প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি বিশ^ অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি কোনো খবর নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশটি প্রবৃদ্ধি কম বলে প্রচার করছে দেশটি। কিন্তু বিশ^ অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এই শ্লথ প্রবৃদ্ধি উদ্বেগের বিষয়। কারণ চীনের অর্থনীতি মন্থর মানেই বিশে^র বাকি অংশে প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি। বিশ^ অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশ চীনা অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল।
টোকিওর গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডাইয়া ইনস্টিটিউট অব রিসার্চের প্রধান নাওতো সাইতো রয়টার্সকে বলেন, প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে ব্যবস্থা নিতে পারে চীন সরকার। তারা অবকাঠামো ব্যয় বৃদ্ধি ও জামানতে আবশ্যিক শর্ত কমাতে পারে।
বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনা প্রতিনিধিদের আলোচনা চলমান রয়েছে। দুই দেশ বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছলেও তা চীন বা তার রপ্তানিকারকদের জন্য সুবিধাজনক হবে না বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
এদিকে চীনকে চলতি বছর অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে জাপান। ১৯৭৮ সালে শান্তি ও বন্ধুত্ব সংক্রান্ত চুক্তি হয় দুই দেশের মধ্যে। এই চুক্তির আওতায় তখন থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত- ৪০ বছরে চীনের উন্নয়নে ৩ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন অনুদান দিয়েছে জাপান।
